ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকার পর ফিরছে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল অবৈধ যুদ্ধে জড়িয়ে বের হওয়ার পথ হারিয়েছেন ট্রাম্প: : মার্কিন সিনেটর শিক্ষকদের কক্ষে রেখে তালা ঝুলিয়ে দিলো ফেল করা শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না: জামায়াত আমির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ১ দিন বিনামূল্যে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবে: তথ্য উপদেষ্টা প্রত্যেক এমপিকে ডাকো, সব জায়গায় আগুন দেবে: শেখ হাসিনা কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি এক ব্যক্তির পেটে মিলল ১৮০ পেরেক, চুম্বকসহ এক কেজির বেশি নাট-বল্টু! আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের মূল্যবান বন্ধু, দ্রুত সুস্থতা কামনায় প্রধানমন্ত্রীর দোয়া ইরানের হত্যার হুমকি, খাবার বহনের ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

তারেক-ইউনূস বৈঠকে নজর দেশবাসীর: নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে আনার বিষয়ে হতে পারে সমঝোতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • ৭৯৪ বার পড়া হয়েছে

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময়সীমা ঘোষণার পর। তিনি বলেন, আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই সময়সীমা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি, যারা শুরু থেকেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়ে আসছিল।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার লন্ডনে ডরচেস্টার হোটেলে ড. ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার ‘ওয়ান টু ওয়ান’ এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যু আলোচিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএনপির আলোচনার প্রধান এজেন্ডা হবে নির্বাচনের সময়সূচি এগিয়ে আনা। সরকার যদি এপ্রিল থেকে সরে আসে, বিএনপিও ডিসেম্বর থেকে সরে এসে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধকে গ্রহণযোগ্য সময় হিসেবে বিবেচনায় আনতে পারে।

এছাড়া আলোচনা হতে পারে—

  • চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা,

  • অন্তর্বর্তী সরকারের দায়-দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা,

  • জুলাই চার্টার’ বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাব,

  • নির্বাচন-পরবর্তী সংসদে অন্তর্বর্তী কার্যক্রমের অনুমোদন,

  • বিচারিক ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ইত্যাদি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন,

“এই ঐতিহাসিক আলোচনা সফল না হলে বহু সংকট দেখা দিতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সমঝোতা হবে এবং দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,

“আলোচনায় যাচ্ছি, এটাই বড় বিষয়। এখন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। সে পর্যন্ত চুপ থাকাটাই শ্রেয়।”

জনগণের প্রত্যাশা, এই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খুলবে, এবং দেশ একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনমুখী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকার পর ফিরছে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল

তারেক-ইউনূস বৈঠকে নজর দেশবাসীর: নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে আনার বিষয়ে হতে পারে সমঝোতা

আপডেট সময় ০৭:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময়সীমা ঘোষণার পর। তিনি বলেন, আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই সময়সীমা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি, যারা শুরু থেকেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়ে আসছিল।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার লন্ডনে ডরচেস্টার হোটেলে ড. ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার ‘ওয়ান টু ওয়ান’ এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যু আলোচিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএনপির আলোচনার প্রধান এজেন্ডা হবে নির্বাচনের সময়সূচি এগিয়ে আনা। সরকার যদি এপ্রিল থেকে সরে আসে, বিএনপিও ডিসেম্বর থেকে সরে এসে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধকে গ্রহণযোগ্য সময় হিসেবে বিবেচনায় আনতে পারে।

এছাড়া আলোচনা হতে পারে—

  • চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা,

  • অন্তর্বর্তী সরকারের দায়-দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা,

  • জুলাই চার্টার’ বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাব,

  • নির্বাচন-পরবর্তী সংসদে অন্তর্বর্তী কার্যক্রমের অনুমোদন,

  • বিচারিক ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ইত্যাদি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন,

“এই ঐতিহাসিক আলোচনা সফল না হলে বহু সংকট দেখা দিতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সমঝোতা হবে এবং দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,

“আলোচনায় যাচ্ছি, এটাই বড় বিষয়। এখন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। সে পর্যন্ত চুপ থাকাটাই শ্রেয়।”

জনগণের প্রত্যাশা, এই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খুলবে, এবং দেশ একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনমুখী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।