ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনার মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছে চীন ও ভারত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনে কোনো পরিস্থিতিতেই কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করতে মস্কোকে কঠোর বার্তা দিয়েছে বেইজিং।

এদিকে, আপাতত কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও জোরদারের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। পাল্টা হিসেবে রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন।

তেল শোধনাগারের পাশাপাশি বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদামও হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। ইউক্রেনের লক্ষ্য, রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করা।

তবে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে ইউক্রেন রাশিয়ায় হামলা চালানোয় এসব হামলাকে ন্যাটো সদস্যদের সরাসরি আক্রমণ হিসেবেই দেখছে মস্কো।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে গুরুত্ব না দিয়ে সম্প্রতি পুতিন অভিযোগ করেন, ইউক্রেনই ‘প্যান্ডোরাস বক্স’ খুলেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে ‘পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার’ হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ন্যাটোর কোনো সদস্যরাষ্ট্রে হামলা না চালাতে রাশিয়াকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বার্তা দিতে চলতি সপ্তাহে মস্কো সফর করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে ন্যাটোর কোনো সদস্যদেশের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে জোটটির প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে পারেন পুতিন।

তবে এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়াকে ঘিরে অনেক ‘ভীতিকর গল্প’ প্রচার করা হচ্ছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।