মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের ঐক্যই শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার তেহরানের সামিট হলে ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা, স্বাধীনতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ইসলামি ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতভেদ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে মুসলিম দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর চালানো আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ইরান সংঘাতের সূচনা করেনি; বরং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে এবং দৃঢ়ভাবে সেই আগ্রাসন মোকাবিলা করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, কোনো মুসলিম দেশের নিরাপত্তা প্রতিবেশী দেশের অনিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। একইভাবে কোনো মুসলিম দেশের ভূখণ্ড অন্য কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার কাজে ব্যবহার করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, ওআইসির ৫৭টি সদস্যরাষ্ট্রে দুই বিলিয়নেরও বেশি মুসলমান বসবাস করেন। এসব দেশের রয়েছে বিপুল জ্বালানি সম্পদ, কৌশলগত বাণিজ্যপথ, বড় বাজার, তরুণ জনশক্তি এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। তবে এসব শক্তিকে এখনো সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি ও কার্যকর ক্ষমতায় রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পেজেশকিয়ান মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অনাক্রমণ চুক্তির প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ওআইসির অধীনে স্থায়ী মধ্যস্থতা ও সংঘাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
ফিলিস্তিনের প্রতি ইরানের সমর্থনের কথাও তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ানোই ইরানের অবস্থান; এটি কোনো সাম্প্রদায়িক বিবেচনার ভিত্তিতে নয়।
‘ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনি খামেনির চিন্তায় ইসলামি ঐক্য’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনটি আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তেহরান, কোম ও মাশহাদে চলবে। এতে ইসলামি ঐক্য, শান্তি, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ফিলিস্তিন-লেবাননসহ সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















