ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

হাদির পাশে দাঁড়ানোর মতো এই বাংলাদেশে কেউ নেই: রাবি উপাচার্য

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২২০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেছেন, মাত্র ৩২ বছর বয়সে হাদি যে ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তা সমসাময়িক বাংলাদেশে বিরল। তিনি বলেন, “হাদির পাশে দাঁড়ানোর মতো আজকের বাংলাদেশে কেউ নেই। সম্ভবত এই দেশের ইতিহাসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে, যিনি সমাজের সব স্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন।”
সোমবার বিকেলে রাকসুর আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াইয়ে পথপ্রদর্শক একজন হাদি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সহজ কোনো বিষয় নয়। “ইনসাফ মানে শুধু নিজের লোকের জন্য কাজ করা নয়; ইনসাফ মানে মানুষের অধিকার রক্ষা করা। আর এই অধিকার রক্ষা করতে গেলে অনেক সময় নিজের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।”
দেশকে হিংসা ও বিদ্বেষ দিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “যারা নিজেদের হাদির অনুসারী বলে দাবি করে, তাদের অনেকের মধ্যেই ইনসাফের চর্চা নেই। দখলদারিত্ব ও ভাগবাটোয়ারার রাজনীতির মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ। আমরা হাদির জন্য দোয়া করি এবং চাই—তার কিছু গুণাবলি যেন বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হয়।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা হাদির দর্শন প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইনসাফভিত্তিক সংগ্রাম গড়ে তুলতেই ছিল তার মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, প্রচলিত সামাজিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে হাদি একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখতেন। “আমরা হাদিকে শুধু স্মরণ করব না, বরং যুগ যুগান্তরে তাকে অনুস্মরণ করব। দেশ নিয়ে তার ভাবনা ও ভালোবাসা ছিল অসাধারণ। অল্প বয়সেই তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গভীর উপলব্ধি অর্জন করেছিলেন। ইতিহাস বিষয়ে তার জ্ঞান অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদের চেয়েও বিস্তৃত ছিল।”
সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই দেশে যদি ভারতীয় আধিপত্যবাদ কায়েমের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা নতুন করে হাদি হয়ে উঠব।”
তিনি আরও বলেন, “যারা ভয় দেখিয়ে শাসন করতে চায়, যারা ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখে—আমরা ইনশাআল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন মজুমদার এবং ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ বুঝতে পেরেছে, ক্ষতিটা ওদেরই হয়েছে: দিলীপ ঘোষ

হাদির পাশে দাঁড়ানোর মতো এই বাংলাদেশে কেউ নেই: রাবি উপাচার্য

আপডেট সময় ০৮:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেছেন, মাত্র ৩২ বছর বয়সে হাদি যে ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তা সমসাময়িক বাংলাদেশে বিরল। তিনি বলেন, “হাদির পাশে দাঁড়ানোর মতো আজকের বাংলাদেশে কেউ নেই। সম্ভবত এই দেশের ইতিহাসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে, যিনি সমাজের সব স্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন।”
সোমবার বিকেলে রাকসুর আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াইয়ে পথপ্রদর্শক একজন হাদি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সহজ কোনো বিষয় নয়। “ইনসাফ মানে শুধু নিজের লোকের জন্য কাজ করা নয়; ইনসাফ মানে মানুষের অধিকার রক্ষা করা। আর এই অধিকার রক্ষা করতে গেলে অনেক সময় নিজের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।”
দেশকে হিংসা ও বিদ্বেষ দিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “যারা নিজেদের হাদির অনুসারী বলে দাবি করে, তাদের অনেকের মধ্যেই ইনসাফের চর্চা নেই। দখলদারিত্ব ও ভাগবাটোয়ারার রাজনীতির মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ। আমরা হাদির জন্য দোয়া করি এবং চাই—তার কিছু গুণাবলি যেন বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হয়।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা হাদির দর্শন প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইনসাফভিত্তিক সংগ্রাম গড়ে তুলতেই ছিল তার মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, প্রচলিত সামাজিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে হাদি একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখতেন। “আমরা হাদিকে শুধু স্মরণ করব না, বরং যুগ যুগান্তরে তাকে অনুস্মরণ করব। দেশ নিয়ে তার ভাবনা ও ভালোবাসা ছিল অসাধারণ। অল্প বয়সেই তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গভীর উপলব্ধি অর্জন করেছিলেন। ইতিহাস বিষয়ে তার জ্ঞান অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদের চেয়েও বিস্তৃত ছিল।”
সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই দেশে যদি ভারতীয় আধিপত্যবাদ কায়েমের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা নতুন করে হাদি হয়ে উঠব।”
তিনি আরও বলেন, “যারা ভয় দেখিয়ে শাসন করতে চায়, যারা ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখে—আমরা ইনশাআল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন মজুমদার এবং ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম