ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর সামনেই ছাত্রদলের দু’গ্রুপের হট্টগোল-হাতাহাতি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সমর্থন না দিতে কালাসকে সতর্ক করলেন আরাগচি হজের কোটায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৫ম জাতিসংঘে ইসরায়েলের হয়ে ‘ব্যাট করলেন’ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে না: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান হাঁস-মুরগি-লাউ নিয়ে ওসিকে বিদায় জানাতে এলেন এলাকাবাসী গণমানুষের কষ্ট লাঘব না হলে রাজপথে নামতে বাধ্য হব: চরমোনাই পীর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গণধোলাইয়ের নির্দেশ বিএনপি নেতার শিবির সভাপতি ইমরান ক্ষমা না চাইলে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবে ছাত্রদল, ২৪ ঘণ্টার আল্টেমেটাম আফগানিস্তান থেকে হামলার চেষ্টা, ৮ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের

ভাঙা হয়েছে বিজয় সরণির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’, হবে জুলাই স্মরণে ‘গণমিনার’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • ৬২৪ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজধানীর বিজয় সরণিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি ভাঙা হয় গত বছরের ৫ আগস্ট, যেদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এবার সেই ভাস্কর্য ঘিরে থাকা ম্যুরালসহ মোট সাতটি দেয়ালও ভেঙে ফেলেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

এদিকে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ নামে এই ম্যুরালের জায়গাটিকে উন্মুক্ত স্থান করা হবে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। তবে এরই মধ্যে সেখানে ‘গণমিনার’ নির্মাণ করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভাঙার কাজ শুরু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর উদ্বোধন করেন। এই প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অধ্যায় চিত্রিত সাতটি দেয়াল ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে পুরো এলাকা একপ্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সর্বশেষ, আজ সেই প্রাঙ্গণের বাকি অংশে সাতটি দেয়ালসহ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণপ্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে রাজধানীর বিজয় সরণিতে ‘গণমিনার’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটি’ এই উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। কমিটি জানায়, গণমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘গণচাঁদা সংগ্রহ’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন, আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতেই নির্মিত হচ্ছে গণমিনার। তিনি আরও জানান, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই এর একটি দৃশ্যমান রূপ প্রকাশ করার লক্ষ্য রয়েছে কমিটির।

গণমিনার নির্মাণ কমিটির আরেক সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খোরশেদ আলম শুক্রবার এ বিষয়ে বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় শুধু একটি স্মারক নির্মাণ নয়, বরং পুরো বিজয় সরণি এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়িত হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর সামনেই ছাত্রদলের দু’গ্রুপের হট্টগোল-হাতাহাতি

ভাঙা হয়েছে বিজয় সরণির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’, হবে জুলাই স্মরণে ‘গণমিনার’

আপডেট সময় ১০:৩২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

এবার রাজধানীর বিজয় সরণিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি ভাঙা হয় গত বছরের ৫ আগস্ট, যেদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এবার সেই ভাস্কর্য ঘিরে থাকা ম্যুরালসহ মোট সাতটি দেয়ালও ভেঙে ফেলেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

এদিকে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ নামে এই ম্যুরালের জায়গাটিকে উন্মুক্ত স্থান করা হবে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। তবে এরই মধ্যে সেখানে ‘গণমিনার’ নির্মাণ করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভাঙার কাজ শুরু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর উদ্বোধন করেন। এই প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অধ্যায় চিত্রিত সাতটি দেয়াল ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে পুরো এলাকা একপ্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সর্বশেষ, আজ সেই প্রাঙ্গণের বাকি অংশে সাতটি দেয়ালসহ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণপ্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে রাজধানীর বিজয় সরণিতে ‘গণমিনার’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটি’ এই উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। কমিটি জানায়, গণমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘গণচাঁদা সংগ্রহ’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন, আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতেই নির্মিত হচ্ছে গণমিনার। তিনি আরও জানান, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই এর একটি দৃশ্যমান রূপ প্রকাশ করার লক্ষ্য রয়েছে কমিটির।

গণমিনার নির্মাণ কমিটির আরেক সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খোরশেদ আলম শুক্রবার এ বিষয়ে বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় শুধু একটি স্মারক নির্মাণ নয়, বরং পুরো বিজয় সরণি এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়িত হবে।