ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এখন চীনের হাতে মিসাইল না থাকলে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো ইরান: ইরানের প্রেসিডেন্ট নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী স্কটল্যান্ডকে হারালে আরেক বিপদ ব্রাজিলের! শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠকের অপেক্ষা, আলোচনায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা যমজ কন্যা সন্তান হওয়ায় তালাক, থানায় ফের বিয়ে কিছু দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে কিন্তু ইরানের থাকবে না, এটা হতে পারে না: শেহবাজ ইরান রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ পাবে: রুবিও বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খুলে দেওয়া হয়েছে সব জলকপাট মসজিদে ঝুলন্ত অবস্থায় ইমামের মরদেহ উদ্ধার, রুমে মিলল চিরকুট

হরমুজে ব*ন্দি ১১ হাজার নাবিক, উ’দ্ধা’রে’র অভিযানে জাতিসংঘ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে International Maritime Organization (আইএমও)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরই শুরু হয়েছে এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।

আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানটি অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল। ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক খাতের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হচ্ছে পুরো কার্যক্রম। নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হাজারো নাবিক দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকা পড়েন।

তবে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শিপিং পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান Kpler জানিয়েছে, সোমবার একদিনেই ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ।

এদিকে ওমান জানিয়েছে, জাহাজের অতিরিক্ত চাপ ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধার অভিযান ধাপে ধাপে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা মিশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এখানে কোনো দেশের একক নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, হরমুজের পরিস্থিতি আর কখনোই যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণরেখা হিসেবে পরিচিত এই নৌপথে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর হরমুজ প্রণালির দিকেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এখন চীনের হাতে

হরমুজে ব*ন্দি ১১ হাজার নাবিক, উ’দ্ধা’রে’র অভিযানে জাতিসংঘ

আপডেট সময় ১০:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে International Maritime Organization (আইএমও)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরই শুরু হয়েছে এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।

আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানটি অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল। ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক খাতের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হচ্ছে পুরো কার্যক্রম। নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হাজারো নাবিক দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকা পড়েন।

তবে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শিপিং পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান Kpler জানিয়েছে, সোমবার একদিনেই ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ।

এদিকে ওমান জানিয়েছে, জাহাজের অতিরিক্ত চাপ ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধার অভিযান ধাপে ধাপে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা মিশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এখানে কোনো দেশের একক নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, হরমুজের পরিস্থিতি আর কখনোই যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণরেখা হিসেবে পরিচিত এই নৌপথে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর হরমুজ প্রণালির দিকেই।