ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জেন-জিকে ‘আবর্জনার প্রজন্ম’ বলে তোপের মুখে এমপি কঙ্গনা স্পিকারের সিদ্ধান্ত পেলেই গাজী নজরুলের আসন নিয়ে পদক্ষেপ নেবে ইসি সিজেপির আন্দোলন নিয়ে কটাক্ষ, ‘নর্দমার জেনারেশন’ বললেন কঙ্গনা এবার ভারত সীমান্তে পঞ্চম প্রজন্মের ভয়ংকর যুদ্ধবিমান মোতায়ন করলো চীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল নিষিদ্ধ ভারত সীমান্তে চীনের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান মোতায়েন জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা তুরস্ককে এফ-৩৫ দিতে নেতানিয়াহুর আপত্তি, পাত্তা দিলেন না ট্রাম্প ১ মাসের মধ্যে যোগ-বিয়োগ শেখাতে না পারলে শিক্ষক বরখাস্ত হবেন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে মারা গেল ৬ বাংলাদেশি

গ্রুপের তিন ম্যাচেই গোল, রোমারিও-রোনালদোদের পাশে ভিনিসিয়ুস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিশেষ এক তালিকায় নাম লেখালেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা চারটিতে নিয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। সবচেয়ে বড় কথা, ব্রাজিলের প্রথম তিন ম্যাচেই গোল করলেন তিনি।

 

এই কীর্তি ব্রাজিলের জার্সিতে খুব কম ফুটবলারই করতে পেরেছেন। ভিনিসিয়ুসের আগে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন জাইরজিনিও, রোমারিও, রোনালদো ও রিভালদো। চারজনের ক্ষেত্রেই শেষ গল্পটা ছিল একই: ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়। জাইরজিনিও ১৯৭০, রোমারিও ১৯৯৪, আর রোনালদো ও রিভালদো ২০০২ সালে সেই পথ ধরে শিরোপা জিতেছিলেন।

 

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসের রাত শুরু হয় ম্যাচের ৭ মিনিটে। স্কটল্যান্ডের রক্ষণ থেকে ভুল পাস বের হতেই রায়ান চাপ দিয়ে বল কেড়ে নেন। রাফিনিয়ার জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া তরুণ উইঙ্গার সেটি বাড়িয়ে দেন ভিনিসিয়ুসের দিকে। সামনে শুধু গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান। ঠান্ডা মাথায় তাঁকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান ব্রাজিলের নম্বর ৭।

 

প্রথমার্ধেই ভিনিসিয়ুস আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল করেন রেফারি। তাতেও থামেননি তিনি। বিরতির আগে আবারও স্কটল্যান্ডের রক্ষণ ভুল করে। সুযোগ বুঝে বল জিতে নিয়ে আক্রমণ গড়ে ব্রাজিল। সেখান থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ভিনিসিয়ুস।

 

এর আগে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে গোল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়ের ম্যাচেও গোল পান তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর এবারের বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল চার। তিন ম্যাচেই গোল, সব মিলিয়ে ব্রাজিলের আক্রমণে এখন সবচেয়ে ধারাবাহিক মুখ তিনিই।

 

ব্রাজিলের ইতিহাসে এই ধারাবাহিকতা সব সময়ই শুভ স্মৃতি জাগায়। ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাইরজিনিও শুধু প্রথম তিন ম্যাচ নয়, ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছিলেন। সাত গোল করে তিনি মেক্সিকোর সেই কিংবদন্তি দলকে শিরোপায় বড় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪ সালে রোমারিও প্রথম তিন ম্যাচে গোল করে ব্রাজিলকে চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের পথে টেনে নিয়েছিলেন।

 

২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো ও রিভালদো দুজনই শুরু থেকেই গোলের ধারায় ছিলেন। রোনালদো শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন আট গোল করে। রিভালদোও ব্রাজিলের প্রথম পাঁচ ম্যাচে গোল করে দলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

 

তবে ভিনিসিয়ুসের কীর্তিকে এখনই শিরোপার ভবিষ্যদ্বাণী বানিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। এটি ইতিহাসের সঙ্গে মিল, নিশ্চয়তা নয়। কিন্তু ব্রাজিলের জন্য এটি বড় স্বস্তি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে ভিনিসিয়ুসের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ক্লাব ফুটবলের দাপুটে ভিনি আর ব্রাজিলের ভিনি যেন একই রকম দেখাচ্ছিল না। এবারের বিশ্বকাপে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে।

 

কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল এখনো পুরোপুরি নিখুঁত নয়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু, হাইতির বিপক্ষে জয়, আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধে নিয়ন্ত্রণ, সব মিলিয়ে দলটি ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজছে। সেই ছন্দের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ ভিনিসিয়ুস। রাফিনিয়ার চোট, নেইমারের বেঞ্চে থাকা এবং আক্রমণভাগের অনিশ্চয়তার মাঝেও তিনি গোলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন।

 

রায়ানের ভূমিকার কথাও আলাদা করে বলতে হবে। রাফিনিয়ার জায়গায় শুরু করা ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার শুরুতেই চাপ দিয়ে স্কটল্যান্ডের রক্ষণ থেকে বল কেড়ে নেন এবং ভিনিসিয়ুসকে গোলের সুযোগ করে দেন। আনচেলত্তির এক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাই প্রথমার্ধেই ফল দিয়েছে।

 

