টানা তিন দিনের সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, উভয় দেশ আপাতত সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকবে।
এই সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এর আগে, রোববার ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। হামলার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করা হলে ইরানকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এদিকে, উত্তেজনা পুরোপুরি না থামলেও লেবানন সীমান্তে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই অভিযান চালানো হয়। তবে তেহরানের দাবি, বৃহত্তর সমঝোতা কার্যকর রাখতে হলে লেবানন ফ্রন্টেও সংঘাত বন্ধ করতে হবে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর ইরানে নতুন করে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে টানা উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এই বৈঠক সফল হলে শুধু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলই নয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতেও কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























