ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে রেলওয়ের লিজ নেওয়া জমি জোরপূর্বক দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম ওরফে ছোট আবুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পুরোনো রেলস্টেশনের খাদ্য গুদামের পাশে রেলওয়ে পুকুর ও পাড় বাণিজ্যিক ইজারা নিয়েছেন সোনারামপুর গ্রামের সালাহ উদ্দিন। রেলওয়ে বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি কার্যালয়, ঢাকা থেকে সোনারামপুর মৌজার ৫/১ বিএস খতিয়ানভুক্ত ৮৮ (অং) বিএস দাগের পুকুর পাড়ের ২০ ফুট প্রস্থ ও ৯০০ ফুট দৈর্ঘ্যের মোট ১,৮০০ বর্গফুট জায়গা তার নামে লিজ হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে চরচারতলার মজনু মোল্লা তার ভাতিজা বিএনপি নেতা সফিকুল ইসলামসহ ৭-৮ জন ওই জমির দক্ষিণ পাশে দুটি ঘর নির্মাণ করে প্রায় ৩০ ফুট এলাকা দখল করে নিয়েছেন। এ ছাড়া আরও ২০ ফুট জমি রাতের আঁধারে দখলের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন সালাহ উদ্দিন।

তিনি জানান, গত ৩১ জুলাই রেলওয়ে প্রতিনিধি দল আশুগঞ্জ ভূমি কার্যালয়ের উপস্থিতিতে নকশা অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করে গেলেও তা উপেক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণ চলছে। সফিকুল একাধিক মামলার আসামি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে মজনু মোল্লা দাবি করেন, তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে পুকুরের দক্ষিণ পাশের জায়গা ইজারা নিয়ে আসছেন। বিদ্যুতের খুঁটি পর্যন্ত তার ইজারাকৃত এলাকা।

বিএনপি নেতা সফিকুল ইসলামও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘর নির্মাণের জায়গাটি চাচা মজনু মোল্লার নামে ইজারা নেওয়া। টাকাও তিনি পরিশোধ করেছেন। অভিযোগ সত্য নয়।”

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল আলম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে উচ্ছেদ করার এখতিয়ার আমাদের নেই, তা প্রশাসনের।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া জানান, তিনি বর্তমানে প্রশিক্ষণে কর্মস্থলের বাইরে আছেন। অভিযোগ প্রাপ্তির পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।