ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিশ্বের সব দেশকে ইরানের সতর্কবার্তা আধ্যাত্মিক সাধনায় নেপালে গিয়ে নিখোঁজ ইউক্রেনীয় পরিবারের ৩ সদস্য আ. লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত-এনসিপি সরকার পতন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে: রাশেদ খাঁন ফ্যাসিবাদী সরকারের আমদানি নির্ভরতার কারণেই জ্বালানি সংকট : জোনায়েদ সাকি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এক মাসের বেতন দেবেন নেপালের মন্ত্রীরা মৃত্যুর আগেই চল্লিশা, ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন দম্পতি আ.লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে অনুশোচনা করতে হবে, আত্ম উপলব্ধি করতে হবে: সোহেল তাজ নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ‘মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ মনীষা, নেপালের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বহরে যুক্ত হচ্ছে মার্কিন জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য ‘আশ্চর্যজনক চমক’ প্রস্তুত রেখেছে ইরান

মৃত্যুর আগেই চল্লিশা, ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন দম্পতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৩১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

শুক্রবার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নে চল্লিশা আয়োজনে খাবার খাওয়ার দৃশ্য। ইনসেটে আয়োজক রফিকুল ইসলাম। ছবি: কালবেলা

 

মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার চল্লিশা করবেন এমন প্রচলিত ধারণাকে ভিন্নভাবে দেখিয়ে জীবিত থাকতেই অসহায়-দুস্থদের জন্য চল্লিশার আয়োজন করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক দম্পতি। পাঁচ হাজার অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষকে ভোজের আয়োজন করে খাইয়েছেন তারা। এ ঘটনায় জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে এই ভোজের আয়োজন করেন মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫) দম্পতি।

 

আয়োজক মো. রফিকুল ইসলাম উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।

 

রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তার দুই সন্তানসহ মেয়ে জামাই বাবলু মিয়া (মাদারগঞ্জ)। তার সন্তানদের মধ্যে মাসুদ মিয়া (৩০) ও রায়হান মিয়া (১৪) বাগ্প্রতিবন্ধী। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে শান্তা আক্তার (২৫) ও রানা মিয়া (১৭) রয়েছেন।

 

জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ভোজের আয়োজন করা হয়। অতিথিদের বসে খাওয়ার জন্য মাঠজুড়ে বিশাল শামিয়ানা টানানো হয় এবং চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষ বসে খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা ছিল। এতে এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে এতে অংশ নেন।

 

খাবারের আয়োজনে ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েস। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

নিজের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জানান, তার দুই সন্তান বাগ্প্রতিবন্ধী। ভবিষ্যতে তারা হয়তো তার মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে এ ধরনের আয়োজন সঠিকভাবে করতে পারবে না এমন আশঙ্কা থেকেই জীবিত অবস্থায় নিজ হাতে আয়োজনটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই আমি এই আয়োজন করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল, আমি নিজে বেঁচে থাকতেই সবার হাতে খাবার তুলে দেব।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির একটি বড় অংশ থেকে পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে তিনি এ আয়োজনের অর্থ ব্যয় করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজন করতে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।’

 

 

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় আগে দেখা যায়নি। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে খাবারে অংশ নিয়েছেন।’

 

 

এদিকে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জীবিত অবস্থায় নিজের জন্য ‘চল্লিশা’ আয়োজন করে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ঘটনাকে অনেকেই মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বের সব দেশকে ইরানের সতর্কবার্তা

মৃত্যুর আগেই চল্লিশা, ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন দম্পতি

আপডেট সময় ০৮:৩১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

শুক্রবার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নে চল্লিশা আয়োজনে খাবার খাওয়ার দৃশ্য। ইনসেটে আয়োজক রফিকুল ইসলাম। ছবি: কালবেলা

 

মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার চল্লিশা করবেন এমন প্রচলিত ধারণাকে ভিন্নভাবে দেখিয়ে জীবিত থাকতেই অসহায়-দুস্থদের জন্য চল্লিশার আয়োজন করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক দম্পতি। পাঁচ হাজার অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষকে ভোজের আয়োজন করে খাইয়েছেন তারা। এ ঘটনায় জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে এই ভোজের আয়োজন করেন মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫) দম্পতি।

 

আয়োজক মো. রফিকুল ইসলাম উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।

 

রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তার দুই সন্তানসহ মেয়ে জামাই বাবলু মিয়া (মাদারগঞ্জ)। তার সন্তানদের মধ্যে মাসুদ মিয়া (৩০) ও রায়হান মিয়া (১৪) বাগ্প্রতিবন্ধী। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে শান্তা আক্তার (২৫) ও রানা মিয়া (১৭) রয়েছেন।

 

জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ভোজের আয়োজন করা হয়। অতিথিদের বসে খাওয়ার জন্য মাঠজুড়ে বিশাল শামিয়ানা টানানো হয় এবং চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষ বসে খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা ছিল। এতে এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে এতে অংশ নেন।

 

খাবারের আয়োজনে ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েস। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

নিজের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জানান, তার দুই সন্তান বাগ্প্রতিবন্ধী। ভবিষ্যতে তারা হয়তো তার মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে এ ধরনের আয়োজন সঠিকভাবে করতে পারবে না এমন আশঙ্কা থেকেই জীবিত অবস্থায় নিজ হাতে আয়োজনটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই আমি এই আয়োজন করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল, আমি নিজে বেঁচে থাকতেই সবার হাতে খাবার তুলে দেব।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির একটি বড় অংশ থেকে পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে তিনি এ আয়োজনের অর্থ ব্যয় করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজন করতে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।’

 

 

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় আগে দেখা যায়নি। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে খাবারে অংশ নিয়েছেন।’

 

 

এদিকে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জীবিত অবস্থায় নিজের জন্য ‘চল্লিশা’ আয়োজন করে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ঘটনাকে অনেকেই মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।