ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজধানীতে একদিনে সাত এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারে প্রবেশ করল বাংলাদেশ ৩৩ মাস পর ভারতীয় কারাগার থেকে দেশে ফিরলেন ৩ বাংলাদেশি সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন বিএনপি নেতা বাচ্চু রাজধানীর ৮ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ উনি যে জেলায় যান সে জেলাতেই বিয়ে করেন: সাবেক ওসির ষষ্ঠ স্ত্রী সরকারি জমিতে গণঅধিকারের অফিস নির্মাণে বাধা, সংঘর্ষে ১৫ জন আহত রাজধানীর ৪ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাদ যায়নি থানা এলাকাও বাংলাদেশসহ প্রত্যেককে ১২৩ কোটি টাকা করে দেওয়ার দাবিতে ইনফান্তিনোকে চিঠি ইয়েমেন যুদ্ধে ‘ধরাশায়ী’, ৪ দেশের কাছে ‘ভাড়ায়’ সৈন্য চায় সৌদি

নির্বাচন চান না জেলেনস্কি- বললেন, যুদ্ধকালে নির্বাচন ইউক্রেনকে ধ্বংস করে দেবে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এ ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন একটি বড় ঝুঁকি। এখন নির্বাচন আয়োজন দেশের জন্য সুনামির মতো হবে। এটি ইউক্রেনকে বিভক্ত করবে।ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানোর পর স্থানীয় সময় শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। এএফপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। কয়েক মাসের মধ্যে এটি ছিল তার প্রথম এমন ব্রিফিং। দেশটিতে একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

ইউক্রেন সামরিক আইনের আওতায় নির্বাচন স্থগিত রেখেছে। রাশিয়ার ২০২২ সালে শুরু করা আগ্রাসন প্রতিহত করায় দেশটি মনোযোগ দেওয়ায় জনগণের বড় অংশ এখনো এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ৪৮ বছর বয়সী জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা যদি দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এই যুদ্ধের সময়ে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।এএফপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ব্রিফিংএ উপস্থিত ছিলেন। কয়েক মাসের মধ্যে এটি ছিল তার প্রথম এমন ব্রিফিং। দেশটিতে একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জেলেনস্কি জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পর হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

বরখাস্ত হওয়া ফেদোরভ এ সপ্তাহে আকস্মিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তবে কীভাবে তা করা হবে, সে বিষয়ে কোনো রূপরেখা দেননি তিনি। এমনকি তার কিছু সমর্থকও তার অবস্থান থেকে দূরত্ব তৈরি করেন। বিশেষজ্ঞরা নির্বাচনের পথে বেশ কিছু বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাসদস্য, লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং দখল করা অঞ্চলের বাসিন্দারা কীভাবে ভোট দেবেন, সেই প্রশ্ন। পাশাপাশি রাশিয়ার অপতথ্য ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে। কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে রাশিয়ার প্রতিদিনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে দেশটি যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখনই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানো হলো। কিয়েভ ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন হওয়া উচিত।

সোমবার ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আগে জেলেনস্কি ওই ব্রিফিংয়ে ফেদোরভের সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতা উপস্থিত থাকবেন। তীব্র রুশ হামলার মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়েও মিত্ররা আলোচনা করবে। ফেদোরভ সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি নিজেই অথবা নিজেকে কেউ ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছে।সাবেক এই মন্ত্রী ড্রোন যুদ্ধের কৌশলের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে এই কৌশল এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কারেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সামরিক বাহিনীর কমান্ড এবং তাদের প্রচলিত কঠোর পদ্ধতির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। শুরুতে ইউক্রেনের বড় অংশের মানুষ ফেদোরভের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করার দাবি জানায়।

জেলেনস্কি বলেন, মানুষের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতিঅসম্মানজনকআচরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কবে থেকে যারা নিজেদের জীবন দিচ্ছেন, তাদের চেয়ে প্রচার বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল?’ জেলেনস্কি নিজেকে বিভাজন ঠেকানোর শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সমাজ ও সেনাসদস্যদের বিভক্ত করা উচিত নয়।তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্বীকার করতে হবে যে এই ঝুঁকি রয়েছেআমরা হয়তো সেই দিকেই এগোচ্ছি, যা বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে একদিনে সাত এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন

নির্বাচন চান না জেলেনস্কি- বললেন, যুদ্ধকালে নির্বাচন ইউক্রেনকে ধ্বংস করে দেবে

আপডেট সময় ১২:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এ ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন একটি বড় ঝুঁকি। এখন নির্বাচন আয়োজন দেশের জন্য সুনামির মতো হবে। এটি ইউক্রেনকে বিভক্ত করবে।ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানোর পর স্থানীয় সময় শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। এএফপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। কয়েক মাসের মধ্যে এটি ছিল তার প্রথম এমন ব্রিফিং। দেশটিতে একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

ইউক্রেন সামরিক আইনের আওতায় নির্বাচন স্থগিত রেখেছে। রাশিয়ার ২০২২ সালে শুরু করা আগ্রাসন প্রতিহত করায় দেশটি মনোযোগ দেওয়ায় জনগণের বড় অংশ এখনো এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ৪৮ বছর বয়সী জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা যদি দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এই যুদ্ধের সময়ে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।এএফপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ব্রিফিংএ উপস্থিত ছিলেন। কয়েক মাসের মধ্যে এটি ছিল তার প্রথম এমন ব্রিফিং। দেশটিতে একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জেলেনস্কি জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পর হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

বরখাস্ত হওয়া ফেদোরভ এ সপ্তাহে আকস্মিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তবে কীভাবে তা করা হবে, সে বিষয়ে কোনো রূপরেখা দেননি তিনি। এমনকি তার কিছু সমর্থকও তার অবস্থান থেকে দূরত্ব তৈরি করেন। বিশেষজ্ঞরা নির্বাচনের পথে বেশ কিছু বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাসদস্য, লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং দখল করা অঞ্চলের বাসিন্দারা কীভাবে ভোট দেবেন, সেই প্রশ্ন। পাশাপাশি রাশিয়ার অপতথ্য ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে। কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে রাশিয়ার প্রতিদিনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে দেশটি যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখনই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানো হলো। কিয়েভ ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন হওয়া উচিত।

সোমবার ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আগে জেলেনস্কি ওই ব্রিফিংয়ে ফেদোরভের সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতা উপস্থিত থাকবেন। তীব্র রুশ হামলার মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়েও মিত্ররা আলোচনা করবে। ফেদোরভ সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি নিজেই অথবা নিজেকে কেউ ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছে।সাবেক এই মন্ত্রী ড্রোন যুদ্ধের কৌশলের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে এই কৌশল এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কারেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সামরিক বাহিনীর কমান্ড এবং তাদের প্রচলিত কঠোর পদ্ধতির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। শুরুতে ইউক্রেনের বড় অংশের মানুষ ফেদোরভের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করার দাবি জানায়।

জেলেনস্কি বলেন, মানুষের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতিঅসম্মানজনকআচরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কবে থেকে যারা নিজেদের জীবন দিচ্ছেন, তাদের চেয়ে প্রচার বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল?’ জেলেনস্কি নিজেকে বিভাজন ঠেকানোর শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সমাজ ও সেনাসদস্যদের বিভক্ত করা উচিত নয়।তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্বীকার করতে হবে যে এই ঝুঁকি রয়েছেআমরা হয়তো সেই দিকেই এগোচ্ছি, যা বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।