ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের কোক স্টুডিও সেরা: আতিফ আসলাম দেশে তিন বছরে বন্ধ ৪ শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা আসিফের দু/র্নী/তি/কা/ণ্ডে সচিবসহ ফেঁ/সে যাচ্ছেন যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশে প্রধান অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে কাঠ পুড়িয়ে শতাধিক কারখানা সচলের চেষ্টা স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা এনসিপির বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ করল নেপাল জামালপুরে রাজিব বাস ইস্যুতে এনসিপির মানববন্ধনে হামলা জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে আইডিবি এমপি হয়ে প্রথমবার সংসদে নিজ দপ্তরে মির্জা আব্বাস

বাবরি মসজিদ নির্মাণে বাজেট ৩০০ কোটি, এক ব্যবসায়ীই দিবেন ৮০ কোটি টাকা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

এবার অযোধ্যার বাবরি মসজিদের অনুকরণে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে মসজিদ তৈরি করতে চান বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এর জন্য শনিবার মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সদ্য বহিষ্কৃত এই নেতা। হুমায়ুন কবীরের কথায়, ৩০০ কোটি টাকা বাজেট। আমাকে একজন ব্যবসায়ী কথা দিয়েছেন ৮০ কোটি টাকা দেবেন। ১৯৯২ সালের ছয়ই ডিসেম্বর ভেঙে ফেলা হয়েছিল অযোধ্যার বাবরি মসজিদ যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোড়ন দেখা দেয়। সে কথা মাথায় রেখেই এই দিনকেই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন বা শিলান্যাসের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর।

দলের ‘ভ্রূকুটি’ উপেক্ষা করেই অবশ্য বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক এবং তার এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি। একদিকে বিজেপি এবং কংগ্রেস যেমন তাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি, তেমনই তার নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসও সম্প্রতি হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করে। তার বিরুদ্ধে তৃণমূলের তরফে ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিজেপির সঙ্গে তার যোগ রয়েছে বলে অভিযোগও তোলে।

অন্যদিকে শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শান্তি ও নিরাপত্তা ভঙ্গ হতে পারে এমন আশঙ্কা জানিয়ে একটা পিটিশন করা হয়েছিল। এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হননি আদালত, বরং রাজ্য সরকারের ওপরেই নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, কেন্দ্র সরকারের আনা ওয়াক্ফ আইনের বিরোধিতায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মুর্শিদাবাদে। সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে ওই জেলায়। প্রয়োজন হলে শনিবার সেই বাহিনী ব্যবহার করা যাবে বলে কেন্দ্র জানিয়েছিল। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস কর্মসূচির আগে শুক্রবার থেকেই বাড়ানো হয়েছিল নিরাপত্তাব্যবস্থা, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছিল। অন্যদিকে সকাল থেকেই অনুষ্ঠান মঞ্চে মানুষ জড়ো হতে থাকে। শিলান্যাসের সময় কিছুটা চ্যালেঞ্জের সুরে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘বাবরি মসজিদ তৈরি হবে হবে হবেই। কোনো শক্তি আটকাতে পারবে না, আটকাতে এলে জীবনের বিনিময়ে হলেও মোকাবেলা করব।’

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর, সেইদিনকে ঘিরেই উত্তাপ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রতিবছর এই দিনে সংহতি দিবস হিসেবে পালন করা হয়, এবারেও তা হচ্ছে। সকালেই মুখ্যমন্ত্রী সাধারণের উদ্দেশে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো তৃণমূলের শীর্ষনেতারা অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে স্পষ্ট করে দেন দল ‘ধর্মীয় সম্প্রীতির’ পক্ষে এবং সেখানে ‘ধর্মান্ধতার’ কোনো জায়গা নেই। নাম না করে তারা হুমায়ুন কবীরকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।

অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয়ই ডিসেম্বরই শৌর্য যাত্রার আহ্বান করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি অন্যান্য বিজেপি নেতারাও ছিলেন। মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা মিছিলের আয়োজনও করা হয়েছিল ঠাকুরনগরে। ভোটার তালিকায় যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব তৃণমূল। উত্তর চব্বিশ পরগনার ঠাকুর নগর, যা মতুয়াদের গড় বলেই পরিচিত সেখানে সভা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরেই শনিবার পাল্টা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা শান্তনু ঠাকুর, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর নেতৃত্বে ছিল সেই কর্মসূচি।

