ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব রেকর্ড ভাঙল পাগলা মসজিদের দান, মিলল প্রায় ১৬ কোটি টাকা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়াও মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল সংখ্যক স্বর্ণালংকার।

 

প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা গণনা শেষে শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে।

 

শনিবার সকাল ৭টা থেকে দানবাক্স খোলার পর টাকা গণনা শুরু হয়। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

 

মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ পাগলা মসজিদে দান করতে যান। প্রতি ৪-৬ মাস পর পর জেলা শহরের নরসুন্দা নদী তীরে পাগলা মসজিদের সিন্দুকগুলো খোলা হয়। এসব দানবাক্সে পাওয়া যায় বিপুল সংখ্যক টাকাপয়সা ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ স্বর্ণালংকার।

 

দানবাক্স খোলার পর প্রথমে টাকাগুলো লোহার সিন্ধুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে মেঝেতে ঢেলে গণনা করা হয়। আজ গণনার কাজ করছেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ কর্মী। সেখানে আরও আছেন মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আরও প্রায় ৫০০ জন।

 

জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা নগদ ব্যাংকে জমাসহ অনলাইনের দানের আরও প্রায় ২৫ লাখের বেশি টাকা জমা আছে। আজকের টাকা গণনা শেষে আগের টাকার সঙ্গে এটাও ব্যাংকে জমা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও পাগলা মসজিদে জমা টাকার লভ্যাংশ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তা করা হয়। মসজিদের কলেবর বাড়াতে আগের সাড়ে ৫ একর জায়গার পাশে আরও ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ জায়গা কেনা হয়েছে।

 

এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। টাকা ছাড়াও এখানে পাওয়া যায় বিপুল সংখ্যক বৈদেশিক মুদ্রা, সোনার গয়না ও হিরা। টাকা ছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করে মানুষ।

 

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মসজিদটি গড়ে ওঠে। কথিত আছে, এ মসজিদে দান করলে মানুষের মনের আশা পূরণ হয়। সেজন্য দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে এসে দান করে থাকেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সব রেকর্ড ভাঙল পাগলা মসজিদের দান, মিলল প্রায় ১৬ কোটি টাকা

আপডেট সময় ১০:১৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়াও মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল সংখ্যক স্বর্ণালংকার।

 

প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা গণনা শেষে শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে।

 

শনিবার সকাল ৭টা থেকে দানবাক্স খোলার পর টাকা গণনা শুরু হয়। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

 

মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ পাগলা মসজিদে দান করতে যান। প্রতি ৪-৬ মাস পর পর জেলা শহরের নরসুন্দা নদী তীরে পাগলা মসজিদের সিন্দুকগুলো খোলা হয়। এসব দানবাক্সে পাওয়া যায় বিপুল সংখ্যক টাকাপয়সা ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ স্বর্ণালংকার।

 

দানবাক্স খোলার পর প্রথমে টাকাগুলো লোহার সিন্ধুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে মেঝেতে ঢেলে গণনা করা হয়। আজ গণনার কাজ করছেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ কর্মী। সেখানে আরও আছেন মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আরও প্রায় ৫০০ জন।

 

জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা নগদ ব্যাংকে জমাসহ অনলাইনের দানের আরও প্রায় ২৫ লাখের বেশি টাকা জমা আছে। আজকের টাকা গণনা শেষে আগের টাকার সঙ্গে এটাও ব্যাংকে জমা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও পাগলা মসজিদে জমা টাকার লভ্যাংশ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তা করা হয়। মসজিদের কলেবর বাড়াতে আগের সাড়ে ৫ একর জায়গার পাশে আরও ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ জায়গা কেনা হয়েছে।

 

এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। টাকা ছাড়াও এখানে পাওয়া যায় বিপুল সংখ্যক বৈদেশিক মুদ্রা, সোনার গয়না ও হিরা। টাকা ছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করে মানুষ।

 

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মসজিদটি গড়ে ওঠে। কথিত আছে, এ মসজিদে দান করলে মানুষের মনের আশা পূরণ হয়। সেজন্য দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে এসে দান করে থাকেন।