ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্যও কাজ করতে হবে: আজহার ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ আদানির ইউনিট, দেশে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করলে বিব্রত বোধ করি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভ: ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ মিটার রিডার, পরে উদ্ধার হুট করে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, আরও বাড়ল লোডশেডিং চুরির অভিযোগে তিনজনকে হাত-পা বেঁধে পিটুনি, চোখে ঢালা হলো চুনের পানি বাক্‌স্বাধীনতা যেন বাক্ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে

চট্টগ্রামে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা, ৮০ শতাংশ ভবন ধসে তিন লাখ প্রাণহানির ঝুঁকি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬০৮ বার পড়া হয়েছে

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং তাতে প্রাণহানির সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে, চট্টগ্রাম অঞ্চলটি তিনটি প্রধান টেকটনিক প্লেট—বার্মিজ-ইন্ডিয়ান, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ান, এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার (ইউরেশিয়ান) প্লেটের অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় এটি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চট্টগ্রাম নগরীর ভূগর্ভে একটি সুপ্ত মাইনর টেকটনিক প্লেটও রয়েছে।

এই টেকটনিক প্লেটগুলোর অস্বাভাবিক ও ধারাবাহিক গতিশীলতার কারণে, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ২১২ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো নগরীতে নিয়ম-নীতি না মেনে গড়ে ওঠা বিপুল সংখ্যক বহুতল ভবন, যা মাত্র ৬০ বর্গমাইলের পুরো নগরীকেই ভূকম্পনের উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলেছে। এদিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, চট্টগ্রামের প্রায় ৭৫ শতাংশ পুরোনো ভবন (৫০-১০০ বছর) ঝুঁকিপূর্ণ, এবং নতুন অনেক ভবনও ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নকশা ছাড়া নির্মিত হচ্ছে। তিনি বড় ভূমিকম্পে আড়াই থেকে তিন লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করেছেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর তথ্যমতে, নগরীতে বর্তমানে ৪ লাখ ১ হাজার ৭২১টি বহুতল ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ১৩ হাজার ৪৮০টি ৬ থেকে ১০ তলা এবং ৪৮৪টি ১০ তলার বেশি। অনেক ভবনেই বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী ক্ষয়প্রবণ, এবং অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ভবনগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। সংকীর্ণ সড়ক উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৪ বছরে দেশে ৩৭ বার ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হলেও, শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে বড় বিপদের বাস্তবতা স্পষ্ট করেছে।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম ভবনগুলোকে রেট্রোফিটিং করে ঝুঁকিমুক্ত করার বা টেকনিক্যালি সম্ভব না হলে ভেঙে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সংকীর্ণ সড়ক প্রশস্ত করা এবং নিয়মিত সতর্কতামূলক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটতে পারে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকলে তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। অতীতে ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ মাত্রার বড় ভূকম্পন হয়েছিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্যও কাজ করতে হবে: আজহার

চট্টগ্রামে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা, ৮০ শতাংশ ভবন ধসে তিন লাখ প্রাণহানির ঝুঁকি

আপডেট সময় ০২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং তাতে প্রাণহানির সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে, চট্টগ্রাম অঞ্চলটি তিনটি প্রধান টেকটনিক প্লেট—বার্মিজ-ইন্ডিয়ান, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ান, এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার (ইউরেশিয়ান) প্লেটের অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় এটি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চট্টগ্রাম নগরীর ভূগর্ভে একটি সুপ্ত মাইনর টেকটনিক প্লেটও রয়েছে।

এই টেকটনিক প্লেটগুলোর অস্বাভাবিক ও ধারাবাহিক গতিশীলতার কারণে, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ২১২ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো নগরীতে নিয়ম-নীতি না মেনে গড়ে ওঠা বিপুল সংখ্যক বহুতল ভবন, যা মাত্র ৬০ বর্গমাইলের পুরো নগরীকেই ভূকম্পনের উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলেছে। এদিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, চট্টগ্রামের প্রায় ৭৫ শতাংশ পুরোনো ভবন (৫০-১০০ বছর) ঝুঁকিপূর্ণ, এবং নতুন অনেক ভবনও ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নকশা ছাড়া নির্মিত হচ্ছে। তিনি বড় ভূমিকম্পে আড়াই থেকে তিন লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করেছেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর তথ্যমতে, নগরীতে বর্তমানে ৪ লাখ ১ হাজার ৭২১টি বহুতল ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ১৩ হাজার ৪৮০টি ৬ থেকে ১০ তলা এবং ৪৮৪টি ১০ তলার বেশি। অনেক ভবনেই বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী ক্ষয়প্রবণ, এবং অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ভবনগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। সংকীর্ণ সড়ক উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৪ বছরে দেশে ৩৭ বার ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হলেও, শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে বড় বিপদের বাস্তবতা স্পষ্ট করেছে।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম ভবনগুলোকে রেট্রোফিটিং করে ঝুঁকিমুক্ত করার বা টেকনিক্যালি সম্ভব না হলে ভেঙে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সংকীর্ণ সড়ক প্রশস্ত করা এবং নিয়মিত সতর্কতামূলক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটতে পারে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকলে তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। অতীতে ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ মাত্রার বড় ভূকম্পন হয়েছিল।