মোটের ওপর পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর ভোট যে আসন্ন, তা শনিবারের ঘটনাবহুল কর্মসূচিতে ইতিমধ্যে পরিষ্কার। ভোটের আগে প্রতিটা রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো করে সক্রিয়-তা সে বিজেপি হোক, তৃণমূল কংগ্রেস হোক বা সদ্য হুমায়ুন কবীর, যিনি ইতিমধ্যে নতুন দল তৈরি করে আসন্ন ভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বিরোধীদের একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ–– এই বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রত্যেকেই। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত দীর্ঘ সময় ধরেই অনড় ছিলেন হুমায়ুন কবীর। দলের কোনোরকম আপত্তিই গ্রাহ্য করেননি তিনি। বরং জানিয়ে দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তিনি তৈরি করবেন।

মঞ্চ থেকে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, আমি কোনো অসাংবিধানিক কাজ করছি না। হাইকোর্ট বলে দিয়েছে, হুমায়ুন কবীর কোনো অসাংবিধানিক কাজ করেনি। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্ত স্থাপনের ঘোষণার পর বিজেপি পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। ‘আমরা ঘোষণা করার পরই বিজেপি বললো এখানে মুর্শিদাবাদে রাম মন্দির স্থাপন করবে। আমরা বাধা দিইনি। সবার নিজের নিজের ধর্ম পালন করার অধিকার ভারতবর্ষের সংবিধানে রয়েছে।’

তার কথায়, ‘আমরা বাবরি মসজিদ তৈরি করতে পারব না? আমার মাথার দাম এককোটি টাকা ঘোষণা করা হচ্ছে। এত বড় হিম্মত! আমরা আমাদের ধর্মের প্রতি যেমন আস্থাশীল, তেমনই অন্য ধর্মের প্রতিও আমরা শ্রদ্ধাশীল। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন মুর্শিদাবাদ থেকে এক একটা ইট খুলে নিয়ে যাবেন, তাহলে বলি পশ্চিমবঙ্গে যে ৩৭ শতাংশ জনসংখ্যা রয়েছে তারা জীবন দিয়ে বাবরি মসজিদকে রক্ষা করবে। তিনি জানিয়েছেন মসজিদের পাশাপাশি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, হোটেল তথা রেস্টুরেন্ট, পার্কসহ অনেক কিছুই তৈরি হবে সেখানে। হুমায়ুন কবীরের কথায়, ৩০০ কোটি টাকা বাজেট। আমাকে একজন ব্যবসায়ী কথা দিয়েছেন ৮০ কোটি টাকা দেবেন। এর আগেই অবশ্য তিনি জানিয়েছিলেন যে সরকারি অর্থে এই মসজিদ তৈরি হবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের কোক স্টুডিও সেরা: আতিফ আসলাম

বাবরি মসজিদ নির্মাণে বাজেট ৩০০ কোটি, এক ব্যবসায়ীই দিবেন ৮০ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৩:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার অযোধ্যার বাবরি মসজিদের অনুকরণে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে মসজিদ তৈরি করতে চান বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এর জন্য শনিবার মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সদ্য বহিষ্কৃত এই নেতা। হুমায়ুন কবীরের কথায়, ৩০০ কোটি টাকা বাজেট। আমাকে একজন ব্যবসায়ী কথা দিয়েছেন ৮০ কোটি টাকা দেবেন। ১৯৯২ সালের ছয়ই ডিসেম্বর ভেঙে ফেলা হয়েছিল অযোধ্যার বাবরি মসজিদ যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোড়ন দেখা দেয়। সে কথা মাথায় রেখেই এই দিনকেই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন বা শিলান্যাসের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর।

দলের ‘ভ্রূকুটি’ উপেক্ষা করেই অবশ্য বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক এবং তার এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি। একদিকে বিজেপি এবং কংগ্রেস যেমন তাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি, তেমনই তার নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসও সম্প্রতি হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করে। তার বিরুদ্ধে তৃণমূলের তরফে ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিজেপির সঙ্গে তার যোগ রয়েছে বলে অভিযোগও তোলে।

