ঢাকা , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

না ফেরার দেশে মেসিকে আর্জেন্টিনা দলে আনার মূল কারিগর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০০ বার পড়া হয়েছে

আর্জেন্টিনা ফুটবল আজ শোকে আবদ্ধ। লিওনেল মেসিকে স্পেন নয়, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তোলার পেছনে যিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় স্থপতি— সেই ওমর সাউতো আর নেই। জাতীয় দলগুলোর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব ৭৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিন দশকের বেশি সময় এএফএর আড়ালের শক্তি হয়ে থাকা এই মানুষটির মৃত্যুর খবরে আর্জেন্টিনা ফুটবল মহল থেকে সাধারণ সমর্থক— সবার হৃদয়ে গভীর শোক নেমে এসেছে।

ওমর সাউতোর মৃত্যুতে এক আবেগঘন বিবৃতি দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। বিবৃতিতে বলা হয়, “অপরিমেয় শোক নিয়ে জানাচ্ছি, জাতীয় দলগুলোর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার ওমর সাউতো আর আমাদের মাঝে নেই। ধন্যবাদ, ওমর— তোমার মানবিকতা, অসীম নিবেদন আর আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য।”

এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও হৃদয়বিদারক বার্তায় বলেন, “কি দুঃখজনক সংবাদ। তুমি চলে গেলে, পাপুয়া। জাতীয় দলের জন্য তোমার অবদান ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। আকাশটা আজ যেন আরও বেশি আর্জেন্টাইন। আমরা তোমাকে ভীষণভাবে মিস করব।”

মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরানোর লড়াই

২০০০-এর দশকের শুরুতে বার্সেলোনার কিশোর আরেকটি সুপারস্টার হয়ে উঠবে— এমন ধারণা তখনো খুব স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু বয়সভিত্তিক দলে এক স্প্যানিশ কোচের মন্তব্য— বার্সার সেই ছেলেটা সবার চেয়ে ভালো— সাউতোকে নাড়া দিয়ে যায়।

এরপর শুরু হয় তার ‘মেসি অনুসন্ধান’। রোসারিওর ফোন ডিরেক্টরিতে মেসি পরিবার খুঁজে বের করা, দাদির সঙ্গে কথা, চাচার নম্বর সংগ্রহ, শেষ পর্যন্ত বাবাকে পাওয়া— সবই করেন ওমর সাউতো নিজে। মেসির বাবা তখনই বলেছিলেন, “অবশেষে! আমার ছেলে সবসময়ই আর্জেন্টিনার হয়েই খেলতে চেয়েছে।”

স্পেনের হাত থেকে বাঁচাতে ‘ফেক কল-আপ’

এদিকে স্পেন তখন মেসিকে তাদের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে নিতে চাইছিল, তখন সাউতো ও কোচ তোকাল্লি মিলে এক কৌশলি পদক্ষেপ নেন। দ্রুত প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করে মেসিকে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামান। সেই পথেই শুরু হয় মেসির ‘অলবিসেলেস্তে’ অধ্যায়, যা আর কখনো থামেনি।

সাউতো প্রায়ই বলতেন, “মেসি কখনোই স্প্যানিশ হতে চাইত না। তার লক্ষ্য ছিল একটাই— আর্জেন্টিনা।”

গত অক্টোবরেই এএফএ তাদের সাধারণ সভায় ওমর সাউতোকে বিশেষ সম্মান জানায়। দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে যে মানুষটি ছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবল কাঠামোর মেরুদণ্ড— তার বিদায়ে আজ দেশটিতে নেমেছে শোকের ছায়া।

মেসির ক্যারিয়ার, আর্জেন্টিনার ইতিহাস আর বিশ্বের ফুটবল মানচিত্র— সবখানে চিরদিনের জন্য লেখা থাকবে তার নাম।

ওমর সাউতো— আড়ালের নায়ক, কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রথমার্ধে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের লিড নিল যুক্তরাষ্ট্র

