রাশিয়ার দূর পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে একটি গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুনে নিহত ১৫ জনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস। একই ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
দূতাবাসের প্রথম সচিব মিজানুর রহমান জানান, নিহত বাংলাদেশি কর্মীর নাম জাকির হোসেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। আর নিখোঁজ বাংলাদেশি কর্মী মো. আলাল হোসেন রাজু মেহেরপুরের গাংনি উপজেলার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার রাশিয়ার সভোবোদনি শহরের কাছে নির্মাণাধীন আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রথমে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক।
দূতাবাস জানিয়েছে, আগুনে কিছু মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় সেগুলো এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ আলাল হোসেন রাজুর মরদেহ এসবের মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাত বাংলাদেশি কর্মীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর অঞ্চল থেকে মস্কোর বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটি রাশিয়ার সিবু ও চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে কমপ্লেক্সটি। আগামী বছরের শুরুতে চালুর আগে সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে এতে কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
এদিকে নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জাকিরের বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দূতাবাস।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















