ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ! অবরুদ্ধ হরমুজ: ট্রাম্পের অবরোধ ভাঙতে নামবে চীনের ভয়ঙ্কর নৌবহর? মার্কিন হুমকি তোয়াক্কা না করে হরমুজ পার হলো ইরানি সুপার ট্যাংকার ২৮০০ কোটি টাকার মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করল ইরান মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছি না: শিক্ষামন্ত্রী ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে: পেজেশকিয়ান তেহরানের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো সমাধানই মস্কো মেনে নেবে: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান থেকে তেল নিতে পারবে না চীন: যুক্তরাষ্ট্র আমাকে নতি স্বীকার করাতে বুশরা বিবিকে ‘অমানুষিক’ নির্যাতন করা হচ্ছে: ইমরান খান আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু পৃথিবী চায়: শিক্ষামন্ত্রী

❝শেষ ঠিকানার নিপুণ কারিগর আর নেই, মনু মিয়ার কবর খুঁড়লেন ছয়জন গ্রামবাসী❞

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • ২৮৯ বার পড়া হয়েছে

মারা গেছেন ‘শেষ ঠিকানার নিপুণ কারিগর’ খ্যাত কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মনু মিয়া (৬৭)। জীবনের ৪৯ বছর যিনি বিনা পারিশ্রমিকে প্রায় ৩ হাজার ৫৭টি কবর খুঁড়েছেন, এবার নিজেই হলেন সেই ‘শেষ ঠিকানার’ যাত্রী। আর তাঁর কবর খুঁড়লেন ছয়জন কৃতজ্ঞ গ্রামবাসী।

শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় নিজ বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই অসাধারণ মানুষটি—ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন

■ নিঃস্বার্থ সেবকের বিদায়

জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাহাউদ্দিন ঠাকুর জানান, “মনু মিয়া প্রায় ৫০ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়েছেন। মৃতের বাড়ি গিয়েও কখনো এক গ্লাস পানি পর্যন্ত খেতেন না। এমন আত্মত্যাগী মানুষ সমাজে বিরল।”

মনু মিয়ার জীবনের অনন্য দিক ছিল—নিজের দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কেনা, যাতে তিনি দ্রুত মৃতের বাড়িতে পৌঁছে কবর খুঁড়তে পারেন। সেই প্রিয় ঘোড়াটি চলতি বছরের মে মাসে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়, আর তখন থেকেই যেন এক মানসিক ও শারীরিক ভাঙনের শুরু।

■ তার কবর খুঁড়লেন যারা

এই কবর খুঁড়েছেন যাঁরা, তারা হলেন—

  • মো. রমজান (৬০),

  • নিয়ামল মোল্লা (৩০),

  • মো. রওশন চৌধুরী (৩৫),

  • মারুফ খান সোজাত (৩০),

  • অপু মিয়া (৩২),

  • মো. কাছু মিয়া।

■ জানাজা ও দাফন

বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে গ্রামের কবরস্থানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাকে নিজ এলাকার আলগাপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

■ মানুষের চোখে অশ্রু

মনু মিয়ার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাকে স্মরণ করে এক গ্রামবাসী বলেন,

“যে মানুষটা হাজারো মানুষকে চিরশান্তির ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন, আজ তাকেই আমরা পৌঁছে দিলাম। মাথায় পাগড়ি নেই, হাতে বেলচাও নেই, কিন্তু ওনার মতো মানুষ আর কেউ হবে না।”


মনু মিয়া ছিলেন এক নিঃস্বার্থ নিবেদিতপ্রাণ মানুষ, যিনি জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন অন্যের মৃত্যুতে দায়িত্ব পালনে। এমন চরিত্র হারিয়ে যাওয়া শুধু একজন ব্যক্তির নয়, সমাজেরও এক অপূরণীয় ক্ষতি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ!

❝শেষ ঠিকানার নিপুণ কারিগর আর নেই, মনু মিয়ার কবর খুঁড়লেন ছয়জন গ্রামবাসী❞

আপডেট সময় ১০:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

মারা গেছেন ‘শেষ ঠিকানার নিপুণ কারিগর’ খ্যাত কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মনু মিয়া (৬৭)। জীবনের ৪৯ বছর যিনি বিনা পারিশ্রমিকে প্রায় ৩ হাজার ৫৭টি কবর খুঁড়েছেন, এবার নিজেই হলেন সেই ‘শেষ ঠিকানার’ যাত্রী। আর তাঁর কবর খুঁড়লেন ছয়জন কৃতজ্ঞ গ্রামবাসী।

শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় নিজ বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই অসাধারণ মানুষটি—ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন

■ নিঃস্বার্থ সেবকের বিদায়

জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাহাউদ্দিন ঠাকুর জানান, “মনু মিয়া প্রায় ৫০ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়েছেন। মৃতের বাড়ি গিয়েও কখনো এক গ্লাস পানি পর্যন্ত খেতেন না। এমন আত্মত্যাগী মানুষ সমাজে বিরল।”

মনু মিয়ার জীবনের অনন্য দিক ছিল—নিজের দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কেনা, যাতে তিনি দ্রুত মৃতের বাড়িতে পৌঁছে কবর খুঁড়তে পারেন। সেই প্রিয় ঘোড়াটি চলতি বছরের মে মাসে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়, আর তখন থেকেই যেন এক মানসিক ও শারীরিক ভাঙনের শুরু।

■ তার কবর খুঁড়লেন যারা

এই কবর খুঁড়েছেন যাঁরা, তারা হলেন—

  • মো. রমজান (৬০),

  • নিয়ামল মোল্লা (৩০),

  • মো. রওশন চৌধুরী (৩৫),

  • মারুফ খান সোজাত (৩০),

  • অপু মিয়া (৩২),

  • মো. কাছু মিয়া।

■ জানাজা ও দাফন

বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে গ্রামের কবরস্থানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাকে নিজ এলাকার আলগাপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

■ মানুষের চোখে অশ্রু

মনু মিয়ার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাকে স্মরণ করে এক গ্রামবাসী বলেন,

“যে মানুষটা হাজারো মানুষকে চিরশান্তির ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন, আজ তাকেই আমরা পৌঁছে দিলাম। মাথায় পাগড়ি নেই, হাতে বেলচাও নেই, কিন্তু ওনার মতো মানুষ আর কেউ হবে না।”


মনু মিয়া ছিলেন এক নিঃস্বার্থ নিবেদিতপ্রাণ মানুষ, যিনি জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন অন্যের মৃত্যুতে দায়িত্ব পালনে। এমন চরিত্র হারিয়ে যাওয়া শুধু একজন ব্যক্তির নয়, সমাজেরও এক অপূরণীয় ক্ষতি।