ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০

ভূমিকম্পে চাপা পড়ে নিহত হওয়া ব্যক্তিকে শহীদ বলে আখ্যা দিয়েছেন মহানবী (সা.)

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৬৩ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাত্র ৩১ ঘণ্টার মধ্যে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু করে শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ভূমকম্পন অনুভূত হয়। সবশেষ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় পরপর দুটি ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, প্রথমটি অনুভূত হয় সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭। এর এক সেকেন্ড পর ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে আরও একটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাড্ডায়। আর ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে।এর আগে একইদিন সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তার আগে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এতে শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন।

কোরআন-হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্প মূলত মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সতর্কবার্তা। যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জাতিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, পরীক্ষা করেছেন। সতর্কবার্তা শুনেও যারা তাঁর অবাধ্যতা থেকে ফেরেনি, তাদের কঠিন শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করেছেন তিনি। কখনো ধ্বংস করেছেন ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাধ্যমে। যেমন শোয়াইব (আ.)-এর জাতিকে মহান আল্লাহর অবাধ্যতা, মাপে কম দেওয়া, অন্যের সম্পদ লুটপাট করা এবং অন্যায়ভাবে জনগণের সম্পদ ভক্ষণ করার কারণে ভূমিকম্প দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করল। তারপর তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে মরে রইল।’ (সুরা আরাফ : ৯১)

এমনিভাবে লুত (আ.)-এর জাতিকেও অবাধ্যতা ও সমকামিতা প্রসারের কারণে ভূমিকম্প দিয়ে উল্টে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সালেহ (আ.)-কে আল্লাহর নিদর্শন পাঠানো উষ্ট্রী হত্যার অপরাধে তাঁর জাতিও ভূমিকম্পের আজাবে ধ্বংস হয়েছিল। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও তাঁর উম্মতদের ভূমিকম্পের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি (সা.) বলেছেন, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের মুখোমুখি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, কখন সেটা হবে হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র বিস্তৃতি লাভ করবে এবং মদ্যপানের সয়লাব শুরু হবে। (তিরমিজি : ২২১২)

তাই মুসলমানদের উচিত সমাজে ছড়িয়ে পড়া পাপাচার থেকে নিজেরা বিরত থাকা এবং পরিবার ও অন্য মুসলমানদেরও সতর্ক করা। তবে ভূমিকম্পের কারণে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার দুর্ঘটনার শিকার হলে শুধু তাকে পাপিষ্ঠ ভাবার সুযোগ নেই। কেননা মহানবী (সা.) ভূমিকম্পে চাপে পড়ে নিহত হওয়া ব্যক্তিকে শহীদ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে জাবের (রা.) তাঁর বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর বাবা জাবের (রা.)-কে তাঁর রোগশয্যায় দেখতে গেলেন এবং দেখলেন নারীরা কেঁদে কেঁদে বলছে, আমরা মনে করেছিলাম তুমি (জাবের রা.) আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।

তখন মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় শহীদ না হলে তোমরা কাউকে শহীদ মনে করো না? এমন হলে তো তোমাদের শহীদের সংখ্যা অতি অল্পই হবে।’ এরপর তিনি (সা.) জানান, ‘আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ, পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ, কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে (ভূমিকম্প বা যেকোনো দুর্ঘটনায়) মৃত ব্যক্তি শহীদ, নিউমোনিয়াজাতীয় কঠিন পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ, যে নারী গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সেও শহীদ।’ (আবু দাউদ : ৩১১১)

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার

ভূমিকম্পে চাপা পড়ে নিহত হওয়া ব্যক্তিকে শহীদ বলে আখ্যা দিয়েছেন মহানবী (সা.)

আপডেট সময় ১২:০০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

এবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাত্র ৩১ ঘণ্টার মধ্যে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু করে শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ভূমকম্পন অনুভূত হয়। সবশেষ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় পরপর দুটি ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, প্রথমটি অনুভূত হয় সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭। এর এক সেকেন্ড পর ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে আরও একটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাড্ডায়। আর ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে।এর আগে একইদিন সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তার আগে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এতে শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন।

কোরআন-হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্প মূলত মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সতর্কবার্তা। যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জাতিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, পরীক্ষা করেছেন। সতর্কবার্তা শুনেও যারা তাঁর অবাধ্যতা থেকে ফেরেনি, তাদের কঠিন শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করেছেন তিনি। কখনো ধ্বংস করেছেন ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাধ্যমে। যেমন শোয়াইব (আ.)-এর জাতিকে মহান আল্লাহর অবাধ্যতা, মাপে কম দেওয়া, অন্যের সম্পদ লুটপাট করা এবং অন্যায়ভাবে জনগণের সম্পদ ভক্ষণ করার কারণে ভূমিকম্প দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করল। তারপর তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে মরে রইল।’ (সুরা আরাফ : ৯১)

এমনিভাবে লুত (আ.)-এর জাতিকেও অবাধ্যতা ও সমকামিতা প্রসারের কারণে ভূমিকম্প দিয়ে উল্টে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সালেহ (আ.)-কে আল্লাহর নিদর্শন পাঠানো উষ্ট্রী হত্যার অপরাধে তাঁর জাতিও ভূমিকম্পের আজাবে ধ্বংস হয়েছিল। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও তাঁর উম্মতদের ভূমিকম্পের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি (সা.) বলেছেন, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের মুখোমুখি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, কখন সেটা হবে হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র বিস্তৃতি লাভ করবে এবং মদ্যপানের সয়লাব শুরু হবে। (তিরমিজি : ২২১২)

তাই মুসলমানদের উচিত সমাজে ছড়িয়ে পড়া পাপাচার থেকে নিজেরা বিরত থাকা এবং পরিবার ও অন্য মুসলমানদেরও সতর্ক করা। তবে ভূমিকম্পের কারণে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার দুর্ঘটনার শিকার হলে শুধু তাকে পাপিষ্ঠ ভাবার সুযোগ নেই। কেননা মহানবী (সা.) ভূমিকম্পে চাপে পড়ে নিহত হওয়া ব্যক্তিকে শহীদ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে জাবের (রা.) তাঁর বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর বাবা জাবের (রা.)-কে তাঁর রোগশয্যায় দেখতে গেলেন এবং দেখলেন নারীরা কেঁদে কেঁদে বলছে, আমরা মনে করেছিলাম তুমি (জাবের রা.) আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।

তখন মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় শহীদ না হলে তোমরা কাউকে শহীদ মনে করো না? এমন হলে তো তোমাদের শহীদের সংখ্যা অতি অল্পই হবে।’ এরপর তিনি (সা.) জানান, ‘আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ, পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ, কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে (ভূমিকম্প বা যেকোনো দুর্ঘটনায়) মৃত ব্যক্তি শহীদ, নিউমোনিয়াজাতীয় কঠিন পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ, যে নারী গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সেও শহীদ।’ (আবু দাউদ : ৩১১১)