ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবু স্বামীকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন তরুণী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস আগে ঘটে যায় মর্মান্তিক এক ঘটনা। ভারতের মহারাষ্ট্রের এক খ্যাতনামা ব্যবসায়ীর ছেলে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু নিয়ে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের অভিযোগ, কেতনকে ধাক্কা দিয়ে পাহাড়ের খাদে ফেলে হত্যা করেছেন তার হবু স্ত্রী এবং ওই তরুণীর প্রেমিক।

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) এনডিটিভির খবরে বলা হয়, পুনের কাছে লোহাগড় দুর্গ এলাকায় ছবি তোলার সময় খাদে পড়ে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনা প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হয়ে। কিন্তু তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ দাবি করছে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

 

এ ঘটনায় কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কেউ কীভাবে এতটা নির্মম হতে পারে।’

 

পুলিশের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিজের জন্মদিন উপলক্ষে সিয়া গোয়ালের সঙ্গে লোহাগড় দুর্গ এলাকায় ট্রেকিং করতে যান কেতন আগরওয়াল। আগামী নভেম্বর মাসে তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল এবং ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে নানা পরিকল্পনাও করেছিলেন কেতন।

 

ঘটনার পর সিয়া পুলিশকে জানান, ছবি তোলার সময় কেতন পা পিছলে গভীর খাদে পড়ে যান। পরে উদ্ধারকারী দল প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তদন্তে লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশের সন্দেহ হয়। মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

 

এরপর পুলিশ সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, সিয়া গোয়াল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে কেতনকে গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

১৭ কোটি রুপির বিয়ের আয়োজন কেতন আগরওয়াল ছিলেন মহারাষ্ট্রের পুনের কাছে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার পরিচিত নির্মাণ ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে। আগামী নভেম্বর মাসে রাজস্থানের উদয়পুরে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।

 

পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিয়ের জন্য জয়পুরে ১৭ কোটি রুপি ব্যয়ে একটি প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল। অতিথিদের আনা-নেয়ার জন্য দুটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

 

বিয়ে করতে চাননি সিয়া পুলিশের দাবি, সিয়া গোয়াল কেতনকে বিয়ে করতে চাননি। তাকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি এবং এতে সাহায্য নেন তার এক বন্ধুর, যিনি তার প্রেমিকও ছিলেন। তদন্ত অনুযায়ী, জন্মদিনের অজুহাতে কেতনকে লোহাগড়ে নিয়ে যান সিয়া। সুযোগ পেয়ে চেতন চৌধুরীর সহায়তায় তাকে গভীর খাদে ধাক্কা দেয়া হয়।

 

জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল বলেন, ‘সিয়া ও চেতন পরস্পর প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং তারা একসঙ্গে কাজ করতেন। তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, চেতনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। দুই অভিযুক্তই কেতন আগরওয়ালকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেছেন।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হবু স্বামীকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন তরুণী

আপডেট সময় ১২:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বিয়ের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস আগে ঘটে যায় মর্মান্তিক এক ঘটনা। ভারতের মহারাষ্ট্রের এক খ্যাতনামা ব্যবসায়ীর ছেলে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু নিয়ে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের অভিযোগ, কেতনকে ধাক্কা দিয়ে পাহাড়ের খাদে ফেলে হত্যা করেছেন তার হবু স্ত্রী এবং ওই তরুণীর প্রেমিক।

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) এনডিটিভির খবরে বলা হয়, পুনের কাছে লোহাগড় দুর্গ এলাকায় ছবি তোলার সময় খাদে পড়ে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনা প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হয়ে। কিন্তু তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ দাবি করছে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

 

এ ঘটনায় কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কেউ কীভাবে এতটা নির্মম হতে পারে।’

 

পুলিশের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিজের জন্মদিন উপলক্ষে সিয়া গোয়ালের সঙ্গে লোহাগড় দুর্গ এলাকায় ট্রেকিং করতে যান কেতন আগরওয়াল। আগামী নভেম্বর মাসে তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল এবং ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে নানা পরিকল্পনাও করেছিলেন কেতন।

 

ঘটনার পর সিয়া পুলিশকে জানান, ছবি তোলার সময় কেতন পা পিছলে গভীর খাদে পড়ে যান। পরে উদ্ধারকারী দল প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তদন্তে লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশের সন্দেহ হয়। মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

 

এরপর পুলিশ সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, সিয়া গোয়াল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে কেতনকে গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

১৭ কোটি রুপির বিয়ের আয়োজন কেতন আগরওয়াল ছিলেন মহারাষ্ট্রের পুনের কাছে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার পরিচিত নির্মাণ ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে। আগামী নভেম্বর মাসে রাজস্থানের উদয়পুরে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।

 

পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিয়ের জন্য জয়পুরে ১৭ কোটি রুপি ব্যয়ে একটি প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল। অতিথিদের আনা-নেয়ার জন্য দুটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

 

বিয়ে করতে চাননি সিয়া পুলিশের দাবি, সিয়া গোয়াল কেতনকে বিয়ে করতে চাননি। তাকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি এবং এতে সাহায্য নেন তার এক বন্ধুর, যিনি তার প্রেমিকও ছিলেন। তদন্ত অনুযায়ী, জন্মদিনের অজুহাতে কেতনকে লোহাগড়ে নিয়ে যান সিয়া। সুযোগ পেয়ে চেতন চৌধুরীর সহায়তায় তাকে গভীর খাদে ধাক্কা দেয়া হয়।

 

জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল বলেন, ‘সিয়া ও চেতন পরস্পর প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং তারা একসঙ্গে কাজ করতেন। তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, চেতনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। দুই অভিযুক্তই কেতন আগরওয়ালকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেছেন।’