ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, প্রতিরোধের পূর্ণ প্রস্তুতিতে ইরান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের হাজার হাজার সৈন্য রক্ত দিয়ে গেছে: ফজলুর রহমান ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে শিশু হত্যা মামলা হওয়া প্রয়োজন: আইনজীবী সুব্রত ভুয়া বিল দেখিয়ে ৬৪ লাখ টাকা নিয়েছেন উপদেষ্টা ফারুকী: মাসুদ কামাল আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়, রাজা চার্লসও আমার সঙ্গে একমত: ট্রাম্প গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ বজ্রাঘাতে কোল থেকে ছিটকে পড়ে ছোট্ট সাফিয়া, প্রাণ গেল বাবার চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা

শহিদের মা তো জাতির মা, আমারও মা, কিছু শ্রেণির ইতর এটা নিয়ে বুলিং শুরু করেছে: জামায়াতে আমির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে

শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে চলমান সমালোচনার জবাব দেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, আজকে আমি শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার এক পর্যায়ে এক শহিদের মা আমাকে আবেগপ্রবণ হয়ে জড়িয়ে ধরে। আমি তো তাকে ছুড়ে মারতে পারি না। শহিদের মা তো জাতির মা, আমার মা। কিন্তু এক শ্রেণির ইতর এটা নিয়ে বুলিং শুরু করেছে। তাদের কি ঘরে কি মা বোন নেই? প্রশ্ন রাখেন ডা. শফিকুর রহমান।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় ফেনীতে জুলাই আন্দোলনের শহিদ পরিবার ও আহতদের জন্য বিশেষ স্থানে পৃথক বসার ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার সকালে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির শহিদ পরিবার ও আহতদের খোঁজখবর নিতে তাদের কাছে যান।

এ সময় এক শহিদ জননী ডা. শফিকুর রহমানকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। এতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। আশপাশে উপস্থিত জামায়াতের নেতাকর্মীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অন্য শহিদ জননী ও স্বজনরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। ফেনীতে নির্বাচনি জনসবায় জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে, সেই সংস্কৃতির ধারা আমরা পাল্টে দিতে চাই।

তিনি বলেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। আমাদের কাছে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই সমান। আমরা তাদের সবার অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ইনশা আল্লাহ এই কাজে কেউ বাধা দিয়ে আমাদের আটকাতে পারবে না।

দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে ইঙ্গিত করে জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আমরা মাথা গরম দেখতে পাচ্ছি। শীতের দিনে মাথা গরম করলে, চৈত্র মাসে কী করবেন? একটু মাথাটা ঠান্ডা রাখেন। একটু জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করেন, এতগুলো শহিদের প্রতি একটু শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুলির সামনে যারা বুক পেতে দিয়েছিল, তাদের সম্মান করুন। সেই সম্মানটা করলে মাথা গরমের কোনও সুযোগ নেই।

নারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু কিছু জায়গায় মা-বোনদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে। আমরা তাদের অতি বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান জানাব, মা-বোন আপনাদেরও রয়েছে। নিজেদের মা-বোনকে সম্মান করুন, তাহলে বাংলার সবগুলা মা ও বোনকে আপনি সম্মান করতে পারবেন। ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে ভোট চেয়ে জামায়াতের আমির বলেন, দাঁড়িপাল্লার মার্কা হচ্ছে স্বাধীনতা রক্ষার মার্কা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মার্কা। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মার্কা। এর পক্ষে গোটা দেশে একদম চাষ করে ফেলতে হবে। একটা মানুষও বাদ যাবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

শহিদের মা তো জাতির মা, আমারও মা, কিছু শ্রেণির ইতর এটা নিয়ে বুলিং শুরু করেছে: জামায়াতে আমির

আপডেট সময় ১১:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে চলমান সমালোচনার জবাব দেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, আজকে আমি শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার এক পর্যায়ে এক শহিদের মা আমাকে আবেগপ্রবণ হয়ে জড়িয়ে ধরে। আমি তো তাকে ছুড়ে মারতে পারি না। শহিদের মা তো জাতির মা, আমার মা। কিন্তু এক শ্রেণির ইতর এটা নিয়ে বুলিং শুরু করেছে। তাদের কি ঘরে কি মা বোন নেই? প্রশ্ন রাখেন ডা. শফিকুর রহমান।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় ফেনীতে জুলাই আন্দোলনের শহিদ পরিবার ও আহতদের জন্য বিশেষ স্থানে পৃথক বসার ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার সকালে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির শহিদ পরিবার ও আহতদের খোঁজখবর নিতে তাদের কাছে যান।

এ সময় এক শহিদ জননী ডা. শফিকুর রহমানকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। এতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। আশপাশে উপস্থিত জামায়াতের নেতাকর্মীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অন্য শহিদ জননী ও স্বজনরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। ফেনীতে নির্বাচনি জনসবায় জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে, সেই সংস্কৃতির ধারা আমরা পাল্টে দিতে চাই।

তিনি বলেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। আমাদের কাছে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই সমান। আমরা তাদের সবার অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ইনশা আল্লাহ এই কাজে কেউ বাধা দিয়ে আমাদের আটকাতে পারবে না।

দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে ইঙ্গিত করে জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আমরা মাথা গরম দেখতে পাচ্ছি। শীতের দিনে মাথা গরম করলে, চৈত্র মাসে কী করবেন? একটু মাথাটা ঠান্ডা রাখেন। একটু জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করেন, এতগুলো শহিদের প্রতি একটু শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুলির সামনে যারা বুক পেতে দিয়েছিল, তাদের সম্মান করুন। সেই সম্মানটা করলে মাথা গরমের কোনও সুযোগ নেই।

নারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু কিছু জায়গায় মা-বোনদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে। আমরা তাদের অতি বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান জানাব, মা-বোন আপনাদেরও রয়েছে। নিজেদের মা-বোনকে সম্মান করুন, তাহলে বাংলার সবগুলা মা ও বোনকে আপনি সম্মান করতে পারবেন। ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে ভোট চেয়ে জামায়াতের আমির বলেন, দাঁড়িপাল্লার মার্কা হচ্ছে স্বাধীনতা রক্ষার মার্কা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মার্কা। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মার্কা। এর পক্ষে গোটা দেশে একদম চাষ করে ফেলতে হবে। একটা মানুষও বাদ যাবে না।