ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এখন চীনের হাতে মিসাইল না থাকলে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো ইরান: ইরানের প্রেসিডেন্ট নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী স্কটল্যান্ডকে হারালে আরেক বিপদ ব্রাজিলের! শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠকের অপেক্ষা, আলোচনায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা যমজ কন্যা সন্তান হওয়ায় তালাক, থানায় ফের বিয়ে কিছু দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে কিন্তু ইরানের থাকবে না, এটা হতে পারে না: শেহবাজ ইরান রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ পাবে: রুবিও বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খুলে দেওয়া হয়েছে সব জলকপাট মসজিদে ঝুলন্ত অবস্থায় ইমামের মরদেহ উদ্ধার, রুমে মিলল চিরকুট

যমজ কন্যা সন্তান হওয়ায় তালাক, থানায় ফের বিয়ে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

এবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার রিনা খাতুনের অনিশ্চয়তা জীবনের অবসান হয়েছে। যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে তাকে তালাক দেওয়া হয় এবং সন্তান বিক্রির হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই রিনা খাতুন ও তার দুই কন্যাসন্তানকে পুনরায় বিয়ে করে আবারও ঘরে তুলে নিয়েছেন স্বামী রাকিবুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের উদ্যোগে উভয় পরিবারকে থানায় ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়। পরে কাজির উপস্থিতিতে ধর্মীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পুনরায় বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার কোলা গ্রামের বাসিন্দা রিনা খাতুন গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান ধারণ করেছেন, এ খবর জানার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সন্তান জন্মের পর প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও স্বামী রাকিবুল ইসলাম তার কোনো খোঁজ নেননি। বরং তালাকের নোটিশ পাঠান বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের নির্দেশে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা মহেশপুর থানায় উপস্থিত হন। পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনার একপর্যায়ে নিজের ভুল স্বীকার করে রাকিবুল ইসলাম স্ত্রী রিনা খাতুন ও তাদের দুই কন্যাসন্তানকে সম্মানের সঙ্গে ঘরে তুলে নিতে সম্মতি দেন। সংসারে ফিরে যেতে পেরে রিনা খাতুন আনন্দ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে রাকিবুল ইসলামও দুই কন্যাসন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে স্ত্রীসন্তানদের পাশে সারাজীবন থাকার অঙ্গীকার করেন।

এদিকে স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছিল। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসানের মধ্যস্থতায় আমরা আবারও এক হয়েছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, যে কাজটি গ্রাম করতে পারেনি, ইউনিয়ন পরিষদ করতে পারেনি, সে কাজটি করে দেখিয়েছেন ওসি সাহেব। আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন, যেন বাকি জীবন আমরা একসঙ্গে সুখেশান্তিতে থাকতে পারি।

এদিকে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা শুধু আইনগত ব্যবস্থার দিকেই যাইনি, শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং একটি ভেঙে যাওয়া সংসার পুনরায় গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছি। কাজীর মাধ্যমে তাদের পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ দম্পতির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এখন চীনের হাতে

যমজ কন্যা সন্তান হওয়ায় তালাক, থানায় ফের বিয়ে

আপডেট সময় ১১:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

এবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার রিনা খাতুনের অনিশ্চয়তা জীবনের অবসান হয়েছে। যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে তাকে তালাক দেওয়া হয় এবং সন্তান বিক্রির হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই রিনা খাতুন ও তার দুই কন্যাসন্তানকে পুনরায় বিয়ে করে আবারও ঘরে তুলে নিয়েছেন স্বামী রাকিবুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের উদ্যোগে উভয় পরিবারকে থানায় ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়। পরে কাজির উপস্থিতিতে ধর্মীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পুনরায় বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার কোলা গ্রামের বাসিন্দা রিনা খাতুন গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান ধারণ করেছেন, এ খবর জানার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সন্তান জন্মের পর প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও স্বামী রাকিবুল ইসলাম তার কোনো খোঁজ নেননি। বরং তালাকের নোটিশ পাঠান বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের নির্দেশে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা মহেশপুর থানায় উপস্থিত হন। পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনার একপর্যায়ে নিজের ভুল স্বীকার করে রাকিবুল ইসলাম স্ত্রী রিনা খাতুন ও তাদের দুই কন্যাসন্তানকে সম্মানের সঙ্গে ঘরে তুলে নিতে সম্মতি দেন। সংসারে ফিরে যেতে পেরে রিনা খাতুন আনন্দ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে রাকিবুল ইসলামও দুই কন্যাসন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে স্ত্রীসন্তানদের পাশে সারাজীবন থাকার অঙ্গীকার করেন।

এদিকে স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছিল। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসানের মধ্যস্থতায় আমরা আবারও এক হয়েছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, যে কাজটি গ্রাম করতে পারেনি, ইউনিয়ন পরিষদ করতে পারেনি, সে কাজটি করে দেখিয়েছেন ওসি সাহেব। আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন, যেন বাকি জীবন আমরা একসঙ্গে সুখেশান্তিতে থাকতে পারি।

এদিকে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা শুধু আইনগত ব্যবস্থার দিকেই যাইনি, শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং একটি ভেঙে যাওয়া সংসার পুনরায় গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছি। কাজীর মাধ্যমে তাদের পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ দম্পতির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হবে।