ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার মীরজাফরীয় চরিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, পলাশী দিবসের আলোচনার সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। “পলাশী দিবসের তাৎপর্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচ্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতিহাস বারবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে (History repeats itself) এবং বিভিন্ন সময়ে ঘষেটি বেগম, উমিচাঁদ ও রায়দুর্লভদের মতো চরিত্রের পুনরাবির্ভাব ঘটে, যারা ভেতর থেকে জাতিকে দুর্বল করে বিদেশি বা আধিপত্যবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষা করে।

 

সোমবার (২৩ জুন) দুপুর আড়াইর দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলাশী দিবসের তাৎপর্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার “মীরজাফরীয় চরিত্রের” পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যারা দেশের ভেতর থেকেই জন্ম নিয়ে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং বহিঃশক্তির স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।

 

তিনি আরও বলেন, পলাশীর ট্র্যাজেডি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক ঐতিহাসিক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে ভেতরের বিভাজন, স্বার্থান্বেষী রাজনীতি এবং ক্ষমতার লোভ জাতির পরাজয়ের পথ তৈরি করেছে। তিনি ১৭৭০ সালের মন্বন্তরের প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে বাংলার জনগণ ভয়াবহ মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছিল, যা শাসনব্যবস্থার নিষ্ঠুরতারই প্রমাণ।

 

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ইতিহাসের সেই ধারাবাহিকতা আধুনিক সময়েও বিভিন্ন রূপে বিদ্যমান, যেখানে রাষ্ট্রীয় রাজনীতি ও ক্ষমতার কাঠামোতে দেশীয় স্বার্থের চেয়ে ভিন্ন শক্তির প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তাঁর ভাষায়, সূর্যাস্ত আইন ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো নীতির মাধ্যমে যেভাবে একটি শোষণমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তারই প্রতিচ্ছবি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিলক্ষিত হয়।

 

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, এদেশের সার্বভৌমত্ব কেবল বক্তব্য বা স্লোগানের বিষয় নয়; বরং এটি অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থায় গভীর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের চেতনার মাধ্যমে রক্ষা করতে হয়। তিনি সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ছাত্রশিবির একটি সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে, যারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার মীরজাফরীয় চরিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে

আপডেট সময় ১১:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, পলাশী দিবসের আলোচনার সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। “পলাশী দিবসের তাৎপর্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচ্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতিহাস বারবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে (History repeats itself) এবং বিভিন্ন সময়ে ঘষেটি বেগম, উমিচাঁদ ও রায়দুর্লভদের মতো চরিত্রের পুনরাবির্ভাব ঘটে, যারা ভেতর থেকে জাতিকে দুর্বল করে বিদেশি বা আধিপত্যবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষা করে।

 

সোমবার (২৩ জুন) দুপুর আড়াইর দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলাশী দিবসের তাৎপর্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার “মীরজাফরীয় চরিত্রের” পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যারা দেশের ভেতর থেকেই জন্ম নিয়ে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং বহিঃশক্তির স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।

 

তিনি আরও বলেন, পলাশীর ট্র্যাজেডি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক ঐতিহাসিক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে ভেতরের বিভাজন, স্বার্থান্বেষী রাজনীতি এবং ক্ষমতার লোভ জাতির পরাজয়ের পথ তৈরি করেছে। তিনি ১৭৭০ সালের মন্বন্তরের প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে বাংলার জনগণ ভয়াবহ মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছিল, যা শাসনব্যবস্থার নিষ্ঠুরতারই প্রমাণ।

 

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ইতিহাসের সেই ধারাবাহিকতা আধুনিক সময়েও বিভিন্ন রূপে বিদ্যমান, যেখানে রাষ্ট্রীয় রাজনীতি ও ক্ষমতার কাঠামোতে দেশীয় স্বার্থের চেয়ে ভিন্ন শক্তির প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তাঁর ভাষায়, সূর্যাস্ত আইন ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো নীতির মাধ্যমে যেভাবে একটি শোষণমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তারই প্রতিচ্ছবি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিলক্ষিত হয়।

 

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, এদেশের সার্বভৌমত্ব কেবল বক্তব্য বা স্লোগানের বিষয় নয়; বরং এটি অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থায় গভীর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের চেতনার মাধ্যমে রক্ষা করতে হয়। তিনি সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ছাত্রশিবির একটি সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে, যারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।