ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তির ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ চট্টগ্রামে যুবদল কর্মীকে গুলি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার সমন্বয়কের কাছে চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টা হুইলচেয়ারে ট্রাইব্যুনালে এসে দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অসুস্থ স্বামী অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: আটক সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ, পূর্বাভাস আইএমএফ’র ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে কুড়িগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ৬

অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক: প্রধানমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার সংবেদনশীলতা, মানবিকতা ও রাজনৈতিক আপসহীনতা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।

আগামীকাল (২৭ এপ্রিল, সোমবার) শেরে বাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তাকে অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিশিষ্ট নেতা হিসেবে স্মরণ করেন।

 

 

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি, অর্থনীতি ও কৃষকদের স্বার্থে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান স্মরণ করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তিনি বলেন, এই অঞ্চলের রাজনৈতিক উন্নয়নে প্রয়াত নেতার অবদান চিরস্মরণীয়।

 

 

তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। এই প্রস্তাব আজও ঐতিহাসিকদের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটি তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফলন।

 

তিনি আরও বলেন, ফজলুল হক ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত বন্ধু। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তার দূরদর্শিতার মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থকে রাজনৈতিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়।

 

১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফজলুল হক কৃষক ও শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে শিক্ষার প্রসারে তার অবদান সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে সহায়তা করে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরে বাংলার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

 

উল্লেখ্য, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

 

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং ২১ দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রণেতা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার

অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:১৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার সংবেদনশীলতা, মানবিকতা ও রাজনৈতিক আপসহীনতা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।

আগামীকাল (২৭ এপ্রিল, সোমবার) শেরে বাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তাকে অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিশিষ্ট নেতা হিসেবে স্মরণ করেন।

 

 

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি, অর্থনীতি ও কৃষকদের স্বার্থে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান স্মরণ করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তিনি বলেন, এই অঞ্চলের রাজনৈতিক উন্নয়নে প্রয়াত নেতার অবদান চিরস্মরণীয়।

 

 

তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। এই প্রস্তাব আজও ঐতিহাসিকদের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটি তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফলন।

 

তিনি আরও বলেন, ফজলুল হক ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত বন্ধু। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তার দূরদর্শিতার মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থকে রাজনৈতিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়।

 

১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফজলুল হক কৃষক ও শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে শিক্ষার প্রসারে তার অবদান সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে সহায়তা করে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরে বাংলার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

 

উল্লেখ্য, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

 

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং ২১ দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রণেতা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।