ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সার্জিসের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন নিউমার্কেটে গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলল তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭২ জনকে গ্রেফতার তরুণীকে রাতভর দলবেঁধে ধর্ষণ, বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গেল ধানক্ষেতে ভৈরবে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল পিতা-পুত্র চাঁদপুরে মোমবাতি জ্বালিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় গুলি করে একজনকে হত্যা হাদি হত্যার বিচারের দাবি বন্ধে খুনের দায় চাপানোর চেষ্টা: জাবের সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফেরানোর বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরীক্ষাকক্ষে হাঁটুসমান পানি, বেঞ্চে উঠে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা

চাঁদপুরে মোমবাতি জ্বালিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

 

চাঁদপুরে মোমবাতি জ্বালিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা।

 

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনজীবন। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের মেইন লাইনের ওপর পড়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় বসে এসএসসি পরীক্ষা দিতে হয়েছে শত শত শিক্ষার্থীদের।

 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালীন এই চিত্র দেখা যায়। পরীক্ষা শুরুর আগেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসায় কক্ষগুলোতে প্রাকৃতিক আলো কমে যায়। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান বন্ধ হয়ে গুমোট গরমের সৃষ্টি হয়, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

 

 

অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে, গরমে ঘাম আর অন্ধকারে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পড়তেই হিমশিম খাচ্ছে। অনেক পরীক্ষার্থী জানায়, অন্ধকার আর অসহনীয় গরমে ঠিকমতো মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

 

আরও পড়ুন

হাটু পানিতে বেঞ্চের ওপর পা তুলে এসএসসি পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা

১ ঘণ্টা আগে

হাটু পানিতে বেঞ্চের ওপর পা তুলে এসএসসি পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা

অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা গেছে। এক অভিভাবক বলেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যেমন জেনারেটর বা আইপিএস না থাকাটা দায়িত্বশীলদের গাফিলতি। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।

 

পরীক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যুৎ না থাকায় কক্ষ অন্ধকার হয়ে পড়ে। মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় প্রশ্নপত্র পড়তে ও উত্তর লিখতে তাদের বেশ কষ্ট হয়েছে। ফ্যান বন্ধ থাকায় গুমোট গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, যা পরীক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

 

ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব বেনজুর আহমেদ মুন্সী বলেন, আমাদের এখানে এলইডি লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পেরেছে।

নিশ্চিন্তপুর স্কুলের কেন্দ্র সচিব মো. আরিফুল্ল্যা জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এবং বৈরী আবহাওয়া হওয়ায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় প্রত্যেকটি কক্ষ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তখন দ্রুত এক শতাধিক মোমবাতির ব্যবস্থা করা হয়, যাতে পরীক্ষা ব্যাহত না হয়।

 

দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র বলেন, প্রতিটি রুমে মোমবাতি এবং বাইরের চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করেছি। তবে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং সামাল দেয়া সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ছে।

 

এদিকে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ মতলব উত্তর জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে লাইনের ওপর বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বেশ কয়েকটি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় মেরামতের কাজ শেষ করতে সময় লাগছে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

 

মতলব উত্তর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, আমরা সব কেন্দ্র সচিবদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে কোনো অবস্থাতেই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা ব্যাহত না হয়। যেখানে বিদ্যুৎ সমস্যা রয়েছে, সেখানে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গেও সমন্বয় করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারও নিয়ন্ত্রণে নেই, তবে এমন পরিস্থিতিতেও যেন পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সার্জিসের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন

চাঁদপুরে মোমবাতি জ্বালিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ১০:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

চাঁদপুরে মোমবাতি জ্বালিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা।

 

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনজীবন। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের মেইন লাইনের ওপর পড়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় বসে এসএসসি পরীক্ষা দিতে হয়েছে শত শত শিক্ষার্থীদের।

 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালীন এই চিত্র দেখা যায়। পরীক্ষা শুরুর আগেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসায় কক্ষগুলোতে প্রাকৃতিক আলো কমে যায়। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান বন্ধ হয়ে গুমোট গরমের সৃষ্টি হয়, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

 

 

অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে, গরমে ঘাম আর অন্ধকারে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পড়তেই হিমশিম খাচ্ছে। অনেক পরীক্ষার্থী জানায়, অন্ধকার আর অসহনীয় গরমে ঠিকমতো মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

 

আরও পড়ুন

হাটু পানিতে বেঞ্চের ওপর পা তুলে এসএসসি পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা

১ ঘণ্টা আগে

হাটু পানিতে বেঞ্চের ওপর পা তুলে এসএসসি পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা

অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা গেছে। এক অভিভাবক বলেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যেমন জেনারেটর বা আইপিএস না থাকাটা দায়িত্বশীলদের গাফিলতি। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।

 

পরীক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যুৎ না থাকায় কক্ষ অন্ধকার হয়ে পড়ে। মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় প্রশ্নপত্র পড়তে ও উত্তর লিখতে তাদের বেশ কষ্ট হয়েছে। ফ্যান বন্ধ থাকায় গুমোট গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, যা পরীক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

 

ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব বেনজুর আহমেদ মুন্সী বলেন, আমাদের এখানে এলইডি লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পেরেছে।

নিশ্চিন্তপুর স্কুলের কেন্দ্র সচিব মো. আরিফুল্ল্যা জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এবং বৈরী আবহাওয়া হওয়ায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় প্রত্যেকটি কক্ষ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তখন দ্রুত এক শতাধিক মোমবাতির ব্যবস্থা করা হয়, যাতে পরীক্ষা ব্যাহত না হয়।

 

দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র বলেন, প্রতিটি রুমে মোমবাতি এবং বাইরের চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করেছি। তবে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং সামাল দেয়া সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ছে।

 

এদিকে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ মতলব উত্তর জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে লাইনের ওপর বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বেশ কয়েকটি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় মেরামতের কাজ শেষ করতে সময় লাগছে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

 

মতলব উত্তর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, আমরা সব কেন্দ্র সচিবদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে কোনো অবস্থাতেই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা ব্যাহত না হয়। যেখানে বিদ্যুৎ সমস্যা রয়েছে, সেখানে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গেও সমন্বয় করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারও নিয়ন্ত্রণে নেই, তবে এমন পরিস্থিতিতেও যেন পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।