ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান ঘুষ নেওয়ার দায়ে চীনের সাবেক সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড বিচারে নিষিদ্ধ না হলে কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে আওয়ামী লীগ : তথ্য উপদেষ্টা ভারতের বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে শুরু: তথ্য উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী খামেনির শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে খাবার বিতরণ ও স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ট্রাম্পকে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি না করার অনুরোধ নেতানিয়াহুর আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমানের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরানের ভয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ইসরায়েলে সরানোর পরামর্শ

কক্সবাজারে ফের সক্রিয় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র

শীত মৌসুম শুরু না হতেই কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র। মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের পাচারের চেষ্টা করছে চক্রটি। পাচারকারীরা টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করছে।

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সম্প্রতি অভিযানে ১১ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সাগরপথে পাচারের চেষ্টা এবং পাহাড়ি আস্তানা থেকে উদ্ধার অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে উখিয়া, টেকনাফ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা রয়েছেন।

 

উদ্ধার হওয়া এক ভুক্তভোগী সালামত উল্লাহ জানান, মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে তাদের পাহাড়ি এলাকায় বন্দি করা হয়েছিল। তালাবদ্ধ রুমে দুই দিন খাবার দেয়া হয়নি এবং জানানো হয়েছিল, মালয়েশিয়ায় পৌঁছালে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিতে হবে।

 

বিজিবির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হোসেন, সাইফুল ও নিজাম নামের তিন ব্যক্তি এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতা। তাদের নেতৃত্বে দালাল, স্থানীয় প্রভাবশালী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের নিয়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

 

টেকনাফস্থ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, গত কয়েক মাসে বিশেষ অভিযানে শুধু জুলাইয়ে ১৫ জন, আগস্টে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১৭ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে মোট ৬২ জনকে আটক করা হলেও এখনও ২৪ জন আসামি পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ায় বিস্তৃত এই চক্রকে দমন করতে সব বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ থেকে বাঁচতে বিদেশযাত্রার আগে সঠিক তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

কক্সবাজারে ফের সক্রিয় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র

আপডেট সময় ১১:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শীত মৌসুম শুরু না হতেই কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র। মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের পাচারের চেষ্টা করছে চক্রটি। পাচারকারীরা টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করছে।

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সম্প্রতি অভিযানে ১১ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সাগরপথে পাচারের চেষ্টা এবং পাহাড়ি আস্তানা থেকে উদ্ধার অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে উখিয়া, টেকনাফ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা রয়েছেন।

 

উদ্ধার হওয়া এক ভুক্তভোগী সালামত উল্লাহ জানান, মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে তাদের পাহাড়ি এলাকায় বন্দি করা হয়েছিল। তালাবদ্ধ রুমে দুই দিন খাবার দেয়া হয়নি এবং জানানো হয়েছিল, মালয়েশিয়ায় পৌঁছালে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিতে হবে।

 

বিজিবির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হোসেন, সাইফুল ও নিজাম নামের তিন ব্যক্তি এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতা। তাদের নেতৃত্বে দালাল, স্থানীয় প্রভাবশালী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের নিয়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

 

টেকনাফস্থ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, গত কয়েক মাসে বিশেষ অভিযানে শুধু জুলাইয়ে ১৫ জন, আগস্টে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১৭ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে মোট ৬২ জনকে আটক করা হলেও এখনও ২৪ জন আসামি পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ায় বিস্তৃত এই চক্রকে দমন করতে সব বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ থেকে বাঁচতে বিদেশযাত্রার আগে সঠিক তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।