অন্যদিকে শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শান্তি ও নিরাপত্তা ভঙ্গ হতে পারে এমন আশঙ্কা জানিয়ে একটা পিটিশন করা হয়েছিল। এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হননি আদালত, বরং রাজ্য সরকারের ওপরেই নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, কেন্দ্র সরকারের আনা ওয়াক্ফ আইনের বিরোধিতায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মুর্শিদাবাদে। সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে ওই জেলায়। প্রয়োজন হলে শনিবার সেই বাহিনী ব্যবহার করা যাবে বলে কেন্দ্র জানিয়েছিল। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস কর্মসূচির আগে শুক্রবার থেকেই বাড়ানো হয়েছিল নিরাপত্তাব্যবস্থা, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছিল। অন্যদিকে সকাল থেকেই অনুষ্ঠান মঞ্চে মানুষ জড়ো হতে থাকে। শিলান্যাসের সময় কিছুটা চ্যালেঞ্জের সুরে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘বাবরি মসজিদ তৈরি হবে হবে হবেই। কোনো শক্তি আটকাতে পারবে না, আটকাতে এলে জীবনের বিনিময়ে হলেও মোকাবেলা করব।’

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর, সেইদিনকে ঘিরেই উত্তাপ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রতিবছর এই দিনে সংহতি দিবস হিসেবে পালন করা হয়, এবারেও তা হচ্ছে। সকালেই মুখ্যমন্ত্রী সাধারণের উদ্দেশে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো তৃণমূলের শীর্ষনেতারা অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে স্পষ্ট করে দেন দল ‘ধর্মীয় সম্প্রীতির’ পক্ষে এবং সেখানে ‘ধর্মান্ধতার’ কোনো জায়গা নেই। নাম না করে তারা হুমায়ুন কবীরকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।

অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয়ই ডিসেম্বরই শৌর্য যাত্রার আহ্বান করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি অন্যান্য বিজেপি নেতারাও ছিলেন। মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা মিছিলের আয়োজনও করা হয়েছিল ঠাকুরনগরে। ভোটার তালিকায় যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব তৃণমূল। উত্তর চব্বিশ পরগনার ঠাকুর নগর, যা মতুয়াদের গড় বলেই পরিচিত সেখানে সভা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরেই শনিবার পাল্টা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা শান্তনু ঠাকুর, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর নেতৃত্বে ছিল সেই কর্মসূচি।

মোটের ওপর পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর ভোট যে আসন্ন, তা শনিবারের ঘটনাবহুল কর্মসূচিতে ইতিমধ্যে পরিষ্কার। ভোটের আগে প্রতিটা রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো করে সক্রিয়-তা সে বিজেপি হোক, তৃণমূল কংগ্রেস হোক বা সদ্য হুমায়ুন কবীর, যিনি ইতিমধ্যে নতুন দল তৈরি করে আসন্ন ভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বিরোধীদের একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ–– এই বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রত্যেকেই। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত দীর্ঘ সময় ধরেই অনড় ছিলেন হুমায়ুন কবীর। দলের কোনোরকম আপত্তিই গ্রাহ্য করেননি তিনি। বরং জানিয়ে দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তিনি তৈরি করবেন।

মঞ্চ থেকে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, আমি কোনো অসাংবিধানিক কাজ করছি না। হাইকোর্ট বলে দিয়েছে, হুমায়ুন কবীর কোনো অসাংবিধানিক কাজ করেনি। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্ত স্থাপনের ঘোষণার পর বিজেপি পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। ‘আমরা ঘোষণা করার পরই বিজেপি বললো এখানে মুর্শিদাবাদে রাম মন্দির স্থাপন করবে। আমরা বাধা দিইনি। সবার নিজের নিজের ধর্ম পালন করার অধিকার ভারতবর্ষের সংবিধানে রয়েছে।’

তার কথায়, ‘আমরা বাবরি মসজিদ তৈরি করতে পারব না? আমার মাথার দাম এককোটি টাকা ঘোষণা করা হচ্ছে। এত বড় হিম্মত! আমরা আমাদের ধর্মের প্রতি যেমন আস্থাশীল, তেমনই অন্য ধর্মের প্রতিও আমরা শ্রদ্ধাশীল। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন মুর্শিদাবাদ থেকে এক একটা ইট খুলে নিয়ে যাবেন, তাহলে বলি পশ্চিমবঙ্গে যে ৩৭ শতাংশ জনসংখ্যা রয়েছে তারা জীবন দিয়ে বাবরি মসজিদকে রক্ষা করবে। তিনি জানিয়েছেন মসজিদের পাশাপাশি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, হোটেল তথা রেস্টুরেন্ট, পার্কসহ অনেক কিছুই তৈরি হবে সেখানে। হুমায়ুন কবীরের কথায়, ৩০০ কোটি টাকা বাজেট। আমাকে একজন ব্যবসায়ী কথা দিয়েছেন ৮০ কোটি টাকা দেবেন। এর আগেই অবশ্য তিনি জানিয়েছিলেন যে সরকারি অর্থে এই মসজিদ তৈরি হবে না।