ঢাকা , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, ইরান বলল ‘হাস্যকর’ এবার আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের সবার সঙ্গে সম্পর্কের দরজা খোলা রেখে বাণিজ্যিক-সামরিক চুক্তিতে যেতে হবে: ওমরাহ শেষে দেশে ফিরে আসিফ মাহমুদ বাংলাদেশকে প্রায় সাড়ে ২৯ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক পরিদর্শনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী: অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আগেই দেয়া আছে হাজিরা সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে মরিয়া প্রশাসন: বিএনপির সংসদ সদস্য বরের গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নিয়ে গেল যুবক নেপাল-তিব্বতে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ ৪৮০০ শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল ইসলামকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বললেন হিন্দু মন্ত্রী, ক্ষমা চাইতে বললো বিজেপি

সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে মরিয়া প্রশাসন: বিএনপির সংসদ সদস্য

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

এবার লক্ষ্ণীপুর (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে টানা ৩২ ঘণ্টার এক ভয়াবহ যানজটে অচল হয়ে পড়েছিল পথঘাট। এই দীর্ঘ যানজটে আটকে প্রাণ হারিয়েছেন রোগী, আবার ফ্লাইট মিসের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অসংখ্য প্রবাসীকর্মী। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকলে তাতে চরম সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতাহীনতার চিত্র ফুটে ওঠে।

তিনি লেখেন, ‘গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টার এক তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে পথঘাট। এতে সাধারণ যাত্রীরা এক অবর্ণনীয় ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন। এই দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্সে আটকা পড়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, আর সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে অনেক প্রবাসী মিস করেন তাদের নির্ধারিত উড়োজাহাজ।

এমপি লেখেন, ‘এই দুঃখজনক জনদুর্ভোগের প্রেক্ষিতে, জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ (সম্প্রতি কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উন্নয়ন সমন্বয়নয়ক হিসাব দায়িত্বপ্রাপ্ত) জনাব এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান মহোদয় এক জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করেন।ভয়াবহ যানজট, রোগীর মৃত্যু, প্রবাসীদের বিমান মিস ও চরম যাত্রী দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে তিনি কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি, হাইওয়ে পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সাথে একটি জুম মিটিং আহ্বান করেন।

মাননীয় হুইপ মহোদয়ের পাশে বসে পুরো মিটিংটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময় ও চরম হতাশার সাথে লক্ষ্য করলামএত বড় একটি ঘটনা ও মানুষের অসীম দুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা ছিল না। এমনকি সেতু সংস্কার কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের এসপি কিংবা কুমিল্লার ডিসির মধ্যে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। কর্মকর্তা পর্যায়ে এমন চরম সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতাহীনতা সত্যিই উদ্বেগজনক।শাহাদাত হোসেন সেলিম লেখেন, ‘পরিস্থিতি দেখে মাননীয় হুইপ মহোদয় চরম ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, সেতু সংস্কারের আগে আগাম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। সংবাদপত্র, টিভি স্ক্রল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগে থেকে প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

পরবর্তীতে তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার কোনো ইতিবাচক মনোভাব আমি দেখতে পাইনি।ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, ইরান বলল ‘হাস্যকর’

সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে মরিয়া প্রশাসন: বিএনপির সংসদ সদস্য

আপডেট সময় ০১:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

এবার লক্ষ্ণীপুর (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে টানা ৩২ ঘণ্টার এক ভয়াবহ যানজটে অচল হয়ে পড়েছিল পথঘাট। এই দীর্ঘ যানজটে আটকে প্রাণ হারিয়েছেন রোগী, আবার ফ্লাইট মিসের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অসংখ্য প্রবাসীকর্মী। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকলে তাতে চরম সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতাহীনতার চিত্র ফুটে ওঠে।

তিনি লেখেন, ‘গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টার এক তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে পথঘাট। এতে সাধারণ যাত্রীরা এক অবর্ণনীয় ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন। এই দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্সে আটকা পড়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, আর সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে অনেক প্রবাসী মিস করেন তাদের নির্ধারিত উড়োজাহাজ।

এমপি লেখেন, ‘এই দুঃখজনক জনদুর্ভোগের প্রেক্ষিতে, জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ (সম্প্রতি কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উন্নয়ন সমন্বয়নয়ক হিসাব দায়িত্বপ্রাপ্ত) জনাব এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান মহোদয় এক জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করেন।ভয়াবহ যানজট, রোগীর মৃত্যু, প্রবাসীদের বিমান মিস ও চরম যাত্রী দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে তিনি কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি, হাইওয়ে পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সাথে একটি জুম মিটিং আহ্বান করেন।

মাননীয় হুইপ মহোদয়ের পাশে বসে পুরো মিটিংটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময় ও চরম হতাশার সাথে লক্ষ্য করলামএত বড় একটি ঘটনা ও মানুষের অসীম দুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা ছিল না। এমনকি সেতু সংস্কার কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের এসপি কিংবা কুমিল্লার ডিসির মধ্যে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। কর্মকর্তা পর্যায়ে এমন চরম সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতাহীনতা সত্যিই উদ্বেগজনক।শাহাদাত হোসেন সেলিম লেখেন, ‘পরিস্থিতি দেখে মাননীয় হুইপ মহোদয় চরম ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, সেতু সংস্কারের আগে আগাম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। সংবাদপত্র, টিভি স্ক্রল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগে থেকে প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

পরবর্তীতে তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার কোনো ইতিবাচক মনোভাব আমি দেখতে পাইনি।ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।