ব্রাজিলের জন্য স্কটল্যান্ড ম্যাচে হার এড়ালেই শেষ ৩২ নিশ্চিত। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের ফর্ম শুধু নকআউটের হিসাবের চেয়েও বড় খবর। বিশ্বকাপ জিততে হলে ব্রাজিলের একজন ধারাবাহিক ম্যাচ-জয়ী দরকার। প্রথম তিন ম্যাচের পর অন্তত সেই ভূমিকায় ভিনিসিয়ুস নিজের দাবি শক্তভাবেই জানিয়ে দিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জেন-জিকে ‘আবর্জনার প্রজন্ম’ বলে তোপের মুখে এমপি কঙ্গনা

গ্রুপের তিন ম্যাচেই গোল, রোমারিও-রোনালদোদের পাশে ভিনিসিয়ুস

আপডেট সময় ০৫:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিশেষ এক তালিকায় নাম লেখালেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা চারটিতে নিয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। সবচেয়ে বড় কথা, ব্রাজিলের প্রথম তিন ম্যাচেই গোল করলেন তিনি।

 

এই কীর্তি ব্রাজিলের জার্সিতে খুব কম ফুটবলারই করতে পেরেছেন। ভিনিসিয়ুসের আগে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন জাইরজিনিও, রোমারিও, রোনালদো ও রিভালদো। চারজনের ক্ষেত্রেই শেষ গল্পটা ছিল একই: ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়। জাইরজিনিও ১৯৭০, রোমারিও ১৯৯৪, আর রোনালদো ও রিভালদো ২০০২ সালে সেই পথ ধরে শিরোপা জিতেছিলেন।

 

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসের রাত শুরু হয় ম্যাচের ৭ মিনিটে। স্কটল্যান্ডের রক্ষণ থেকে ভুল পাস বের হতেই রায়ান চাপ দিয়ে বল কেড়ে নেন। রাফিনিয়ার জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া তরুণ উইঙ্গার সেটি বাড়িয়ে দেন ভিনিসিয়ুসের দিকে। সামনে শুধু গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান। ঠান্ডা মাথায় তাঁকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান ব্রাজিলের নম্বর ৭।

 

প্রথমার্ধেই ভিনিসিয়ুস আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল করেন রেফারি। তাতেও থামেননি তিনি। বিরতির আগে আবারও স্কটল্যান্ডের রক্ষণ ভুল করে। সুযোগ বুঝে বল জিতে নিয়ে আক্রমণ গড়ে ব্রাজিল। সেখান থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ভিনিসিয়ুস।

 

এর আগে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে গোল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়ের ম্যাচেও গোল পান তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর এবারের বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল চার। তিন ম্যাচেই গোল, সব মিলিয়ে ব্রাজিলের আক্রমণে এখন সবচেয়ে ধারাবাহিক মুখ তিনিই।

 

ব্রাজিলের ইতিহাসে এই ধারাবাহিকতা সব সময়ই শুভ স্মৃতি জাগায়। ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাইরজিনিও শুধু প্রথম তিন ম্যাচ নয়, ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছিলেন। সাত গোল করে তিনি মেক্সিকোর সেই কিংবদন্তি দলকে শিরোপায় বড় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪ সালে রোমারিও প্রথম তিন ম্যাচে গোল করে ব্রাজিলকে চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের পথে টেনে নিয়েছিলেন।

 

২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো ও রিভালদো দুজনই শুরু থেকেই গোলের ধারায় ছিলেন। রোনালদো শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন আট গোল করে। রিভালদোও ব্রাজিলের প্রথম পাঁচ ম্যাচে গোল করে দলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

 

তবে ভিনিসিয়ুসের কীর্তিকে এখনই শিরোপার ভবিষ্যদ্বাণী বানিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। এটি ইতিহাসের সঙ্গে মিল, নিশ্চয়তা নয়। কিন্তু ব্রাজিলের জন্য এটি বড় স্বস্তি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে ভিনিসিয়ুসের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ক্লাব ফুটবলের দাপুটে ভিনি আর ব্রাজিলের ভিনি যেন একই রকম দেখাচ্ছিল না। এবারের বিশ্বকাপে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে।

 

কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল এখনো পুরোপুরি নিখুঁত নয়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু, হাইতির বিপক্ষে জয়, আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধে নিয়ন্ত্রণ, সব মিলিয়ে দলটি ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজছে। সেই ছন্দের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ ভিনিসিয়ুস। রাফিনিয়ার চোট, নেইমারের বেঞ্চে থাকা এবং আক্রমণভাগের অনিশ্চয়তার মাঝেও তিনি গোলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন।

 

রায়ানের ভূমিকার কথাও আলাদা করে বলতে হবে। রাফিনিয়ার জায়গায় শুরু করা ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার শুরুতেই চাপ দিয়ে স্কটল্যান্ডের রক্ষণ থেকে বল কেড়ে নেন এবং ভিনিসিয়ুসকে গোলের সুযোগ করে দেন। আনচেলত্তির এক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাই প্রথমার্ধেই ফল দিয়েছে।

 

ব্রাজিলের জন্য স্কটল্যান্ড ম্যাচে হার এড়ালেই শেষ ৩২ নিশ্চিত। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের ফর্ম শুধু নকআউটের হিসাবের চেয়েও বড় খবর। বিশ্বকাপ জিততে হলে ব্রাজিলের একজন ধারাবাহিক ম্যাচ-জয়ী দরকার। প্রথম তিন ম্যাচের পর অন্তত সেই ভূমিকায় ভিনিসিয়ুস নিজের দাবি শক্তভাবেই জানিয়ে দিলেন।