ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তির ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ চট্টগ্রামে যুবদল কর্মীকে গুলি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার সমন্বয়কের কাছে চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টা হুইলচেয়ারে ট্রাইব্যুনালে এসে দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অসুস্থ স্বামী অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: আটক সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ, পূর্বাভাস আইএমএফ’র ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে কুড়িগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ৬

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ, পূর্বাভাস আইএমএফ’র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছর বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হিসেবে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ মার্কিন ডলার, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা হতে পারে ২ হাজার ৮১২ ডলার। পার্থক্য সামান্য হলেও অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিক থেকে এটি প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

তবে অর্থনীতির সামগ্রিক আকারে ভারত এখনো অনেক এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের ৪৫৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি মূলত তুলনামূলক দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও জনসংখ্যা কাঠামোর কারণে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই প্রবণতাকে “বিস্ময়কর” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে মুদ্রার বিনিময় হার। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ডলারে হিসাব করলে সূচকে ওঠানামা দেখা যায়, যদিও বাস্তব উৎপাদন একই থাকে।

 

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়েও মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ভারত এগিয়ে থাকলেও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আবারও সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠে আসে।

 

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভারত আবারও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

 

অন্যদিকে, ক্রয়ক্ষমতার সমতা (PPP) ভিত্তিক হিসাব ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। এই পদ্ধতিতে ২০২৫ সালে ভারতের মাথাপিছু আয় ছিল ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, আর বাংলাদেশের ছিল ১০ হাজার ২৭১ ডলার—যা ভারতের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম।

 

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। তখন ভারতের PPP-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় দাঁড়াতে পারে ১৮ হাজার ৪৮৫ ডলার, আর বাংলাদেশের হতে পারে ১৪ হাজার ৮৫৭ ডলার।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ডলারে মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে কোনো দেশের জীবনমান পুরোপুরি বোঝা যায় না। আয়বৈষম্য, জীবনযাত্রার মান এবং ক্রয়ক্ষমতা—এই সূচকগুলোও সমানভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ, পূর্বাভাস আইএমএফ’র

আপডেট সময় ১১:০২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছর বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হিসেবে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ মার্কিন ডলার, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা হতে পারে ২ হাজার ৮১২ ডলার। পার্থক্য সামান্য হলেও অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিক থেকে এটি প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

তবে অর্থনীতির সামগ্রিক আকারে ভারত এখনো অনেক এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের ৪৫৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি মূলত তুলনামূলক দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও জনসংখ্যা কাঠামোর কারণে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই প্রবণতাকে “বিস্ময়কর” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে মুদ্রার বিনিময় হার। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ডলারে হিসাব করলে সূচকে ওঠানামা দেখা যায়, যদিও বাস্তব উৎপাদন একই থাকে।

 

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়েও মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ভারত এগিয়ে থাকলেও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আবারও সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠে আসে।

 

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভারত আবারও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

 

অন্যদিকে, ক্রয়ক্ষমতার সমতা (PPP) ভিত্তিক হিসাব ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। এই পদ্ধতিতে ২০২৫ সালে ভারতের মাথাপিছু আয় ছিল ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, আর বাংলাদেশের ছিল ১০ হাজার ২৭১ ডলার—যা ভারতের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম।

 

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। তখন ভারতের PPP-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় দাঁড়াতে পারে ১৮ হাজার ৪৮৫ ডলার, আর বাংলাদেশের হতে পারে ১৪ হাজার ৮৫৭ ডলার।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ডলারে মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে কোনো দেশের জীবনমান পুরোপুরি বোঝা যায় না। আয়বৈষম্য, জীবনযাত্রার মান এবং ক্রয়ক্ষমতা—এই সূচকগুলোও সমানভাবে বিবেচনা করা জরুরি।