ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন মোদি ভারত-পাকিস্তানের জাহাজসহ ৪৫টি নৌযান ইরানের কালো তালিকায় অপরাধ ঘটলেই গ্রেপ্তার হচ্ছে, এটাই সরকারের কৃতিত্ব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরের ঘটনায় দ্রুত সময়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে বাংলাভাষী মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের কড়া বার্তা সব হারানো জহুরার ঘর এখন জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই পারমাণবিক প্রযুক্তি পাবে সৌদি আরব: ট্রাম্প মাঠের মধ্যেই ভারত-শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি গণ’হ*ত্যা’র ৯ বছর পরও যে কারণে মিয়ানমারে ফিরতে চান তারা ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুন, পুড়ে  প্রাণ গেল ১৫ নবজাতকের

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই পারমাণবিক প্রযুক্তি পাবে সৌদি আরব: ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

এবার সউদী আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে সউদী আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। রয়টার্স জানিয়েছে, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে সমঝোতা হয়। চুক্তি কার্যকর হলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সউদী আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি এবং এপি১০০০ ধরনের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে অংশ নিতে পারবে। প্রকল্পটির মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলার হতে পারে।

চুক্তিটি সোমবার কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে পাঠানোর কথা রয়েছে। কংগ্রেসের হাতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৯০ কার্যদিবস সময় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি না এলে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে। কংগ্রেস চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারবেন; সেই ভেটো ঠেকাতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে। তবে ট্রাম্পের অবস্থান অনুযায়ী, সউদী আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে হবে। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, সউদী আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিলে পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে না।

২০২০ ও ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সউদী আরবকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা করেছিল আগের মার্কিন প্রশাসন ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই আলোচনা কার্যত থেমে যায়। সউদী আরব জানিয়েছে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে সুস্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় অগ্রগতি না হলে তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। ফলে পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েল-সউদী সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত যুক্ত হওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

এদিকে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন, নতুন চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট শর্ত নেই কেন। ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তিতে এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার কঠোর শর্ত ছিল, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধের ক্ষেত্রে একটি উচ্চ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। সউদী চুক্তিতে একই ধরনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় ভবিষ্যতে রিয়াদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তাররোধের ব্যবস্থা রয়েছে। এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনা এবং সউদী আরবের ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্ন—এই দুই বিষয়ের ওপরই চুক্তিটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন মোদি

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই পারমাণবিক প্রযুক্তি পাবে সৌদি আরব: ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

এবার সউদী আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে সউদী আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। রয়টার্স জানিয়েছে, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে সমঝোতা হয়। চুক্তি কার্যকর হলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সউদী আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি এবং এপি১০০০ ধরনের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে অংশ নিতে পারবে। প্রকল্পটির মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলার হতে পারে।

চুক্তিটি সোমবার কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে পাঠানোর কথা রয়েছে। কংগ্রেসের হাতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৯০ কার্যদিবস সময় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি না এলে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে। কংগ্রেস চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারবেন; সেই ভেটো ঠেকাতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে। তবে ট্রাম্পের অবস্থান অনুযায়ী, সউদী আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে হবে। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, সউদী আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিলে পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে না।

২০২০ ও ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সউদী আরবকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা করেছিল আগের মার্কিন প্রশাসন ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই আলোচনা কার্যত থেমে যায়। সউদী আরব জানিয়েছে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে সুস্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় অগ্রগতি না হলে তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। ফলে পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েল-সউদী সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত যুক্ত হওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

এদিকে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন, নতুন চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট শর্ত নেই কেন। ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তিতে এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার কঠোর শর্ত ছিল, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধের ক্ষেত্রে একটি উচ্চ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। সউদী চুক্তিতে একই ধরনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় ভবিষ্যতে রিয়াদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তাররোধের ব্যবস্থা রয়েছে। এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনা এবং সউদী আরবের ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্ন—এই দুই বিষয়ের ওপরই চুক্তিটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স