ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাশ দোকানে ডাকাতি: প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার মেসির প্রশংসায় বিনয়ী মেদিনা, বললেন—‘অধিনায়কের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত’ অপারেশন সিঁদুর: নিহত সেনাদের তালিকা প্রকাশ ভারতের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় পাশে থাকবে চীন শাহজালাল (র.) মাজারের দানের অর্থে স্বচ্ছতা আনতে কমিটি, এক মাসের মধ্যে সুপারিশ সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে এক গ্রাম সোনার আংটি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ইরান নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা না নিলে এমপি পদ ছাড়ব, গোলাবাড়িতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লংমার্চের হুঁশিয়ারি

বুখারির পর এবার মুসলিম শরিফ মুখস্থ করলেন হাফেজ মাসউদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭২ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র কোরআনের পর ইসলামের সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত বুখারি শরিফ। এরপরই স্থান মুসলিম শরিফের। বুখারি শরিফ সম্পূর্ণ মুখস্থ করা হাফেজ মাওলানা মাসউদুর রহমান এবার মুখস্থ করলেন মুসলিম শরিফও। মাত্র ৮ মাস ১৪ দিনে তিনি এই বিশাল গ্রন্থটি নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছেন। অসামান্য এই মেধার অধিকারী মাসউদুর রহমান সম্প্রতি দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর হিফজুল হাদিস বিভাগে ভর্তি হয়ে এই বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হাফেজ মাওলানা মাসউদুর রহমানের জন্ম ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, পবিত্র জুমার দিন সকালে। তার বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার তারাটি চরপাড়া গ্রামে। বাবা তাজুল ইসলাম একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ, যিনি সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। মাসউদুুর রহমানের পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় বাবা-মায়ের কাছেই। মাত্র ৬ বছর বয়সে বড় ভাই মুফতি আশরাফুল ইসলামের হাত ধরে তিনি ধনবাড়ি নতুন বাজার নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে নুরানি ও নাজেরা সম্পন্ন করার পর নিজ গ্রামে হাফেজ রফিকুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত আহমদিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় হিফজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে তিনি মুফতি হাবিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ইদারাতুল মাআরিফ আশ-শারইয়্যাহ এবং ময়মনসিংহের আল জামিয়াতুল আশরাফিয়া দারুস সালাম মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। এরপর আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্বারী হাফেজ মাওলানা আবু সালেহ মো. মুসা প্রতিষ্ঠিত তাহসিনুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় আরও দুই বছর কোরআন শোনান। ঈর্ষণীয় একাডেমিক সাফল্য ২০১৮ সালে জামিয়া আরাবিয়া মিসবাহুল উলুম কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তান মাদরাসায় কিতাব বিভাগে ভর্তি হন মাসউদুর রহমান। এরপর মিজান থেকে কাফিয়া পর্যন্ত ময়মনসিংহের মাদরাসাতুন নুরে এবং পরবর্তীতে পুনরায় মুক্তাগাছার পৌর গোরস্তান মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। সবশেষে রাজধানীর বসুন্ধরার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে মেশকাত ও দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।

তার মেধার স্বাক্ষর মেলে প্রতিটি বোর্ড পরীক্ষায়। হেফজ বিভাগ থেকে শুরু করে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি মুমতাজ (স্টার মার্কস) অর্জন করেছেন। এছাড়া ‘এসো খত্তে রুকআ শিখি’ নামে হাতের লেখা শেখার একটি বইও লিখেছেন তিনি। দাওরায়ে হাদিস শেষে বড় ভাইয়ের পরামর্শে সোনারগাঁওয়ের বাগমুছা হিফজুল হাদিস মাদরাসায় বুখারি শরিফের পর এবার মুসলিম শরিফও পূর্ণ মুখস্থ করেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বুখারির পর এবার মুসলিম শরিফ মুখস্থ করলেন হাফেজ মাসউদ

আপডেট সময় ০১:৪২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

পবিত্র কোরআনের পর ইসলামের সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত বুখারি শরিফ। এরপরই স্থান মুসলিম শরিফের। বুখারি শরিফ সম্পূর্ণ মুখস্থ করা হাফেজ মাওলানা মাসউদুর রহমান এবার মুখস্থ করলেন মুসলিম শরিফও। মাত্র ৮ মাস ১৪ দিনে তিনি এই বিশাল গ্রন্থটি নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছেন। অসামান্য এই মেধার অধিকারী মাসউদুর রহমান সম্প্রতি দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর হিফজুল হাদিস বিভাগে ভর্তি হয়ে এই বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হাফেজ মাওলানা মাসউদুর রহমানের জন্ম ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, পবিত্র জুমার দিন সকালে। তার বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার তারাটি চরপাড়া গ্রামে। বাবা তাজুল ইসলাম একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ, যিনি সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। মাসউদুুর রহমানের পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় বাবা-মায়ের কাছেই। মাত্র ৬ বছর বয়সে বড় ভাই মুফতি আশরাফুল ইসলামের হাত ধরে তিনি ধনবাড়ি নতুন বাজার নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে নুরানি ও নাজেরা সম্পন্ন করার পর নিজ গ্রামে হাফেজ রফিকুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত আহমদিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় হিফজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে তিনি মুফতি হাবিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ইদারাতুল মাআরিফ আশ-শারইয়্যাহ এবং ময়মনসিংহের আল জামিয়াতুল আশরাফিয়া দারুস সালাম মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। এরপর আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্বারী হাফেজ মাওলানা আবু সালেহ মো. মুসা প্রতিষ্ঠিত তাহসিনুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় আরও দুই বছর কোরআন শোনান। ঈর্ষণীয় একাডেমিক সাফল্য ২০১৮ সালে জামিয়া আরাবিয়া মিসবাহুল উলুম কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তান মাদরাসায় কিতাব বিভাগে ভর্তি হন মাসউদুর রহমান। এরপর মিজান থেকে কাফিয়া পর্যন্ত ময়মনসিংহের মাদরাসাতুন নুরে এবং পরবর্তীতে পুনরায় মুক্তাগাছার পৌর গোরস্তান মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। সবশেষে রাজধানীর বসুন্ধরার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে মেশকাত ও দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।

তার মেধার স্বাক্ষর মেলে প্রতিটি বোর্ড পরীক্ষায়। হেফজ বিভাগ থেকে শুরু করে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি মুমতাজ (স্টার মার্কস) অর্জন করেছেন। এছাড়া ‘এসো খত্তে রুকআ শিখি’ নামে হাতের লেখা শেখার একটি বইও লিখেছেন তিনি। দাওরায়ে হাদিস শেষে বড় ভাইয়ের পরামর্শে সোনারগাঁওয়ের বাগমুছা হিফজুল হাদিস মাদরাসায় বুখারি শরিফের পর এবার মুসলিম শরিফও পূর্ণ মুখস্থ করেন তিনি।