ঢাকা , রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দ্বিতীয়বার বিয়ের ৪ মাস না যেতে আবারও বিচ্ছেদ, যা বললেন স্ত্রী সাবিকুন্নাহার অস্ত্র কিংবা ছুরি নয়, রক্তভর্তি সিরিঞ্জ নিয়ে ছিনতাই গাজীপুরে পাঁচ খুন: ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভয় ধরাচ্ছে নতুন হান্টাভাইরাস, যা বলছে ডব্লিউএইচও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামবে এনসিপি’ দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলাই বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ: মির্জা ফখরুল স্কুলশিক্ষার্থী নাহিদের সন্ধান চায় পরিবার পরকীয়ার জেরে যুবককে হত্যা করে পুঁতে রাখলো মাটিতে, দম্পতি আটক বিপর্যয়ের পর শক্তিশালী রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের ডাক মমতার ছেলের ‘দায়’ মেটাতে বৃদ্ধ বাবাকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

হাদি হত্যার বিচারের দাবি বন্ধে খুনের দায় চাপানোর চেষ্টা: জাবের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে বিচার দাবিতে যারা সোচ্চার, তাদের কণ্ঠ থামাতে উল্টো খুনের দায় অন্যদের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

জাবেরের ভাষ্য, কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই হাদির সহযোদ্ধাদের দিকে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীদের নিজেদের দল বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা জরুরি। ঘটনার পেছনে তাদের কোনো ভূমিকা আছে কি না, সেটিও বিবেচনায় আনা উচিত।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার দুদক কার্যালয়ের সামনে নির্বাচনি প্রচারণার সময় শহীদ ওসমান হাদির পাশে প্রথমবারের মতো প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে দেখতে পান তিনি। সে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণে সন্দেহের উদ্রেক হয়।

 

পরে আলমগীর ও ফয়সালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাড়িওয়ালা আরেক ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যাকে দুই-তিন মাস আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করেন জাবের। তার ধারণা, ব্যক্তি পরিচয় গোপন রেখে ওই কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষণ করছিলেন তিনি। কেন্দ্রটিতে যে কোনো ব্যক্তি অবাধে প্রবেশ করতে পারায় এবং হাদির সহজ-সরল স্বভাবকে তারা দুর্বলতা হিসেবে নিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

জাবের বলেন, কে বা কার মাধ্যমে ফয়সাল করিম মাসুদ হাদির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন, তা উদঘাটন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।

 

তিনি আরও বলেন, বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র, বেঙ্গল সেন্টার বা ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের মতো স্থানে প্রবেশে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। হাদির হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র, বেঙ্গল সেন্টার বা ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের মতো স্থানে প্রবেশে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

 

ভারতে গ্রেপ্তার মাসুদ ও আলমগীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জাবের বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের তৎপরতা যথেষ্ট নয়। তার অভিযোগ, সরকারের এ বিষয়ে যথেষ্ট সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। আর সবসময় একটা খুব কমন সিনারিও বাংলাদেশের সেটা হচ্ছে, এখানে অন্যায়, অপরাধ, গুম-খুন করে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তাহলে এই যে আন্তর্জাতিক বন্দি বিনিময় চুক্তিটা রয়েছে এটার আসলে সার্থকতা কী?

 

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য জীবন দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আমাদের যদি জীবনও দিতে হয়, আমরা সে জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু সেই জীবন তো আমরা হেলায়-ফেলায় দেব না। সে জীবন তখনই দেব যখন সেটা বাংলাদেশের জন্য কাজে আসবে। সুতরাং আমরা আহ্বান জানাই অতি দ্রুত শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ঘটনার পেছনে কারা কারা রয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক। এর বাইরে সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো নেগোসিয়েশন হবে না।

 

