ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংকট কাটাতে আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে: চিফ হুইপ মহিলা বাস সার্ভিসে নারী চালক নিয়োগ, সরাসরি সাক্ষাৎকারে চাকরি হাসনাতের বক্তব্যে ইসলামি বক্তা মাদানীর ক্ষোভ, দিলেন কড়া বার্তা হাসনাত ভাই দুঃখপ্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ: রফিকুল ইসলাম মাদানী বন্যা মোকাবিলায় বিদেশি সহায়তার সিদ্ধান্ত বদলাল নেপাল ইরানকে দেশীয় উৎপাদনের ওপর ভরসা রাখার তাগিদ মোজতবা খামেনির তীব্র কূটনৈতিক চাপে বিদেশি বাহিনীকে উদ্ধার কাজের অনুমতি দিল নেপাল ৪০ কিলোমিটার যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্স, ঢাকায় নেওয়ার পথেই প্রাণ গেল রোগীর মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য!

তীব্র কূটনৈতিক চাপে বিদেশি বাহিনীকে উদ্ধার কাজের অনুমতি দিল নেপাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চলমান উদ্ধারকাজে বিদেশি বাহিনীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব নাকচ করার মাত্র ১২ ঘণ্টার মাথায় নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে দেশটির সরকার। তীব্র চাপের মুখে অবস্থান পরিবর্তন করে কাঠমুণ্ডু জানিয়েছে, নেপালের কিছু নির্দিষ্ট ও বিশেষ এলাকায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। এর আগে গত ২৬ আগস্ট বুধবার, নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং সীমান্তের ওপারে তিব্বতের গিরং জেলায় এক প্রলয়ংকরী বিপর্যয় নেমে আসে। মূলত ভোতকোশি এবং তার শাখানদী লেহন্দের একটি ব্যারিয়ার হ্রদ (তুষার, পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে পানির প্রবাহ আটকে তৈরি হওয়া অস্থায়ী জলাধার) ভেঙে পড়ায় এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। হ্রদটি ভেঙে যাওয়ার পর লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং সেই সাথে ধেয়ে আসা টনকে টন কাদা, পাথর ও জঞ্জাল দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন দুটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাকে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের হিসেব অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের জেরে শুধু নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন এবং চীনের তিব্বতে নিখোঁজ হয়েছেন ৫৫৮ জন। পানিতে ভেসে গিয়ে কিংবা বানের সঙ্গে আসা কাদাপাথরজঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন তারা। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতিদের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক আছেন। আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধারকাজে নেপালি উদ্ধারকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে চেয়ে কাঠমান্ডুকে প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ, কিন্তু কাঠমান্ডু সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেছিল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য যথেষ্ট দক্ষতা নেপালের উদ্ধারকারী বাহিনীর রয়েছে এবং এক্ষেত্রে বিদেশি কোনো উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।

শুক্রবার ২৮ আগস্ট দুপুরে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সহযোগিতার প্রস্তাব খুবই স্বাভাবিক। তবে আমাদের উদ্ধারকারী বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। এই মুহূর্তে আমাদের বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।তবে লোক বাহাদুর ছেত্রী এই বক্তব্য দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে জানান, সরকার তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে এবং নেপালের কিছু বিশেষ জায়গায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে।

কাঠমান্ডু পোস্টকে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অন্তত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং কিছু বিশেষজ্ঞকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য আমরা ব্যাপক চাপ পেয়েছি, কারণ বন্যায় তাদের নাগরিকরাও নিখোঁজ হয়েছেন। তবে আমরা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি।সূত্রকাঠামান্ডু পোস্ট

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

তীব্র কূটনৈতিক চাপে বিদেশি বাহিনীকে উদ্ধার কাজের অনুমতি দিল নেপাল

আপডেট সময় ১২:১৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চলমান উদ্ধারকাজে বিদেশি বাহিনীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব নাকচ করার মাত্র ১২ ঘণ্টার মাথায় নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে দেশটির সরকার। তীব্র চাপের মুখে অবস্থান পরিবর্তন করে কাঠমুণ্ডু জানিয়েছে, নেপালের কিছু নির্দিষ্ট ও বিশেষ এলাকায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। এর আগে গত ২৬ আগস্ট বুধবার, নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং সীমান্তের ওপারে তিব্বতের গিরং জেলায় এক প্রলয়ংকরী বিপর্যয় নেমে আসে। মূলত ভোতকোশি এবং তার শাখানদী লেহন্দের একটি ব্যারিয়ার হ্রদ (তুষার, পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে পানির প্রবাহ আটকে তৈরি হওয়া অস্থায়ী জলাধার) ভেঙে পড়ায় এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। হ্রদটি ভেঙে যাওয়ার পর লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং সেই সাথে ধেয়ে আসা টনকে টন কাদা, পাথর ও জঞ্জাল দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন দুটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাকে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের হিসেব অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের জেরে শুধু নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন এবং চীনের তিব্বতে নিখোঁজ হয়েছেন ৫৫৮ জন। পানিতে ভেসে গিয়ে কিংবা বানের সঙ্গে আসা কাদাপাথরজঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন তারা। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতিদের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক আছেন। আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধারকাজে নেপালি উদ্ধারকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে চেয়ে কাঠমান্ডুকে প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ, কিন্তু কাঠমান্ডু সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেছিল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য যথেষ্ট দক্ষতা নেপালের উদ্ধারকারী বাহিনীর রয়েছে এবং এক্ষেত্রে বিদেশি কোনো উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।

শুক্রবার ২৮ আগস্ট দুপুরে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সহযোগিতার প্রস্তাব খুবই স্বাভাবিক। তবে আমাদের উদ্ধারকারী বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। এই মুহূর্তে আমাদের বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।তবে লোক বাহাদুর ছেত্রী এই বক্তব্য দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে জানান, সরকার তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে এবং নেপালের কিছু বিশেষ জায়গায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে।

কাঠমান্ডু পোস্টকে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অন্তত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং কিছু বিশেষজ্ঞকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য আমরা ব্যাপক চাপ পেয়েছি, কারণ বন্যায় তাদের নাগরিকরাও নিখোঁজ হয়েছেন। তবে আমরা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি।সূত্রকাঠামান্ডু পোস্ট