ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারের কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে গঠনমূলকভাবে তুলে ধরার আহ্বান আইনমন্ত্রীর গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে অস্ত্র ফেলে পালালো বিএসএফ, ফেরত দিলো বিজিবি প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পোস্ট, ‘কমনসেন্স’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারজিস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র যা কিছুই করুক, আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা কিউবার সব বাহিনীকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অজিত দোভাল-ওয়াং ই বৈঠক: একাধিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ভারত-চীন বিশ্বজুড়ে অভিবাসন ভিসার আবেদন স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র খালেদা জিয়াকে চক্রান্ত করে হত্যা করা হয়েছে, তিনিও শহীদ: রুহুল কবির রিজভী এই ছাত্রদল-যুবদল কেউ থাকবে না, আমরা ছাত্রলীগ-যুবলীগও দেখছি: আসিফ

যুক্তরাষ্ট্র যা কিছুই করুক, আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা কিউবার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের পথ তৈরি করতে কিউবা এখনও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। তবে দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে কোনো আলোচনা হতে পারে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

দিয়াজ-কানেল বলেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের পথ খুঁজতে চায় হাভানা। তবে একই সঙ্গে কিউবার ওপর চলমান মার্কিন চাপ ও অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

কিউবার বিপ্লবের পতন ঘটাতে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন—এমন অভিযোগও করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন কিউবার সামনে থাকা সব ধরনের বিকল্প পথ বন্ধ করে দিতে চাইছে।

তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও ওষুধের সংকট সত্ত্বেও কিউবা অর্থনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন দিয়াজ-কানেল। তিনি বলেন, পরিস্থিতি জটিল হলেও কিউবার জনগণের সৃজনশীলতা ও ঐতিহাসিক সহনশীলতা দেশটিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

দেশটির সরকারি আমলাতন্ত্র ও সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে অর্থনৈতিক সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকেই দায়ী করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ফোলহা দে এস.পাওলোর তথ্য অনুযায়ী, দিয়াজ-কানেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কিউবার অর্থনীতি প্রায় ১৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকটও মোকাবিলা করছে দেশটি।

এদিকে, জুনে কিউবার পার্লামেন্ট অনুমোদিত ১৭৬টি অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দিয়াজ-কানেল। তার দাবি, এসব সংস্কারের লক্ষ্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।

সংস্কারের অংশ হিসেবে বেসরকারি ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হলেও, এর মাধ্যমে কিউবা পুঁজিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসন যখন কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে দিয়াজ-কানেলের এই বক্তব্য সামনে এলো। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিউবা অটল থাকবে; একই সঙ্গে পূর্বশর্তহীন সংলাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পথও খোলা থাকবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে গঠনমূলকভাবে তুলে ধরার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্র যা কিছুই করুক, আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা কিউবার

আপডেট সময় ০৪:২৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের পথ তৈরি করতে কিউবা এখনও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। তবে দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে কোনো আলোচনা হতে পারে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

দিয়াজ-কানেল বলেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের পথ খুঁজতে চায় হাভানা। তবে একই সঙ্গে কিউবার ওপর চলমান মার্কিন চাপ ও অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

কিউবার বিপ্লবের পতন ঘটাতে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন—এমন অভিযোগও করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন কিউবার সামনে থাকা সব ধরনের বিকল্প পথ বন্ধ করে দিতে চাইছে।

তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও ওষুধের সংকট সত্ত্বেও কিউবা অর্থনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন দিয়াজ-কানেল। তিনি বলেন, পরিস্থিতি জটিল হলেও কিউবার জনগণের সৃজনশীলতা ও ঐতিহাসিক সহনশীলতা দেশটিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

দেশটির সরকারি আমলাতন্ত্র ও সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে অর্থনৈতিক সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকেই দায়ী করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ফোলহা দে এস.পাওলোর তথ্য অনুযায়ী, দিয়াজ-কানেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কিউবার অর্থনীতি প্রায় ১৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকটও মোকাবিলা করছে দেশটি।

এদিকে, জুনে কিউবার পার্লামেন্ট অনুমোদিত ১৭৬টি অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দিয়াজ-কানেল। তার দাবি, এসব সংস্কারের লক্ষ্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।

সংস্কারের অংশ হিসেবে বেসরকারি ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হলেও, এর মাধ্যমে কিউবা পুঁজিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসন যখন কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে দিয়াজ-কানেলের এই বক্তব্য সামনে এলো। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিউবা অটল থাকবে; একই সঙ্গে পূর্বশর্তহীন সংলাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পথও খোলা থাকবে।