ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল

ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ঘিরে হিন্দু জঙ্গিদের তাণ্ডব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

এখন ঢাকা-দিল্লি বিরোধ চরমে। স্মরণকালে দুই দেশের মধ্যে এমন তিক্ত সম্পর্ক আর চোখে পড়েনি। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে অব্যাহতভাবে হিন্দু জঙ্গিদের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও কূটনীতিকদের হত্যার হুমকির মতো ঘটনা নজিরবিহীন। মোদি সরকারের মদতে শত শত উগ্রবাদী হিন্দু বাংলাদেশের মিশনগুলোতে একের পর এক সহিংস বিক্ষোভ ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এসব ঘটনাকে নিশ্চিতভাবেই পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে এই বক্তব্য সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কেবল কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয় বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শান্তি ও সহনশীলতার মূল্যবোধেরও পরিপন্থী। গতকাল দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে উগ্রবাদী হিন্দুদের বিক্ষোভকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের শত শত কর্মী হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়। সেখানে বাংলাদেশবিরোধী চরম উসকানিমূলক স্লোগানের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।

বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দিপু দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয় বলে দাবি আয়োজকদের। এদিন বিক্ষোভকারীরা গেরুয়া পতাকা হাতে স্লোগান দিতে দিতে কূটনৈতিক এলাকার দিকে অগ্রসর হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা পুলিশ বসানো ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীরা অন্তত দুটি স্তরের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে স্লোগান দেন। এ সময় সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয় ।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়। পরে ফের ব্যারিকেড বসিয়ে হাইকমিশনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এর আগে, সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। এদিকে গতকাল কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ফের বিক্ষোভ করেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। তবে ডেপুটি হাইকমিশন প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর আগেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে এ প্রতিবাদ মিছিল ও ডেপুটেশনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। শিয়ালদহ রেল স্টেশনের সামনে থেকে তাদের মিছিল শুরু হয়। শত শত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিলটি বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে কলকাতার বেগবাগানের সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা প্রথম ব্যারিকেডটি ভেঙে ফেললে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। দূতাবাসের অন্তত একশ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। তখন বিক্ষোভকারীরা পাল্টা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ সময় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ পুলিশের আরো ইউনিট এসে বিক্ষোভ থামানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের কলকাতার নীলরতন হসপিটাল ও পিজি হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। কলকাতা বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন চত্বর কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যায় একই এলাকায় আবারও মিছিল করে বামপন্থি দলগুলো। এদের মিছিলও দুশ মিটার আগেই থামিয়ে দেয় পুলিশ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী), সিপিআই, বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দল বা এসএসপি, ফরোয়ার্ড ব্লক এতে অংশ নেয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের

ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ঘিরে হিন্দু জঙ্গিদের তাণ্ডব

আপডেট সময় ১০:০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

এখন ঢাকা-দিল্লি বিরোধ চরমে। স্মরণকালে দুই দেশের মধ্যে এমন তিক্ত সম্পর্ক আর চোখে পড়েনি। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে অব্যাহতভাবে হিন্দু জঙ্গিদের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও কূটনীতিকদের হত্যার হুমকির মতো ঘটনা নজিরবিহীন। মোদি সরকারের মদতে শত শত উগ্রবাদী হিন্দু বাংলাদেশের মিশনগুলোতে একের পর এক সহিংস বিক্ষোভ ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এসব ঘটনাকে নিশ্চিতভাবেই পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে এই বক্তব্য সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কেবল কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয় বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শান্তি ও সহনশীলতার মূল্যবোধেরও পরিপন্থী। গতকাল দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে উগ্রবাদী হিন্দুদের বিক্ষোভকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের শত শত কর্মী হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়। সেখানে বাংলাদেশবিরোধী চরম উসকানিমূলক স্লোগানের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।

বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দিপু দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয় বলে দাবি আয়োজকদের। এদিন বিক্ষোভকারীরা গেরুয়া পতাকা হাতে স্লোগান দিতে দিতে কূটনৈতিক এলাকার দিকে অগ্রসর হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা পুলিশ বসানো ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীরা অন্তত দুটি স্তরের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে স্লোগান দেন। এ সময় সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয় ।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়। পরে ফের ব্যারিকেড বসিয়ে হাইকমিশনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এর আগে, সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। এদিকে গতকাল কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ফের বিক্ষোভ করেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। তবে ডেপুটি হাইকমিশন প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর আগেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে এ প্রতিবাদ মিছিল ও ডেপুটেশনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। শিয়ালদহ রেল স্টেশনের সামনে থেকে তাদের মিছিল শুরু হয়। শত শত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিলটি বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে কলকাতার বেগবাগানের সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা প্রথম ব্যারিকেডটি ভেঙে ফেললে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। দূতাবাসের অন্তত একশ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। তখন বিক্ষোভকারীরা পাল্টা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ সময় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ পুলিশের আরো ইউনিট এসে বিক্ষোভ থামানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের কলকাতার নীলরতন হসপিটাল ও পিজি হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। কলকাতা বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন চত্বর কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যায় একই এলাকায় আবারও মিছিল করে বামপন্থি দলগুলো। এদের মিছিলও দুশ মিটার আগেই থামিয়ে দেয় পুলিশ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী), সিপিআই, বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দল বা এসএসপি, ফরোয়ার্ড ব্লক এতে অংশ নেয়।