চোট নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে ব্রাজিল। সেলেসাওদের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় নেইমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই আছেন।
ব্রাজিল দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নেইমারকে ঘিরে আলোচনা বাড়ছিল। সান্তোস ফরোয়ার্ড চোট নিয়েই জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তার ক্লাব চোটকে সাধারণ ফোলা বা ‘ওডিমা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও জাতীয় দলের মেডিকেল পরীক্ষায় ডান পায়ের কাফে গ্রেড টু মাংসপেশির চোট ধরা পড়ে।
তবে চোটের কারণে নেইমারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার কোনো ভাবনা নেই আনচেলত্তির। তেরেসোপোলিসে ব্রাজিল দলের ক্যাম্প থেকে তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলছি, নেইমার আমাদের সঙ্গেই থাকবে। আমরা মনে করি, প্রথম ম্যাচের জন্য সে সেরে উঠতে পারে। আর তা না হলে দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য।’
ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরু করবে ১৪ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। নেইমার সেই ম্যাচে পুরোপুরি প্রস্তুত না হলে দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে তাকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচ হাইতির বিপক্ষে।
আনচেলত্তি আরও জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। পানামা ও মিসরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নেইমারকে বিশ্রামে রাখা হবে। এই সময় তিনি আলাদাভাবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন।
নেইমারকে দলে রাখার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আনচেলত্তি। তার ভাষায়, ‘ওকে ডাকা হয়েছে কারণ তাকে ডাকতেই হতো। আমরা মনে করি, নেইমার যত দ্রুত সম্ভব সেরে উঠবে। সে ভালোভাবে কাজ করছে, মানসিকভাবেও ভালো অবস্থায় আছে।’
শুধু শারীরিক ফিটনেস নয়, নেইমারের ভূমিকা নিয়েও আলাদা করে কাজ করছেন আনচেলত্তি। বিশ্বকাপে তাকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে ব্রাজিলের ১০ নম্বর তারকার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমে নেইমারের ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আনচেলত্তির বিশ্বাস, দায়িত্বটা তিনি বুঝেছেন।
ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে তাকে কী ভূমিকা পালন করতে হবে, নেইমার সেটা খুব ভালোভাবে বুঝেছে। প্রতিদিন সে ভালো করছে। দ্রুত সেরে ওঠার জন্য ভালোভাবে কাজ করছে।’
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের জন্য এই বিশ্বকাপ হতে পারে আরেকটি বড় সুযোগ। দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করা এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে সংশয় থাকলেও আনচেলত্তির বার্তা পরিষ্কার, সম্পূর্ণ ফিট হতে সময় লাগলেও বিশ্বকাপ পরিকল্পনা থেকে নেইমারকে সরাচ্ছে না ব্রাজিল।
এখন ব্রাজিলের অপেক্ষা একটাই, মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে নেইমার কতটা প্রস্তুত হতে পারেন। না হলে হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেই তাকে মাঠে ফেরানোর লক্ষ্য থাকবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















