ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পে-স্কেল: ৫৩ বছরে ১৩০ থেকে পৌঁছেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেওয়ার দাবি নাকচ করল মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বং’স করতে ইরানকে গোপনে ‘ক্ষেপ/ণা/স্ত্র’ সহায়তা করছে রাশিয়া চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে নারীকে ধ/র্ষণ, চার পুলিশ সদস্যের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন কমলো এলপিজির দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কুয়াকাটায় থেরাপি দিতে গিয়ে নবজাতকের পা ভাঙলেন নার্স কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিক ফারজানা রুপা

যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বং’স করতে ইরানকে গোপনে ‘ক্ষেপ/ণা/স্ত্র’ সহায়তা করছে রাশিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৫৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরানকে গোপনে সহায়তা করছে রাশিয়া—এমন দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর বরাত দিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সি৩৪০এল’ কোডনামের এই গোপন কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানের কাছে এই সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুমোদন এসেছে রুশ নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ইরানকে রামজেট প্রপালশন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করা। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে উড়তে পারে। কম উচ্চতায় রাডার এড়িয়ে চলতে পারায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক সিআইএ সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসনের মতে, এই প্রযুক্তি ইরানকে একটি নতুন ও গুণগত কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা দিতে পারে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফাবিয়ান হিনজ বলেন, এটি রাশিয়ার পক্ষ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল কৌশলগত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ঘটনা। তার মতে, এমন একটি কর্মসূচির জন্য রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কর্মসূচিটি সমন্বয় করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনএক্সপোর্ট ও রুশ রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েভিয়া। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা ইরানি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে ইরান রামজেট প্রযুক্তি তৈরি ও পরীক্ষা করলেও, এই প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, প্যারিসের সায়েন্সেস পো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেভস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, কঠিন সময়ে মস্কো ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধের সময়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করছে।

এদিকে, এক মাসের বেশি সময় সংঘাত কিছুটা স্তিমিত থাকার পর গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। রোববার হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। পরে মঙ্গলবারও বিমান হামলা চালানো হয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পে-স্কেল: ৫৩ বছরে ১৩০ থেকে পৌঁছেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বং’স করতে ইরানকে গোপনে ‘ক্ষেপ/ণা/স্ত্র’ সহায়তা করছে রাশিয়া

আপডেট সময় ০৫:৫৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরানকে গোপনে সহায়তা করছে রাশিয়া—এমন দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর বরাত দিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সি৩৪০এল’ কোডনামের এই গোপন কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানের কাছে এই সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুমোদন এসেছে রুশ নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ইরানকে রামজেট প্রপালশন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করা। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে উড়তে পারে। কম উচ্চতায় রাডার এড়িয়ে চলতে পারায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক সিআইএ সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসনের মতে, এই প্রযুক্তি ইরানকে একটি নতুন ও গুণগত কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা দিতে পারে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফাবিয়ান হিনজ বলেন, এটি রাশিয়ার পক্ষ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল কৌশলগত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ঘটনা। তার মতে, এমন একটি কর্মসূচির জন্য রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কর্মসূচিটি সমন্বয় করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনএক্সপোর্ট ও রুশ রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েভিয়া। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা ইরানি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে ইরান রামজেট প্রযুক্তি তৈরি ও পরীক্ষা করলেও, এই প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, প্যারিসের সায়েন্সেস পো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেভস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, কঠিন সময়ে মস্কো ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধের সময়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করছে।

এদিকে, এক মাসের বেশি সময় সংঘাত কিছুটা স্তিমিত থাকার পর গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। রোববার হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। পরে মঙ্গলবারও বিমান হামলা চালানো হয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।