জাহিদ শিকদার, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফলে ফেরিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনায় ইজারা বাতিল করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। চার গুণেরও বেশি ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পেয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তারা। ওই ফেরিতে প্রতিদিন সহস্রাধিক যানবাহন পারাপার হয়। সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
সওজ সূত্রে জানা যায়, বাস-মিনিবাসের জন্য নির্ধারিত ৪৫ ও ২৫ টাকার পরিবর্তে ৩০০ ও ২০০ টাকা, ভাড়ি ট্রাকের ১০০ টাকার জায়গায় ৫০০ টাকা এবং প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের জন্য ১৫ ও ২৫ টাকার স্থলে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন ইজারাদাররা। এমনকি মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যান থেকেও দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সড়ক বিভাগে মৌখিক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এনসিপি যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন। প্রথমে ইজারাদারকে সংশোধের জন্য তিন বার নোটিশ করেন এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।
নোটিশের কোনো জবাব দেয়নি ইজারাদার, পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর গঠিন তদন্ত কমিটি সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পায়৷ অন্যদিকে উপদেষ্টার নির্দেশে সওজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আরেকটা তদন্ত কমিটি করে। দুই দফা তদন্তেই অভিযোগের সত্যতা মেলার পরপরই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সওজ।
অভিযুক্ত ইজারাদার শিবু লাল দাস মুঠোফোনে বলেন, আমার সাথে অন্যায় হয়েছে। আগের ইজারাদার যেভাবে ভাড়া নিতেন, আমিও তাই নিয়েছি। এখন উচ্চ আদালতে আছি, আশা করছি পুনরায় ডাক ফিরে পাবো। ভাড়া কমানোর বিষয় তার ইচ্ছা নেই, সরকার ভুল ভাড়া নির্ধারণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইজারাদারকে সংশোধনের জন্য তিনবার চিঠি দেওয়া পরে কারণ দর্শাতেও বলা হয়। চিফ ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশেও আরেকটি তদন্ত টিম পাঠানো হয়। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তর থেকে চিঠি পেয়ে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আক্তার লিমন।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















