ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘এখন আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ নেই’, মা ও তিন বোনের জানাজায় সিফাত লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প আঘাত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ৯০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলা আর্জেন্টিনার সামনে ‘শক্তিশালী’ কেপ ভার্দে, অপেক্ষায় স্পেন কওমী মাদরাসা থেকে ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যা খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বেই বিদায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের

ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক

ভোলার লালমোহন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূ রুনা । এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদ (২১) ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুনা ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত জিহাদ পার্শ্ববর্তী পাংগাশিয়া গ্রামের মৃত মো: আলমগীরের ছেলে। রুনা ও জিহাদ মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন হওয়া সত্ত্বেও পারিবারিক ভাবে প্রায় ৭ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ঘটনা দিন রুনার মা (জিহাদের ফুফু) পারিবারিক একটি সালিশের উদ্দেশ্যে জিহাদের বাড়িতে যান। সে সময় রুনা অবস্থান করছিল তার বাবার বাড়িতে, আর জিহাদ ছিলেন নিজ বাড়িতে।

সালিশের পরপরই জিহাদ শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর থেকে  লাপাত্তা হয়ে যান স্বামী জিহাদ।

ঘটনার সময় রুনার চাচি ও প্রত্যক্ষদর্শী নুরজাহান বেগম জানান, সন্ধ্যার দিকে রুনার ঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে তিনি সেখানে যান। ঘরে ঢুকে দেখেন, রুনা বিছানায় পড়ে আছে, তার বুকের ওপর একটি বালিশ রাখা এবং শরীর কম্বল দিয়ে ঢাকা।

অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে কম্বল সরালে দেখা যায়, রুনার গলায় নখের আঁচড়ের দাগ, রুপার চেইন ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে এবং বিছানা প্রস্রাবে ভিজে গেছে। তার মুখে লালা ও রক্তও দেখা যায়।

পরে স্থানীয় একজন চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই জিহাদ বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। রুনার মৃত্যুর পর স্বামী জিহাদকে একাধিকবার ফোন করা হলে সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে, যা আরও সন্দেহজনক করে তোলে।

খবর পেয়ে লালমোহন সার্কেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর হয়।

অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভোর রাতে ইলিশা লঞ্চ ঘাট থেকে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরো জানান, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী রুনা বেগমকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন জিহাদ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘এখন আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ নেই’, মা ও তিন বোনের জানাজায় সিফাত

ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক

আপডেট সময় ০৯:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভোলার লালমোহন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূ রুনা । এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদ (২১) ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুনা ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত জিহাদ পার্শ্ববর্তী পাংগাশিয়া গ্রামের মৃত মো: আলমগীরের ছেলে। রুনা ও জিহাদ মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন হওয়া সত্ত্বেও পারিবারিক ভাবে প্রায় ৭ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ঘটনা দিন রুনার মা (জিহাদের ফুফু) পারিবারিক একটি সালিশের উদ্দেশ্যে জিহাদের বাড়িতে যান। সে সময় রুনা অবস্থান করছিল তার বাবার বাড়িতে, আর জিহাদ ছিলেন নিজ বাড়িতে।

সালিশের পরপরই জিহাদ শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর থেকে  লাপাত্তা হয়ে যান স্বামী জিহাদ।

ঘটনার সময় রুনার চাচি ও প্রত্যক্ষদর্শী নুরজাহান বেগম জানান, সন্ধ্যার দিকে রুনার ঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে তিনি সেখানে যান। ঘরে ঢুকে দেখেন, রুনা বিছানায় পড়ে আছে, তার বুকের ওপর একটি বালিশ রাখা এবং শরীর কম্বল দিয়ে ঢাকা।

অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে কম্বল সরালে দেখা যায়, রুনার গলায় নখের আঁচড়ের দাগ, রুপার চেইন ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে এবং বিছানা প্রস্রাবে ভিজে গেছে। তার মুখে লালা ও রক্তও দেখা যায়।

পরে স্থানীয় একজন চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই জিহাদ বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। রুনার মৃত্যুর পর স্বামী জিহাদকে একাধিকবার ফোন করা হলে সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে, যা আরও সন্দেহজনক করে তোলে।

খবর পেয়ে লালমোহন সার্কেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর হয়।

অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভোর রাতে ইলিশা লঞ্চ ঘাট থেকে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরো জানান, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী রুনা বেগমকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন জিহাদ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।