ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে ১৮ বছর পর ঘরে ফেরা আলমগীর, ততদিনে মৃত ভেবে মিলাদ-দোয়া, স্ত্রীর নতুন সংসার নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নিহত ৩, কারফিউ জারি ইরানের হামলায় কুয়েতে চীনা কোম্পানির ভবন ক্ষতিগ্রস্ত, নিরাপদ নাগরিকরা ছাত্রদলের মামলায় সারজিসের মন্তব্য, ‘সেই পুরোনো অভ্যাস’ বান্দরবানে পাহাড়ের খাদে মিলল দুই পর্যটকের লাশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে জবাব পাবে দুই দেশ: ইরান এনসিপির ওপর হামলা নিয়ে মুখ খুললেন সামান্তা শারমিন ব্রিটিশ ফুটবলে রেকর্ড ইহুদিবিদ্বেষ, অভিযোগ বেড়েছে ৪৩% বাংলাদেশিদের ভিসা দ্রুত স্বাভাবিকের তাগিদ ভারতের কমিটির

আসেনি বাবা-মা, নিজের বন্ডে নিজেই সই করলেন আহত আলিফ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

এবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে গত ২৮ জুলাই হামলার ঘটনায় চোখে রডের আঘাতে গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরী (১৯) এক চোখের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। তবে অপারেশনের আগে তার বাবামা বা অন্য কোনো অভিভাবক না আসায় নিজেকেই নিজের অপারেশনের বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয় আলিফকে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) সম্পন্ন হওয়া এ অপারেশনের পরও তার আঘাতপ্রাপ্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির সহযোগী সংগঠন নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে তিনি লিখেন, আলিফের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। একটা চোখ চিরতরে আলো হারালো। ডান চোখটা ভালো আছে। এখন পোস্ট অপারেটিভ অবজারভেশনে থাকবে।

ওদিকে অপারেশনের আগে দেওয়া এক পোস্টে মনিরা শারমিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, আলিফকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেল। বন্ড সই করতে হবে। ওরা মা বাবা কেউ আসে নাই। ও নিজেই নিজের অভিভাবক। বন্ডে লেখা, বাম চোখের ইনজুরি আছে। দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা আছে। অপারেশন করতে কি রাজি? আমি ভয় পাচ্ছিলাম। তখন পর্যন্ত সে জানে না তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা আছে। জানলে মন দুর্বল করে কিনা? কিন্তু লিগ্যাল বিষয়, জানাতেই হবে।

নারীশক্তির এ নেত্রী আরও বলেছিলেন, সে জানার পর বলল, কোথায় সই করতে হবে? দেন। আমি ভয় পাচ্ছি না। হাসনাত, আসিফ ভাই যারাই দেখা করতে চাইছে, তাদের অপারেশনের পর দেখা করতে বইলেন, যাতে ভালভাবে দেখতে পাই। সবশেষে মনিরা শারমিন লিখেছিলেন, ছেলেটার ব্যক্তিত্বের কঠোরতার কাছে হেরে গেলাম। পাহাড়সম সাহস ছেলেটার। খোদা, চিকিৎসাবিজ্ঞান যাতে ভুল হয়। তার দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি থাকুক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে

আসেনি বাবা-মা, নিজের বন্ডে নিজেই সই করলেন আহত আলিফ

আপডেট সময় ০৪:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

এবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে গত ২৮ জুলাই হামলার ঘটনায় চোখে রডের আঘাতে গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরী (১৯) এক চোখের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। তবে অপারেশনের আগে তার বাবামা বা অন্য কোনো অভিভাবক না আসায় নিজেকেই নিজের অপারেশনের বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয় আলিফকে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) সম্পন্ন হওয়া এ অপারেশনের পরও তার আঘাতপ্রাপ্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির সহযোগী সংগঠন নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে তিনি লিখেন, আলিফের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। একটা চোখ চিরতরে আলো হারালো। ডান চোখটা ভালো আছে। এখন পোস্ট অপারেটিভ অবজারভেশনে থাকবে।

ওদিকে অপারেশনের আগে দেওয়া এক পোস্টে মনিরা শারমিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, আলিফকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেল। বন্ড সই করতে হবে। ওরা মা বাবা কেউ আসে নাই। ও নিজেই নিজের অভিভাবক। বন্ডে লেখা, বাম চোখের ইনজুরি আছে। দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা আছে। অপারেশন করতে কি রাজি? আমি ভয় পাচ্ছিলাম। তখন পর্যন্ত সে জানে না তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা আছে। জানলে মন দুর্বল করে কিনা? কিন্তু লিগ্যাল বিষয়, জানাতেই হবে।

নারীশক্তির এ নেত্রী আরও বলেছিলেন, সে জানার পর বলল, কোথায় সই করতে হবে? দেন। আমি ভয় পাচ্ছি না। হাসনাত, আসিফ ভাই যারাই দেখা করতে চাইছে, তাদের অপারেশনের পর দেখা করতে বইলেন, যাতে ভালভাবে দেখতে পাই। সবশেষে মনিরা শারমিন লিখেছিলেন, ছেলেটার ব্যক্তিত্বের কঠোরতার কাছে হেরে গেলাম। পাহাড়সম সাহস ছেলেটার। খোদা, চিকিৎসাবিজ্ঞান যাতে ভুল হয়। তার দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি থাকুক।