এবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে তাদেরকে প্রতি ব্যারেলের জন্য ১ ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি দিতে হবে। ইরানের ১০ দফা শর্তের ২ নম্বর দফায় হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের একচ্ছত্র অধিকারের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির পরপরই হরমুজে টোল আদায়ের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি ‘যৌথ উদ্যোগ’ গঠনের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিকারক ইউনিয়নের মুখপাত্র হামিদ হোসেইনির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস। মুখপাত্র বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার খরচ হবে এবং জাহাজগুলোকে তারা কী বহন করছে সে তথ্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে ইমেইলের মাধ্যমে জানাতে হবে।
হোসেইনি বলেন, ই–মেইল পাওয়ার পর এবং ইরান যাচাই শেষ করলে, জাহাজগুলোকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিটকয়েনে অর্থ পরিশোধ করতে হবে, যাতে নিষেধাজ্ঞার কারণে তা অনুসরণ বা জব্দ করা না যায়। তিনি আরও জানান, এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অস্ত্র এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা না হয়। তিনি বলেন, সব কিছুই যেতে পারবে, তবে প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রক্রিয়াটি সময় নেবে, এবং ইরান তাড়াহুড়ো করছে না।
এদিকে বুধবার (৮ এপ্রিল) ট্রাম্প বলেন, র বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিনি এবিসি নিউজ–এর সাংবাদিক জনাথন কার্লকে বলেন, ‘আমরা এটিকে একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে করার কথা ভাবছি। এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি উপায়—এবং অন্যদের থেকেও সুরক্ষা দেবে। এটি একটি ভালো বিষয়।’ হরমুজ প্রণালি ইরানের উপকূলের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। এর ফলে তেলের দাম বেড়ে গেছে। কারণ আগে বিশ্বের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হত।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করবেন বলে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরপরই তেলের দাম কমতে শুরু করে। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্স–কে জানান, ইরান বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সীমিতভাবে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে প্রণালিটি খুলে দিতে পারে। অন্যদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের বলেছে যে তারা টোল আদায় করবে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২টি জাহাজ চলাচলের সীমা নির্ধারণ করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























