ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানের ড্রেসিংরুমে গিয়ে উৎসাহ দিলেন ফিফা প্রধান প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে ‘হুলুস্থুল কাণ্ড’ চীনা যুবকের ‘ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ট্রাম্প’,  উদ্বিগ্ন কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা প্রথমার্ধে গোল নেই, সমতায় ফ্রান্স ও সেনেগাল মায়ের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন বিএনপির সংসদ সদস্যের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মশাল মিছিল দেশে গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার পরিবেশ নেই: প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স-সেনেগাল, ফিরছে ২৪ বছর আগের স্মৃতি বেনজীরকে দেশে আনতে দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মাঠে ফিরলেন নেইমার, তবে গ্রুপ পর্বে খেলা কঠিন

সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন হচ্ছে ৪২ হাজার টাকা!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০৩ বার পড়া হয়েছে

এবার পে কমিশনের সুপারিশ ঠিক থাকলে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল ব্তেন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোতে মূল বেতন বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। তাদের সুপারিশ ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল ব্তেন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এর বাইরে এখনকার মতই অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রযোজ্য হবে। তাতে ঢাকায় সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ২০তম গ্রেডের একজন কর্মীর বেতন দাঁড়াবে প্রায় ৪২ হাজার টাকা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে অর্থের সংস্থান রেখেছে। সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর তথ্য মিলেছে।

এদিকে পে কমিশনের প্রধান, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান রোববার বলেন, “আমরা ২১ জানুয়ারি (বুধবার) প্রধান উপদেষ্টার সময় পেয়েছি। সেদিন আমরা প্রতিবেদন তার হাতে তুলে দেব। এতটুকু বলতে পারি, খুব ভালো কিছু হচ্ছে। খুব ভালো প্রস্তাব আমরা দিচ্ছি।” সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো করতে গত ২৪ জুলাই পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত এই পে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর এখন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পে কমিশন, যদিও বর্তমান সরকার এ কাজ শেষ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বেতন কাঠামো ঘোষণার দাবি বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। ২০২৪ সালের অগাস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

অনেকেই আশা করছিলেন, জুন মাসে ঘোষিত নতুন অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার বদলে বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড রয়েছে। দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পে স্কেল অনুসারে বেতন-ভাতা পান।

এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ২০ তম গ্রেডে মূল বেতন হয় মাসে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়া নবম গ্রেডের একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন হয় মাসে ২২ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ ধাপে একজন সচিব মাসে ৭৮ হাজার টাকা, জ্যেষ্ঠ সচিব ৮২ হাজার টাকা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ৮৬ হাজার টাকা মূল বেতন হিসেবে পান। মূল বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত বাবদ আলাদা ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পান সরকারি কর্মচারীরা। এছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতার পাশাপাশি বাংলা নববর্ষে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়তি একটি ভাতা পান তারা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ড্রেসিংরুমে গিয়ে উৎসাহ দিলেন ফিফা প্রধান

সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন হচ্ছে ৪২ হাজার টাকা!

আপডেট সময় ০২:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

এবার পে কমিশনের সুপারিশ ঠিক থাকলে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল ব্তেন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোতে মূল বেতন বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। তাদের সুপারিশ ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল ব্তেন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এর বাইরে এখনকার মতই অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রযোজ্য হবে। তাতে ঢাকায় সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ২০তম গ্রেডের একজন কর্মীর বেতন দাঁড়াবে প্রায় ৪২ হাজার টাকা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে অর্থের সংস্থান রেখেছে। সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর তথ্য মিলেছে।

এদিকে পে কমিশনের প্রধান, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান রোববার বলেন, “আমরা ২১ জানুয়ারি (বুধবার) প্রধান উপদেষ্টার সময় পেয়েছি। সেদিন আমরা প্রতিবেদন তার হাতে তুলে দেব। এতটুকু বলতে পারি, খুব ভালো কিছু হচ্ছে। খুব ভালো প্রস্তাব আমরা দিচ্ছি।” সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো করতে গত ২৪ জুলাই পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত এই পে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর এখন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পে কমিশন, যদিও বর্তমান সরকার এ কাজ শেষ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বেতন কাঠামো ঘোষণার দাবি বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। ২০২৪ সালের অগাস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

অনেকেই আশা করছিলেন, জুন মাসে ঘোষিত নতুন অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার বদলে বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড রয়েছে। দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পে স্কেল অনুসারে বেতন-ভাতা পান।

এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ২০ তম গ্রেডে মূল বেতন হয় মাসে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়া নবম গ্রেডের একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন হয় মাসে ২২ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ ধাপে একজন সচিব মাসে ৭৮ হাজার টাকা, জ্যেষ্ঠ সচিব ৮২ হাজার টাকা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ৮৬ হাজার টাকা মূল বেতন হিসেবে পান। মূল বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত বাবদ আলাদা ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পান সরকারি কর্মচারীরা। এছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতার পাশাপাশি বাংলা নববর্ষে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়তি একটি ভাতা পান তারা।