রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফারুক শেখ (৪৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। মাত্র তিন হাজার টাকায় দুই ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করে ছোট ভাই মো. বারেক শেখ তাকে হত্যা করা করিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের ছোট ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ধারালো দা, রক্তমাখা গেঞ্জি-প্যান্ট, একটি মাস্ক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা এলাকার নিহত ফারুক শেখের ছোট ভাই মো. বারেক শেখ (৪৪), হোসেন মন্ডলপাড়া এলাকার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) এবং একই এলাকার বাবু শেখের ছেলে মো. রুবেল শেখ (৩০)।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামসুল হক।
পুলিশ জানায়, শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টা থেকে ২টার মধ্যে গোয়ালন্দের জামতলা এলাকায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফারুক শেখকে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের বাবা খালেক শেখ (৭০) বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে কয়েকটি দল তদন্তে নামে। তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখের সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা ও সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ভাই ফারুক শেখকে হত্যার জন্য বারেক শেখ তিন হাজার টাকার বিনিময়ে আলমগীর ও রুবেলকে ভাড়া করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২২ আগস্ট আলমগীর ও রুবেল দুটি ধারালো দা নিয়ে ফারুকের বাড়িতে যান। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় ফারুককে কুপিয়ে হত্যা করে তারা পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আলমগীর ও রুবেল পেশায় রিকশাচালক। তাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক বলেন, তদন্তে পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি ও অর্থসংক্রান্ত বিষয় এবং নিহত ফারুকের সঙ্গে তার মা-বাবার বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। বারেক শেখ পুলিশকে জানিয়েছেন, ফারুক একসময় তার মাকে মারধর করেছিলেন। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে পারিবারিক ক্ষোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, একটি পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের নমিনি ছিলেন বারেক শেখ। অর্থসংক্রান্ত বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ, বিশেষ করে পরকীয়ার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
পুলিশ জানায়, নিহত ফারুক ও গ্রেপ্তার বারেক আপন ভাই। তারা চার ভাইয়ের মধ্যে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়। ফারুক দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে একটি চায়ের দোকান চালাতেন।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে দুটি ধারালো দা, দুটি রক্তমাখা গেঞ্জি, একটি প্যান্ট ও একটি মাস্ক।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মফিজুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















