ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়, রাজা চার্লসও আমার সঙ্গে একমত: ট্রাম্প গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ বজ্রাঘাতে কোল থেকে ছিটকে পড়ে ছোট্ট সাফিয়া, প্রাণ গেল বাবার চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই বরিশালে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ ১৬ শিক্ষার্থী আহত গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ১৮ শতাধিক শিশু ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েল রূপপুর কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ মিলবে ৬০ বছর কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৯

ইসরায়েলের রাডার কেন্দ্র ও বিমানবন্দরে ইরানের হামলা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

এবার হামলাপাল্টা হামলার জেরে ইরানইসরায়েল সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের রেশ ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান দাবি করেছে, তারা রাডার কেন্দ্র ও বিমানবন্দরসহ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর আল জাজিরা

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), ইরানি সেনাবাহিনী এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের মিত্ররা একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি দীর্ঘ ও মধ্যম পাল্লার কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েল ও অন্যান্য স্থানেইসরায়েলআমেরিকা শত্রুপক্ষেরবিভিন্ন শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন এমকিউ৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি এফ১৬ যুদ্ধবিমানেও আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইরানি সেনাবাহিনী ইসরায়েলের হাইফা বন্দরের সামরিক এয়ারোস্পেস কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি এলটার পরিচালিত একটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ডেভিড বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে।

এদিকে উত্তর ইরাকের আধাস্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানির বাসভবনে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইআরজিসি। প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে আইআরজিসি এবং এটিকে হত্যাচেষ্টা ওস্পষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডহিসেবে উল্লেখ করেছে। আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অতীতেও ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেকাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডচালিয়েছে এবং এই হামলাও আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতা নষ্ট করার অংশ।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আলসুদানি শনিবার সকালে হামলার পর নেচিরভান বারজানির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই হামলার দায় এখনও কেউ স্বীকার করেনি। তবে ইরানসমর্থিত গোষ্ঠী ও কুর্দি বাহিনীর ওপর হামলা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানিঅ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’ (আলবা) জানিয়েছে, তাদের স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বারবার সেখানে হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হচ্ছে। আবুধাবিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। ওমানে সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন আহত হয়েছেন। এদিকে এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর এক মাস পার হলেও হামলার মাত্রা কমার কোনও লক্ষণ নেই। বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প

ইসরায়েলের রাডার কেন্দ্র ও বিমানবন্দরে ইরানের হামলা

আপডেট সময় ০৩:৪২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

এবার হামলাপাল্টা হামলার জেরে ইরানইসরায়েল সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের রেশ ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান দাবি করেছে, তারা রাডার কেন্দ্র ও বিমানবন্দরসহ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর আল জাজিরা

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), ইরানি সেনাবাহিনী এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের মিত্ররা একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি দীর্ঘ ও মধ্যম পাল্লার কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েল ও অন্যান্য স্থানেইসরায়েলআমেরিকা শত্রুপক্ষেরবিভিন্ন শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন এমকিউ৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি এফ১৬ যুদ্ধবিমানেও আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইরানি সেনাবাহিনী ইসরায়েলের হাইফা বন্দরের সামরিক এয়ারোস্পেস কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি এলটার পরিচালিত একটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ডেভিড বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে।

এদিকে উত্তর ইরাকের আধাস্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানির বাসভবনে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইআরজিসি। প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে আইআরজিসি এবং এটিকে হত্যাচেষ্টা ওস্পষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডহিসেবে উল্লেখ করেছে। আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অতীতেও ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেকাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডচালিয়েছে এবং এই হামলাও আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতা নষ্ট করার অংশ।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আলসুদানি শনিবার সকালে হামলার পর নেচিরভান বারজানির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই হামলার দায় এখনও কেউ স্বীকার করেনি। তবে ইরানসমর্থিত গোষ্ঠী ও কুর্দি বাহিনীর ওপর হামলা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানিঅ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’ (আলবা) জানিয়েছে, তাদের স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বারবার সেখানে হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হচ্ছে। আবুধাবিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। ওমানে সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন আহত হয়েছেন। এদিকে এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর এক মাস পার হলেও হামলার মাত্রা কমার কোনও লক্ষণ নেই। বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।