ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দোষ দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাসনাত বিপৎসীমায় কাপ্তাইয়ের পানি, খুলে দেওয়া হচ্ছে ১৬ জলকপাট বাইকে দুই তরুণের মাঝে বসে ভাইরাল, থানায় এসে যা বললেন সেই তরুণী ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা বললেন রাশেদ খান বন্যায় ভেসে এলো সিন্দুক, খুলতেই মিলল ৭৫ লাখ টাকা  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী রংপুরে চার খুনকে সংখ্যালঘু নির্যাতন বলে ‘পানি ঘোলা’ করছে আ.লীগ: দুলু ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি বাদ দেওয়া ঠিক নয়: শিবির সভাপতি ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেই মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট খাওয়ালো স্থানীয়রা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে নিয়ে সংসদে দেয়া বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমি দুঃখিত। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গানবাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। হাসনাতের দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়েছেন এবং সেখানকার আলেমওলামাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তব চিত্র তার থেকে আলাদা। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদরাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করেন তিনি। হাসনাত বলেন, ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট যে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। তাই এর অর্থ এই নয় যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। 

অন্যদিকে নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখের ক্ষেত্রে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপন বাফ্রেমিংনিয়ে সংসদে আরও বিস্তারিত বলা উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারণে তা বলার সুযোগ হয়নি বলে জানান। পোস্টের শেষাংশে জুলাইয়ের আদর্শের প্রতি নিজের ও দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছে, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ অন্যের ওপর নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা, সিনেমা উৎসবসবই থাকবে। যার যেটি পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে; আর যার পছন্দ নয়, সে সেখানে যাবে না। সরকারের দায়িত্ব হলো, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। হাসনাত বলেন, সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে এবং সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়। তিনি বলেন, জুলাই ছিল ধর্মবর্ণশ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ার আন্দোলন। সেই বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দোষ দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাসনাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত

আপডেট সময় ০২:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে নিয়ে সংসদে দেয়া বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমি দুঃখিত। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গানবাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। হাসনাতের দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়েছেন এবং সেখানকার আলেমওলামাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তব চিত্র তার থেকে আলাদা। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদরাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করেন তিনি। হাসনাত বলেন, ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট যে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। তাই এর অর্থ এই নয় যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। 

অন্যদিকে নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখের ক্ষেত্রে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপন বাফ্রেমিংনিয়ে সংসদে আরও বিস্তারিত বলা উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারণে তা বলার সুযোগ হয়নি বলে জানান। পোস্টের শেষাংশে জুলাইয়ের আদর্শের প্রতি নিজের ও দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছে, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ অন্যের ওপর নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা, সিনেমা উৎসবসবই থাকবে। যার যেটি পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে; আর যার পছন্দ নয়, সে সেখানে যাবে না। সরকারের দায়িত্ব হলো, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। হাসনাত বলেন, সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে এবং সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়। তিনি বলেন, জুলাই ছিল ধর্মবর্ণশ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ার আন্দোলন। সেই বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।