ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘তারেক রহমান ভারতে না এলে সুযোগ হারাবে, বন্ধ হতে পারে যোগাযোগের পথ’ মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপন করায় পরিবহনে চাঁদাবাজি কমে আসবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম আমরা টহল দেওয়া শুরু করলে অনেক এলাকা থেকে জামায়াত-শিবির নাই হয়ে যাবে: নুর বলিউড সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না: পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ভারতজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়, আইএসআই সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক শত শত ইরান চুক্তিতে বাধা দিলে ওমানে ‘বোমা হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ট্যাক্সি চালক নেবে দুবাই, মানতে হবে ৩ শর্ত বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ট্যাক্সিচালক নেবে দুবাই, মানতে হবে যেসব শর্ত

মোমবাতি হাতে, ঠোঁটে প্রার্থনা—গারো পাহাড়ে ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসবে ভক্তদের ঢল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫০৮ বার পড়া হয়েছে

হাতে মোমবাতি, ঠোঁটে প্রার্থনার সুর—এভাবেই দুই কিলোমিটারেরও বেশি আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ পাড়ি দিলেন হাজারো ভক্ত। গন্তব্য ছিল মা মারিয়ার আশীর্বাদপুষ্ট স্থান—শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ‘বারোমারি সাধু লিওর খ্রিষ্টধর্মপল্লি’

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ‘ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসব’, যা শেষ হবে আজ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর)। দুই দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবে শুধু ক্যাথলিক খ্রিষ্টানই নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষও প্রতিবছর অংশ নেন। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবারে এ তীর্থযাত্রার আয়োজন করা হয়।

বিকেল চারটায় পবিত্র খ্রিষ্টযোগের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রাত সাড়ে আটটায় ছিল আলোক শোভাযাত্রা, আর রাত ১১টায় মা মারিয়ার মূর্তিকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয় আরাধনা। রাত ১২টায় নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশিজাগরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের কার্যক্রম।

আজ শুক্রবার সকাল আটটায় ‘জীবন্ত ক্রুশের পথ’ অতিক্রম ও সকাল ১০টায় মহাখ্রিষ্টযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের তীর্থোৎসব। উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত কেভিন এস. র‌্যান্ডেল। উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান ও পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম

১৯৪২ সালে ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বারোমারি সাধু লিওর ধর্মপল্লি। ১৯৯৮ সালে প্রয়াত বিশপ ফ্রান্সিস এ. গোমেজ স্থানটিকে ‘ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর ধর্মীয় উৎসবটি আয়োজন হয়ে আসছে।

এ বছর প্রায় ৩০–৪০ হাজার দেশি-বিদেশি তীর্থযাত্রী অংশ নিয়েছেন উৎসবে। পুরো এলাকা ভরে উঠেছিল আলো, প্রার্থনা ও শান্তির আবহে।

খাগড়াছড়ি থেকে আসা তীর্থযাত্রী জুয়েল ত্রিপুরা বলেন, “আমি প্রথমবারের মতো এখানে এসেছি। খুব ভালো লাগছে, পরেরবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসব।”
মুক্তাগাছার কারিশমা চাম্বুগং বলেন, “মা মারিয়ার কাছে এলে মনে একধরনের শান্তি পাই। আমরা প্রার্থনা করি যেন জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়।”
গাজীপুরের শিক্ষার্থী ঝর্ণা আরেং বলেন, “যখন সবাই মোমবাতি হাতে প্রার্থনা করতে করতে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করছিলেন, তখন পুরো পাহাড় আলোকিত হয়ে উঠেছিল।”

সাধু লিওর ধর্মপল্লির পাল পুরোহিত ও তীর্থোৎসব কমিটির আহ্বায়ক তরুণ বনোয়ারি বলেন, “ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ তীর্থে দেশ-বিদেশের হাজারো মানুষ একত্রিত হয়েছেন। মা ফাতেমা রানীর কাছে দেশ ও মানবজাতির কল্যাণে প্রার্থনা শেষে তাঁরা নিজ নিজ বাড়ি ফিরবেন।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তারেক রহমান ভারতে না এলে সুযোগ হারাবে, বন্ধ হতে পারে যোগাযোগের পথ’

মোমবাতি হাতে, ঠোঁটে প্রার্থনা—গারো পাহাড়ে ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসবে ভক্তদের ঢল

আপডেট সময় ০২:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

হাতে মোমবাতি, ঠোঁটে প্রার্থনার সুর—এভাবেই দুই কিলোমিটারেরও বেশি আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ পাড়ি দিলেন হাজারো ভক্ত। গন্তব্য ছিল মা মারিয়ার আশীর্বাদপুষ্ট স্থান—শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ‘বারোমারি সাধু লিওর খ্রিষ্টধর্মপল্লি’

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ‘ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসব’, যা শেষ হবে আজ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর)। দুই দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবে শুধু ক্যাথলিক খ্রিষ্টানই নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষও প্রতিবছর অংশ নেন। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবারে এ তীর্থযাত্রার আয়োজন করা হয়।

বিকেল চারটায় পবিত্র খ্রিষ্টযোগের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রাত সাড়ে আটটায় ছিল আলোক শোভাযাত্রা, আর রাত ১১টায় মা মারিয়ার মূর্তিকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয় আরাধনা। রাত ১২টায় নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশিজাগরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের কার্যক্রম।

আজ শুক্রবার সকাল আটটায় ‘জীবন্ত ক্রুশের পথ’ অতিক্রম ও সকাল ১০টায় মহাখ্রিষ্টযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের তীর্থোৎসব। উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত কেভিন এস. র‌্যান্ডেল। উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান ও পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম

১৯৪২ সালে ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বারোমারি সাধু লিওর ধর্মপল্লি। ১৯৯৮ সালে প্রয়াত বিশপ ফ্রান্সিস এ. গোমেজ স্থানটিকে ‘ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর ধর্মীয় উৎসবটি আয়োজন হয়ে আসছে।

এ বছর প্রায় ৩০–৪০ হাজার দেশি-বিদেশি তীর্থযাত্রী অংশ নিয়েছেন উৎসবে। পুরো এলাকা ভরে উঠেছিল আলো, প্রার্থনা ও শান্তির আবহে।

খাগড়াছড়ি থেকে আসা তীর্থযাত্রী জুয়েল ত্রিপুরা বলেন, “আমি প্রথমবারের মতো এখানে এসেছি। খুব ভালো লাগছে, পরেরবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসব।”
মুক্তাগাছার কারিশমা চাম্বুগং বলেন, “মা মারিয়ার কাছে এলে মনে একধরনের শান্তি পাই। আমরা প্রার্থনা করি যেন জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়।”
গাজীপুরের শিক্ষার্থী ঝর্ণা আরেং বলেন, “যখন সবাই মোমবাতি হাতে প্রার্থনা করতে করতে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করছিলেন, তখন পুরো পাহাড় আলোকিত হয়ে উঠেছিল।”

সাধু লিওর ধর্মপল্লির পাল পুরোহিত ও তীর্থোৎসব কমিটির আহ্বায়ক তরুণ বনোয়ারি বলেন, “ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ তীর্থে দেশ-বিদেশের হাজারো মানুষ একত্রিত হয়েছেন। মা ফাতেমা রানীর কাছে দেশ ও মানবজাতির কল্যাণে প্রার্থনা শেষে তাঁরা নিজ নিজ বাড়ি ফিরবেন।”