ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, মরে গেছে খামারের মুরগি, আমার সব শেষ মেহেন্দিগঞ্জে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে হাতুড়ির আঘাতে যুবক নিহত লংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ এনসিপিকে পাবনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা প্রবাস ফেরত হাবিব ক্যানসার থেকে বাঁচতে চান পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনে হবিগঞ্জে সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি বিএনপির প্রতিপক্ষ আ. লীগ, নিজেদের মধ্যে বিভেদ নয়: খায়রুল কবির খোকন বিশ্বকাপের মাঝেই মারা গেলেন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তরুণ ফুটবলার সাইরেন বাজার আগেই ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, বহু হতাহত ভারতে আয়রন ডোমের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল

ধর্ষণচেষ্টা ঠেকাতে প্রতিবন্ধী যুবকের গলা কাটলেন প্রবাসীর স্ত্রী!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ২৯৩ বার পড়া হয়েছে

একদিকে হত্যার অভিযোগ, অন্যদিকে আত্মরক্ষার দাবি। কুমিল্লার লালমাইয়ে এক প্রতিবন্ধী যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে রহস্য আর চাঞ্চল্য। ঘটনার পর আটক হওয়া এক প্রবাসীর স্ত্রী দাবি করেছেন, ধর্ষণের চেষ্টা থেকে বাঁচতেই তিনি এ কাজ করেছেন। তবে নিহতের পরিবার বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যা।

শনিবার সকাল আটটার দিকে লালমাই উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহারের বয়স ছিল ৩৫ বছর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত এনায়েতুর রহমান এবং প্রবাসী সুমন চৌধুরীর পরিবারের বাড়ি পাশাপাশি। কয়েক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এছাড়া প্রায় এক মাস আগে দেশে ছুটিতে এসে সুমন চৌধুরী তার স্ত্রীর প্রতি এনায়েতুর রহমানের অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কয়েকদিন আগে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান সুমন।

নিহতের মা নেহারা বেগম দাবি করেন, তার ছেলে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই হাতের কবজি ও আঙুল স্বাভাবিকভাবে কাজ করত না। এমন অবস্থায় প্রতিবেশী নারী কৌশলে ঘরে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।

অন্যদিকে, আটক নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, এনায়েতুর রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার জন্যই তিনি এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্ষণচেষ্টা নাকি পূর্বের বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড—লালমাইয়ের এই ঘটনাকে ঘিরে এখন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, মরে গেছে খামারের মুরগি, আমার সব শেষ

ধর্ষণচেষ্টা ঠেকাতে প্রতিবন্ধী যুবকের গলা কাটলেন প্রবাসীর স্ত্রী!

আপডেট সময় ১০:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

একদিকে হত্যার অভিযোগ, অন্যদিকে আত্মরক্ষার দাবি। কুমিল্লার লালমাইয়ে এক প্রতিবন্ধী যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে রহস্য আর চাঞ্চল্য। ঘটনার পর আটক হওয়া এক প্রবাসীর স্ত্রী দাবি করেছেন, ধর্ষণের চেষ্টা থেকে বাঁচতেই তিনি এ কাজ করেছেন। তবে নিহতের পরিবার বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যা।

শনিবার সকাল আটটার দিকে লালমাই উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহারের বয়স ছিল ৩৫ বছর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত এনায়েতুর রহমান এবং প্রবাসী সুমন চৌধুরীর পরিবারের বাড়ি পাশাপাশি। কয়েক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এছাড়া প্রায় এক মাস আগে দেশে ছুটিতে এসে সুমন চৌধুরী তার স্ত্রীর প্রতি এনায়েতুর রহমানের অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কয়েকদিন আগে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান সুমন।

নিহতের মা নেহারা বেগম দাবি করেন, তার ছেলে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই হাতের কবজি ও আঙুল স্বাভাবিকভাবে কাজ করত না। এমন অবস্থায় প্রতিবেশী নারী কৌশলে ঘরে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।

অন্যদিকে, আটক নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, এনায়েতুর রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার জন্যই তিনি এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্ষণচেষ্টা নাকি পূর্বের বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড—লালমাইয়ের এই ঘটনাকে ঘিরে এখন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।