ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নির্যাতনে বিএনপি আগের স্বৈরাচারকে ছাড়িয়ে যেতে চাইছে: সারজিস আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে লতিফ সিদ্দিকী তারেক রহমান এখন শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন: সারজিস আলম ভারত সব দলকে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে, একটি দলকে পারেনি: জামায়াত আমির কুড়িগ্রামে এনসিপির প্রতিবাদ মিছিলে হামলা প্রধানমন্ত্রীর হাতে রক্তমাখা জাতীয় পতাকা তুলে দিলেন জুলাইযোদ্ধা শেখ আজিজুর গাজা গণহত্যায় ইসরাইলকে অস্ত্র দিচ্ছে ভারত, অ্যামনেস্টির বিস্ফোরক দাবি! বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কোন্নয়নে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং আরও তিনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এ দাবি জানায়।

 

ইরান ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে আল-আজরাক বিমানঘাঁটির বিমান পার্কিং এলাকা এবং একটি রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। আইআরজিসির দাবি, হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীও নিহত হয়েছেন।

 

 

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজও আইআরজিসির বরাতে একই দাবি প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি। স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এখনো এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের মূল্য কনফিগারেশন ও ক্রয়চুক্তির ধরন অনুযায়ী ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। সে হিসাবে তিনটি যুদ্ধবিমান সত্যিই ধ্বংস হয়ে থাকলে কেবল বিমানগুলোর আর্থিক মূল্যই ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হবে।

 

এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা ব্যাপক বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা অবস্থান।

 

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।

চলমান সংঘাতের প্রভাব ইরান ও জর্ডানের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও পড়তে শুরু করেছে। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের নিক্ষেপ করা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, ইরানের হামলায় একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।

 

কেন গুরুত্বপূর্ণ এফ-৩৫ লাইটনিং-২?

 

এফ-৩৫ লাইটনিং-২ বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক বহুমুখী স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলোর অন্যতম। শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে গভীর এলাকায় অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

 

স্টেলথ প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর ফিউশন এবং অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে এফ-৩৫ একই সঙ্গে লক্ষ্য শনাক্ত, অনুসরণ এবং হামলা চালাতে পারে। পাশাপাশি এটি মিত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে আদান-প্রদানের সুবিধাও দেয়।

 

প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির এফ-১৩৫ ইঞ্জিনচালিত এই যুদ্ধবিমান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মাক ১.৬ গতিতে উড়তে সক্ষম। এতে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বিভিন্ন ধরনের বোমা বহনের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে এফ-৩৫ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোতে হামলা, শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা এবং পরবর্তী বিমান অভিযানের পথ সুগম করতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্যাতনে বিএনপি আগের স্বৈরাচারকে ছাড়িয়ে যেতে চাইছে: সারজিস

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের

আপডেট সময় ০৯:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং আরও তিনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এ দাবি জানায়।

 

ইরান ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে আল-আজরাক বিমানঘাঁটির বিমান পার্কিং এলাকা এবং একটি রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। আইআরজিসির দাবি, হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীও নিহত হয়েছেন।

 

 

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজও আইআরজিসির বরাতে একই দাবি প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি। স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এখনো এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের মূল্য কনফিগারেশন ও ক্রয়চুক্তির ধরন অনুযায়ী ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। সে হিসাবে তিনটি যুদ্ধবিমান সত্যিই ধ্বংস হয়ে থাকলে কেবল বিমানগুলোর আর্থিক মূল্যই ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হবে।

 

এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা ব্যাপক বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা অবস্থান।

 

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।

চলমান সংঘাতের প্রভাব ইরান ও জর্ডানের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও পড়তে শুরু করেছে। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের নিক্ষেপ করা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, ইরানের হামলায় একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।

 

কেন গুরুত্বপূর্ণ এফ-৩৫ লাইটনিং-২?

 

এফ-৩৫ লাইটনিং-২ বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক বহুমুখী স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলোর অন্যতম। শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে গভীর এলাকায় অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

 

স্টেলথ প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর ফিউশন এবং অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে এফ-৩৫ একই সঙ্গে লক্ষ্য শনাক্ত, অনুসরণ এবং হামলা চালাতে পারে। পাশাপাশি এটি মিত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে আদান-প্রদানের সুবিধাও দেয়।

 

প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির এফ-১৩৫ ইঞ্জিনচালিত এই যুদ্ধবিমান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মাক ১.৬ গতিতে উড়তে সক্ষম। এতে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বিভিন্ন ধরনের বোমা বহনের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে এফ-৩৫ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোতে হামলা, শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা এবং পরবর্তী বিমান অভিযানের পথ সুগম করতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হচ্ছে।