ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে চড়, ফেসবুকে ফের শাসালেন ছাত্রদল নেত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে থাপ্পড় দিয়েছেন ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইনডোর গেমসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে এই ঘটনা ঘটে।

 

এরপর এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিয়া সুলতানা নেলী ফের জর্জিসকে শাসিয়েছেন। সাদিয়া সুলতানা নেলী ‎ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে জকসুর হল সংসদে জিএস পদে নির্বাচন করেছিলেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইনডোর গেমসের ক্যারাম খেলার নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকটা টিমকে একই ডিপার্টমেন্টের হতে হবে। তবে এই নিয়ম ভঙ্গ করে ফাইনালে ওঠে একটি টিম। এই বিষয়ে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের নেত্রীর টিম অভিযোগ জানায় এবং নিজেদের টিমকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার দাবি জানান। ক্রীড়া কমিটি এই ঘটনার পর সাদিয়া সুলতানা নেলীর টিমকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে।

 

পরে জর্জিস বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন এবং দুই টিমকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে অনুরোধ করেন। তবে নেলীর টিমকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

 

‎ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, ‘যাদের সঙ্গে নেলী আপুদের খেলা, তারা দুজন দুই ডিপার্টমেন্টের ছিল। এটা নিয়ে তারা অভিযোগ করেছে। আমি এই ঘটনাটা জানার সাথে সাথে গৌতম স্যারের সাথে যোগাযোগ করেছি যে কেন তাদের খেলার সুযোগ দেওয়া হলো এবং কেন ফাইনালে এসে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো?’

 

জর্জিস বলেন, ‘তখন আমাকে বলা হয়, যারা বিচারক ছিলেন, তারাও বিষয়টি জানতেন না। তখন আমরা যখন তাদের সাথে আলোচনা করলাম- ওই ছাত্রদলের নেত্রী নেলী আপুর সাথে আমি কথা বলতে গিয়েছিলাম। আমি কথা বলার সাথে সাথে তিনি ভিসি স্যারকে ফোন দেওয়ার হুমকি দেন। এখানে নিয়ম অনুযায়ী যে ক্রীড়া কমিটির আহবায়ক এবং ইনডোর গেমসের আহবায়ক আছেন, তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের এগোতে হবে। এখানেই শেষ ঘটনাটি।’

 

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসে তাদেরকে না খেলেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে দেওয়া হবে। এরপর অডিটোরিয়ামের যখন সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, সাথে গৌতম স্যারও ছিলেন। নেলী আপু এসে বলে, নাঈম, আপনি কিন্তু কাজটা ঠিক করেননি। তখন আমি বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে, ধন্যবাদ। আমি শুধু এইটুকুই বলেছি, আর কিছু বলিনি।’

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে স্যারসহ যখন বের হচ্ছিলাম, তখন নেলী আমাকে বলেন যে তিনি আমার সাথে কথা বলতে চান। আমি বললাম যে না, আমার এখন একটু কাজ আছে, কাজটা শেষ করি। এই কথা শেষ করার সাথে সাথে সে আমাকে সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে দিল! দিয়ে সে ইচ্ছামতো চিল্লাচিল্লি করল। সে আমার আপু এবং একটা নারী মানুষ হিসেবে তার একটা সম্মানের জায়গা থেকে আমি একটা কথাও বলিনি। আপনারা চাইলে ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারেন। আমি একটা টু শব্দও করিনি।’

 

এদিকে ঘটনার দায় স্বীকার করে ফেসবুকে নেলী একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে লেখেন, ‘এরপর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পর খাবেন। এখন তো শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। অন্যায়ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে ২টা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন, সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।’

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী নূরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কী ঘটনা ঘটেছে, তিনি তদন্ত করে জানাবেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে চড়, ফেসবুকে ফের শাসালেন ছাত্রদল নেত্রী

আপডেট সময় ১০:২৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে থাপ্পড় দিয়েছেন ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইনডোর গেমসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে এই ঘটনা ঘটে।

 

এরপর এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিয়া সুলতানা নেলী ফের জর্জিসকে শাসিয়েছেন। সাদিয়া সুলতানা নেলী ‎ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে জকসুর হল সংসদে জিএস পদে নির্বাচন করেছিলেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইনডোর গেমসের ক্যারাম খেলার নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকটা টিমকে একই ডিপার্টমেন্টের হতে হবে। তবে এই নিয়ম ভঙ্গ করে ফাইনালে ওঠে একটি টিম। এই বিষয়ে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের নেত্রীর টিম অভিযোগ জানায় এবং নিজেদের টিমকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার দাবি জানান। ক্রীড়া কমিটি এই ঘটনার পর সাদিয়া সুলতানা নেলীর টিমকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে।

 

পরে জর্জিস বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন এবং দুই টিমকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে অনুরোধ করেন। তবে নেলীর টিমকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

 

‎ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, ‘যাদের সঙ্গে নেলী আপুদের খেলা, তারা দুজন দুই ডিপার্টমেন্টের ছিল। এটা নিয়ে তারা অভিযোগ করেছে। আমি এই ঘটনাটা জানার সাথে সাথে গৌতম স্যারের সাথে যোগাযোগ করেছি যে কেন তাদের খেলার সুযোগ দেওয়া হলো এবং কেন ফাইনালে এসে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো?’

 

জর্জিস বলেন, ‘তখন আমাকে বলা হয়, যারা বিচারক ছিলেন, তারাও বিষয়টি জানতেন না। তখন আমরা যখন তাদের সাথে আলোচনা করলাম- ওই ছাত্রদলের নেত্রী নেলী আপুর সাথে আমি কথা বলতে গিয়েছিলাম। আমি কথা বলার সাথে সাথে তিনি ভিসি স্যারকে ফোন দেওয়ার হুমকি দেন। এখানে নিয়ম অনুযায়ী যে ক্রীড়া কমিটির আহবায়ক এবং ইনডোর গেমসের আহবায়ক আছেন, তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের এগোতে হবে। এখানেই শেষ ঘটনাটি।’

 

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসে তাদেরকে না খেলেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে দেওয়া হবে। এরপর অডিটোরিয়ামের যখন সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, সাথে গৌতম স্যারও ছিলেন। নেলী আপু এসে বলে, নাঈম, আপনি কিন্তু কাজটা ঠিক করেননি। তখন আমি বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে, ধন্যবাদ। আমি শুধু এইটুকুই বলেছি, আর কিছু বলিনি।’

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে স্যারসহ যখন বের হচ্ছিলাম, তখন নেলী আমাকে বলেন যে তিনি আমার সাথে কথা বলতে চান। আমি বললাম যে না, আমার এখন একটু কাজ আছে, কাজটা শেষ করি। এই কথা শেষ করার সাথে সাথে সে আমাকে সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে দিল! দিয়ে সে ইচ্ছামতো চিল্লাচিল্লি করল। সে আমার আপু এবং একটা নারী মানুষ হিসেবে তার একটা সম্মানের জায়গা থেকে আমি একটা কথাও বলিনি। আপনারা চাইলে ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারেন। আমি একটা টু শব্দও করিনি।’

 

এদিকে ঘটনার দায় স্বীকার করে ফেসবুকে নেলী একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে লেখেন, ‘এরপর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পর খাবেন। এখন তো শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। অন্যায়ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে ২টা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন, সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।’

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী নূরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কী ঘটনা ঘটেছে, তিনি তদন্ত করে জানাবেন।