জাবের দাবি করে বলেন, এখন নতুন করে একটা শ্রেণি শহীদ ওসমান হাদির ছবি প্রোফাইলে দিয়ে তাকেই গালিগালাজ করছে, নারীদের বুলিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। আর যারা যারা ওসমান হাদির হত্যার বিচারের জন্য বয়ান জারি রাখছে, তাদের বয়ান বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মূলত তারা খুনের দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যারা কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই এ ধরনের আলাপগুলো জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, কোনো না কোনোভাবে তাদের দলের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা আছে কি না, বা পেছন থেকে ঘটনার কলকাঠি নাড়ছে কি না এটাও একটু ভেবে দেখার বিষয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয়বার বিয়ের ৪ মাস না যেতে আবারও বিচ্ছেদ, যা বললেন স্ত্রী সাবিকুন্নাহার

হাদি হত্যার বিচারের দাবি বন্ধে খুনের দায় চাপানোর চেষ্টা: জাবের

আপডেট সময় ০৯:১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে বিচার দাবিতে যারা সোচ্চার, তাদের কণ্ঠ থামাতে উল্টো খুনের দায় অন্যদের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

জাবেরের ভাষ্য, কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই হাদির সহযোদ্ধাদের দিকে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীদের নিজেদের দল বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা জরুরি। ঘটনার পেছনে তাদের কোনো ভূমিকা আছে কি না, সেটিও বিবেচনায় আনা উচিত।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার দুদক কার্যালয়ের সামনে নির্বাচনি প্রচারণার সময় শহীদ ওসমান হাদির পাশে প্রথমবারের মতো প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে দেখতে পান তিনি। সে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণে সন্দেহের উদ্রেক হয়।

 

পরে আলমগীর ও ফয়সালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাড়িওয়ালা আরেক ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যাকে দুই-তিন মাস আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করেন জাবের। তার ধারণা, ব্যক্তি পরিচয় গোপন রেখে ওই কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষণ করছিলেন তিনি। কেন্দ্রটিতে যে কোনো ব্যক্তি অবাধে প্রবেশ করতে পারায় এবং হাদির সহজ-সরল স্বভাবকে তারা দুর্বলতা হিসেবে নিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

জাবের বলেন, কে বা কার মাধ্যমে ফয়সাল করিম মাসুদ হাদির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন, তা উদঘাটন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।

 

তিনি আরও বলেন, বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র, বেঙ্গল সেন্টার বা ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের মতো স্থানে প্রবেশে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। হাদির হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র, বেঙ্গল সেন্টার বা ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের মতো স্থানে প্রবেশে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

 

ভারতে গ্রেপ্তার মাসুদ ও আলমগীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জাবের বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের তৎপরতা যথেষ্ট নয়। তার অভিযোগ, সরকারের এ বিষয়ে যথেষ্ট সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। আর সবসময় একটা খুব কমন সিনারিও বাংলাদেশের সেটা হচ্ছে, এখানে অন্যায়, অপরাধ, গুম-খুন করে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তাহলে এই যে আন্তর্জাতিক বন্দি বিনিময় চুক্তিটা রয়েছে এটার আসলে সার্থকতা কী?

 

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য জীবন দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আমাদের যদি জীবনও দিতে হয়, আমরা সে জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু সেই জীবন তো আমরা হেলায়-ফেলায় দেব না। সে জীবন তখনই দেব যখন সেটা বাংলাদেশের জন্য কাজে আসবে। সুতরাং আমরা আহ্বান জানাই অতি দ্রুত শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ঘটনার পেছনে কারা কারা রয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক। এর বাইরে সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো নেগোসিয়েশন হবে না।

 

জাবের দাবি করে বলেন, এখন নতুন করে একটা শ্রেণি শহীদ ওসমান হাদির ছবি প্রোফাইলে দিয়ে তাকেই গালিগালাজ করছে, নারীদের বুলিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। আর যারা যারা ওসমান হাদির হত্যার বিচারের জন্য বয়ান জারি রাখছে, তাদের বয়ান বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মূলত তারা খুনের দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যারা কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই এ ধরনের আলাপগুলো জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, কোনো না কোনোভাবে তাদের দলের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা আছে কি না, বা পেছন থেকে ঘটনার কলকাঠি নাড়ছে কি না এটাও একটু ভেবে দেখার বিষয়।