ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা জাকসুর সিলেট সীমান্তে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করলো বিজিবি রাঙামাটিতে গাড়ির কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মিলবে চালকের সব তথ্য অন্যায় দেখলে ইস্পাতের মতো কঠিন হবো: জামায়াত আমীর হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের সাতটি পাসপোর্টসহ সীমান্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি আটক পশ্চিমবঙ্গে যারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছে তাদের ছাড়া হবে না: শুভেন্দু ‘গুপ্ত গুপ্ত’ স্লোগান ব্যঙ্গ করে প্রচারণায় শিবির, সেলফিতে মাতলেন নবীন শিক্ষার্থীরা আমরা শুধু আছি ভারতকে নিয়ে আর ভারত আছে আমাদের নিয়ে: ফজলুর রহমান ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা নিয়ে অসন্তোষ ডেপুটি স্পিকার

পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ, বাকবিতণ্ডা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৫১৫ বার পড়া হয়েছে

এবার মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যবই থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটি (এনসিসি)। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ভাষণ কাটছাঁট করে সংক্ষিপ্ত রূপে পাঠ্যবইয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আয়োজিত সভায় ৭ মার্চের ভাষণ রাখা-না রাখা নিয়ে কিছুটা বাকবিতণ্ডাও হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় অংশ নেওয়া জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এনসিটিবির পক্ষ থেকে সভায় পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পুস্তক পর্যালোচনায় জড়িত শ্রেণি শিক্ষকরাও বই থেকে এ ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

তবে সভায় উপস্থিত শিক্ষা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে তারা ভাষণ রেখে সংক্ষিপ্ত করার পক্ষে মতামত দেন। এ নিয়ে সভায় কিছুটা বাকবিতণ্ডাও হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে ভাষণ রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলন নিয়ে লিখিত ‘আমাদের নতুন গৌরব গাঁথা’ প্রবন্ধে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরার অভিযোগ করেন কয়েকজন সদস্য। পাশাপাশি নৃশংস গণহত্যার ইতিহাস থেকে কৌশলে শেখ হাসিনার নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তোলেন তারা। পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়, প্রবন্ধটি সংশোধন করা হবে এবং সেখানে গণহত্যাকারী হিসেবে শেখ হাসিনার নাম আনা হবে।

এদিকে বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, সভায় এনসিটিবির চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যবইয়ে রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। তারা এ ভাষণকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে পাঠ্যবইয়ে রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের আরেকটি পক্ষ তুমুল বিরোধিতা করলেও সেটি টেকেনি। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অষ্টম ও দ্বাদশ শ্রেণির বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী সোমবার রাত ১০টার দিকে বলেন, মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে আগেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল। এটি সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও একাদশ শ্রেণির বইয়ের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করবেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা জাকসুর

পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ, বাকবিতণ্ডা

আপডেট সময় ১১:১৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

এবার মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যবই থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটি (এনসিসি)। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ভাষণ কাটছাঁট করে সংক্ষিপ্ত রূপে পাঠ্যবইয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আয়োজিত সভায় ৭ মার্চের ভাষণ রাখা-না রাখা নিয়ে কিছুটা বাকবিতণ্ডাও হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় অংশ নেওয়া জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এনসিটিবির পক্ষ থেকে সভায় পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পুস্তক পর্যালোচনায় জড়িত শ্রেণি শিক্ষকরাও বই থেকে এ ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

তবে সভায় উপস্থিত শিক্ষা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে তারা ভাষণ রেখে সংক্ষিপ্ত করার পক্ষে মতামত দেন। এ নিয়ে সভায় কিছুটা বাকবিতণ্ডাও হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে ভাষণ রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলন নিয়ে লিখিত ‘আমাদের নতুন গৌরব গাঁথা’ প্রবন্ধে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরার অভিযোগ করেন কয়েকজন সদস্য। পাশাপাশি নৃশংস গণহত্যার ইতিহাস থেকে কৌশলে শেখ হাসিনার নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তোলেন তারা। পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়, প্রবন্ধটি সংশোধন করা হবে এবং সেখানে গণহত্যাকারী হিসেবে শেখ হাসিনার নাম আনা হবে।

এদিকে বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, সভায় এনসিটিবির চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যবইয়ে রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। তারা এ ভাষণকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে পাঠ্যবইয়ে রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের আরেকটি পক্ষ তুমুল বিরোধিতা করলেও সেটি টেকেনি। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অষ্টম ও দ্বাদশ শ্রেণির বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী সোমবার রাত ১০টার দিকে বলেন, মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে আগেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল। এটি সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও একাদশ শ্রেণির বইয়ের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করবেন।