ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

ওসমান হাদি হত্যায় মোটরসাইকেল চালকের সহযোগী গ্রেপ্তার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোটরসাইকেল চালক আলমগীরের সহযোগী হিসেবে পরিচিত আদাবর থানা যুবলীগ কর্মী হিমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে আদাবর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে হিমন অবস্থান করছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
এদিকে হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোছা. হাসি বেগম, স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আটটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ডিবির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তকালে জানা গেছে, তার এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা শরীফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ বুঝতে পেরেছে, ক্ষতিটা ওদেরই হয়েছে: দিলীপ ঘোষ

ওসমান হাদি হত্যায় মোটরসাইকেল চালকের সহযোগী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৬:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোটরসাইকেল চালক আলমগীরের সহযোগী হিসেবে পরিচিত আদাবর থানা যুবলীগ কর্মী হিমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে আদাবর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে হিমন অবস্থান করছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
এদিকে হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোছা. হাসি বেগম, স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আটটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ডিবির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তকালে জানা গেছে, তার এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা শরীফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।