না ফেরার দেশে মেসিকে আর্জেন্টিনা দলে আনার মূল কারিগর

আপডেট সময় ১২:৫০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

আর্জেন্টিনা ফুটবল আজ শোকে আবদ্ধ। লিওনেল মেসিকে স্পেন নয়, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তোলার পেছনে যিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় স্থপতি— সেই ওমর সাউতো আর নেই। জাতীয় দলগুলোর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব ৭৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিন দশকের বেশি সময় এএফএর আড়ালের শক্তি হয়ে থাকা এই মানুষটির মৃত্যুর খবরে আর্জেন্টিনা ফুটবল মহল থেকে সাধারণ সমর্থক— সবার হৃদয়ে গভীর শোক নেমে এসেছে।

ওমর সাউতোর মৃত্যুতে এক আবেগঘন বিবৃতি দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। বিবৃতিতে বলা হয়, “অপরিমেয় শোক নিয়ে জানাচ্ছি, জাতীয় দলগুলোর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার ওমর সাউতো আর আমাদের মাঝে নেই। ধন্যবাদ, ওমর— তোমার মানবিকতা, অসীম নিবেদন আর আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য।”

এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও হৃদয়বিদারক বার্তায় বলেন, “কি দুঃখজনক সংবাদ। তুমি চলে গেলে, পাপুয়া। জাতীয় দলের জন্য তোমার অবদান ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। আকাশটা আজ যেন আরও বেশি আর্জেন্টাইন। আমরা তোমাকে ভীষণভাবে মিস করব।”

মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরানোর লড়াই

২০০০-এর দশকের শুরুতে বার্সেলোনার কিশোর আরেকটি সুপারস্টার হয়ে উঠবে— এমন ধারণা তখনো খুব স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু বয়সভিত্তিক দলে এক স্প্যানিশ কোচের মন্তব্য— বার্সার সেই ছেলেটা সবার চেয়ে ভালো— সাউতোকে নাড়া দিয়ে যায়।

এরপর শুরু হয় তার ‘মেসি অনুসন্ধান’। রোসারিওর ফোন ডিরেক্টরিতে মেসি পরিবার খুঁজে বের করা, দাদির সঙ্গে কথা, চাচার নম্বর সংগ্রহ, শেষ পর্যন্ত বাবাকে পাওয়া— সবই করেন ওমর সাউতো নিজে। মেসির বাবা তখনই বলেছিলেন, “অবশেষে! আমার ছেলে সবসময়ই আর্জেন্টিনার হয়েই খেলতে চেয়েছে।”

স্পেনের হাত থেকে বাঁচাতে ‘ফেক কল-আপ’

এদিকে স্পেন তখন মেসিকে তাদের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে নিতে চাইছিল, তখন সাউতো ও কোচ তোকাল্লি মিলে এক কৌশলি পদক্ষেপ নেন। দ্রুত প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করে মেসিকে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামান। সেই পথেই শুরু হয় মেসির ‘অলবিসেলেস্তে’ অধ্যায়, যা আর কখনো থামেনি।

সাউতো প্রায়ই বলতেন, “মেসি কখনোই স্প্যানিশ হতে চাইত না। তার লক্ষ্য ছিল একটাই— আর্জেন্টিনা।”

গত অক্টোবরেই এএফএ তাদের সাধারণ সভায় ওমর সাউতোকে বিশেষ সম্মান জানায়। দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে যে মানুষটি ছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবল কাঠামোর মেরুদণ্ড— তার বিদায়ে আজ দেশটিতে নেমেছে শোকের ছায়া।

মেসির ক্যারিয়ার, আর্জেন্টিনার ইতিহাস আর বিশ্বের ফুটবল মানচিত্র— সবখানে চিরদিনের জন্য লেখা থাকবে তার নাম।

ওমর সাউতো— আড়ালের নায়ক, কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়।