ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেওয়ার দাবি নাকচ করল মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বং’স করতে ইরানকে গোপনে ‘ক্ষেপ/ণা/স্ত্র’ সহায়তা করছে রাশিয়া চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে নারীকে ধ/র্ষণ, চার পুলিশ সদস্যের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন কমলো এলপিজির দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কুয়াকাটায় থেরাপি দিতে গিয়ে নবজাতকের পা ভাঙলেন নার্স কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিক ফারজানা রুপা শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, আটকে গেলো ছাত্রের সার্টিফিকেট

৭২ বছরের ইমামতি শেষে আবেগঘন বিদায়, আজীবন বসবেন ইতিকাফে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪২৮ বার পড়া হয়েছে

একই মসজিদ, প্রজন্মের পর প্রজন্মের মুসল্লি আর টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে একই কণ্ঠের খুতবা—গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) শেষ হলো এক স্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘ ৭২ বছর ১ দিন ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব। বিদায়ী খুতবার সময় আবেগ সামলাতে না পেরে কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে তার।
মসজিদ কমিটি সূত্র জানায়, ১৯৫৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সে গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাওলানা আবদুল হক। তখন তিনি সোনাকান্দা দারুল হুদা মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই কৈশোরেই শুরু হয় নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আস্থার এক দীর্ঘ পথচলা—যার পরিসমাপ্তি ঘটল টানা ৭২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সেবায়।
বর্তমানে তার বয়স ৮৭ বছর ২ মাস। বয়সজনিত কারণে খতিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও মসজিদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকছে। মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নেবেন এবং জীবদ্দশায় রমজান মাসে এখানেই ইতেকাফ পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তারই ছেলে আব্দুল কাদির। তিনি বলেন, “বাবার জীবনের বড় একটি অংশ এই মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এমন বিদায় সহজ ছিল না।”
মসজিদ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “১৩ বছর বয়সে যিনি ইমামতি শুরু করেছেন, এমন নজির এখন কল্পনাও করা কঠিন। এই মসজিদে ইমামতি ছিল পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ—তার দাদা, বাবা, চাচা এবং সবশেষে তিনি নিজে। টানা ৭২ বছর মুসল্লিরা তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন—এটা নিঃসন্দেহে ইতিহাস।”
মুসল্লিদের ভাষ্য, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব শুধু একজন ইমাম নন—তিনি স্মৃতি, বিশ্বাস ও ভালোবাসার এক জীবন্ত অধ্যায়। গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইতিহাসে তার নাম চিরকাল লেখা থাকবে দোয়া আর কৃতজ্ঞতার

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেওয়ার দাবি নাকচ করল মালয়েশিয়া

৭২ বছরের ইমামতি শেষে আবেগঘন বিদায়, আজীবন বসবেন ইতিকাফে

আপডেট সময় ০৯:০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

একই মসজিদ, প্রজন্মের পর প্রজন্মের মুসল্লি আর টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে একই কণ্ঠের খুতবা—গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) শেষ হলো এক স্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘ ৭২ বছর ১ দিন ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব। বিদায়ী খুতবার সময় আবেগ সামলাতে না পেরে কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে তার।
মসজিদ কমিটি সূত্র জানায়, ১৯৫৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সে গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাওলানা আবদুল হক। তখন তিনি সোনাকান্দা দারুল হুদা মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই কৈশোরেই শুরু হয় নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আস্থার এক দীর্ঘ পথচলা—যার পরিসমাপ্তি ঘটল টানা ৭২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সেবায়।
বর্তমানে তার বয়স ৮৭ বছর ২ মাস। বয়সজনিত কারণে খতিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও মসজিদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকছে। মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নেবেন এবং জীবদ্দশায় রমজান মাসে এখানেই ইতেকাফ পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তারই ছেলে আব্দুল কাদির। তিনি বলেন, “বাবার জীবনের বড় একটি অংশ এই মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এমন বিদায় সহজ ছিল না।”
মসজিদ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “১৩ বছর বয়সে যিনি ইমামতি শুরু করেছেন, এমন নজির এখন কল্পনাও করা কঠিন। এই মসজিদে ইমামতি ছিল পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ—তার দাদা, বাবা, চাচা এবং সবশেষে তিনি নিজে। টানা ৭২ বছর মুসল্লিরা তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন—এটা নিঃসন্দেহে ইতিহাস।”
মুসল্লিদের ভাষ্য, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেব শুধু একজন ইমাম নন—তিনি স্মৃতি, বিশ্বাস ও ভালোবাসার এক জীবন্ত অধ্যায়। গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইতিহাসে তার নাম চিরকাল লেখা থাকবে দোয়া আর কৃতজ্ঞতার